শাইখ নূরুল ইসলাম ফারুকী হত্যাকাণ্ডে গোপীবাগ ‘সিক্স মার্ডারের’ ছায়া দেখছে পুলিশ। গোপীবাগ হত্যাকাণ্ডে খুনিদের ব্যবহৃত অস্ত্র, খুনের ধরণ এবং খুনিদের আচরণের সাথে রাজাবাজারে ফারুকী হত্যার অনেকগুলো মিল খুঁজে পেয়েছে গোয়েন্দারা।
বেসরকারি টিভি ‘চ্যানেল আই’তে ইসলামি অনুষ্ঠানের উপস্থাপক ফারুকী হত্যার ঘটনার পর নড়েচড়ে বসেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তবে হত্যা মামলায় বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি তারা।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অতিরিক্তি উপ-কমিশনার আশিকুর রহমান বলেন, গোপীবাগের হত্যার রহস্য ও পরিকল্পনার সঙ্গে রাজাবাজারের হত্যার ঘটনার মিল পাওয়া যাচ্ছে। বাসায় ঢুকে, বাসার লোকজনের সাথে আলাপচারিতা এবং হাত-পা বাঁধার কৌশলও এক। বিষয়টি মাথায় রেখে তদন্ত করা হচ্ছে।
‘তবে তদন্তাধীন বিষয়ে বেশি মন্তব্য করা সমীচীন নয়,’ বলেন তিনি।
গোপীবাগের ৬ খুনের ঘটনায় খুনিরা মুরিদ সেজে বাসায় ঢোকে। একই ঘটনা ঘটেছে ফারুকী হত্যাকাণ্ডে। খুনিরা হজযাত্রী সেজে ফারুকীর পূর্ব রাজাবাজারের বাসায় ঢোকে। গোপীবাগ ছয় খুনের ঘটনায় কথিত মুরিদরা পীর লুৎফর রহমানের সাথে মাগরিবের নামাজ আদায় করে একসাথে মুড়ি মাখিয়ে খায়।
ফারুকী হত্যাকাণ্ডেও খুনিরা ঠান্ডা মাথায় বাসায় ঢুকে ফারুকীর সাথে ড্রয়িং রুমে আলাপ-আলোচনা করে এবং আরো লোক আসার কথা বলে কালক্ষেপণ করে।
বুধবার রাতে রাজাবাজারে খুন হওয়া ফারুকীর ইসলামী আদর্শ আহলে সুন্নি। অন্যদিকে, কথিত পীর লুৎফর রহমান নিজেকে আল্লাহবাবা দাবি করতেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, ‘গোপীবাগের ৬ জনকে গলা কাটার স্থান, ধারালো ছুরি, বাসার সবাইকে বেঁধে রাখা, মুখে স্কচটেপ ও রশি- সবক্ষেত্রেই মিল পাচ্ছি আমরা।’
এ গোয়েন্দা কর্মকর্তা আরো বলেন, ‘ফারুকীর খুনিরা খুনের সময় সাথে কোনো মোবাইল ফোন আনেনি। ডিবি পুলিশের কল ট্র্যাকিং সম্পর্কে ধারণা আছে তাদের। ফলে আমরা ধরে নিচ্ছি খুনিরা পেশাদার।’
২০১৩ সালের ২১ ডিসেম্বর ওয়ারী থানাধীন ৬৪/৬ আরকে মিশন রোডের দ্বিতীয় তলার ভাড়া বাসায় ছেলে ও মুরিদসহ খুন হন কথিত ‘আধ্যাত্মিক পীর’ ইমাম মাহদীর দাবিদার লুৎফর রহমান ফারুক।
তার সাথে খুন হন তার বড় ছেলে সরোয়ার ইসলাম ফারুক, পীরের সেকেন্ড ইন কমান্ড শাহীন, মুরিদ মজিবুর, মঞ্জুরুল আলম ও রাসেল ভূঁইয়া।
গোপীবাগের সিক্স মার্ডারের সাথে সাদৃশ্য থাকলেও ইসলামী সুন্নাহ সংক্রান্ত মতাদর্শ ও ব্যক্তিগত বিরোধের বিষয়টিও ফারুকী হত্যার কারণ হিসেবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও জানান ওই গোয়েন্দা কর্মকর্তা।
তবে ফারুকীর স্বজনদের দাবি, আহলে সুন্নাত ও মাজারবিরোধী মতাদর্শের কারণে তাকে হত্যা করা হয়েছে।
বুধবার দিবাগত রাতে ফারুকী খুন হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মাথায় ছেলে ফয়সাল ফারুকী বাদী হয়ে রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় একটি হত্যা মামলাটি দায়ের করেন। এ মামলায় কাউকে আসামি করা হয়নি।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, বুধবার রাতে সাত-আটজন দুর্বৃত্ত তাদের বাসায় ঢুকে তার বাবাকে গলা কেটে হত্যা করেছে। খুনিরা বাসা থেকে নগদ টাকা ও মালামাল নিয়ে গেছে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




