দেশের উত্তরাঞ্চলের চার জেলায় বন্যা পরিস্থতির অবনতি হয়েছে। শুক্রবার সকালে বিপদসীমার ওপর দিয়ে বইছে বিভিন্ন নদীর পানি। বন্যা ঝুঁকিতে নতুন করে যোগ হয়েছে রাজধানী ঢাকার নাম।
কয়েকদিনের চেয়ে উজানে কমেছে যমুনার পানি। তবে ভাটিতে চাপ বাড়ায় ঢাকার আশেপাশের নদীগুলোর পানি বাড়ছে।
ঢাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বভাস কেন্দ্রের কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন ব্যাপারটিকে সতর্কবার্তা হিসেবেই দেখতে চাইছেন। তার ভাষ্য, ‘ইতিমধ্যে আমিন বাজার থেকে আশুলিয়া, ডেমরা থেকে শনির আখড়াসহ রাজধানীর চারপাশে যত নিম্নাঞ্চল রয়েছে, বেশিরভাগই তলিয়ে গেছে বন্যায়। গত কয়েকদিনের ভারি বৃষ্টি এবং কয়েক সপ্তাহ ধরে ঢাকার চারটি নদীতে পানি বেড়ে যাওয়াতেই এ দশা। অঞ্চলগুলোর রাস্তা, বাড়িঘর, ক্ষেত ও খোলা জায়গা ১০ ফুট পানির নিচে তলিয়ে গেছে।’
পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী রুহুল আমিন বলছেন, ‘বন্যার পানিতে নাসিরাবাদ, আমুলিয়া, মাদারটেক, কদমতলা, পূর্ব বাসাবো, ডেমরা, মাতুয়াইল, শনির আখড়া, আমিন বাজার এবং আরও কয়েকটি অঞ্চলে প্রায় আড়াই লাখ মানুষ এখন পানিবন্দি।’
এদিকে, শুক্রবার দেশের বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে পাঠানো নিউজনেক্সটবিডি ডটকমের প্রতিনিধিদের প্রতিবেদন অনুযায়ী কুড়িগ্রাম, সিরাজগঞ্জ, জামালাপুর ও গাইবান্ধার বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। ২৪ ঘণ্টায় এসব নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে।
বন্যার কবলে পড়ে বাড়ি-ঘর হারিয়ে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন কয়েক লাখ মানুষ। এসব জেলার শতাধিক ইউনিয়ন নতুন করে বন্যাকবলিত হয়েছে। রোপা, আমন ও সবজি ক্ষেতসহ ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অপর্যাপ্ত ত্রাণ তৎপরতার কারণে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ও বন্যাকবলিত মানুষ কষ্টে দিন কাটাচ্ছে।
জামালপুর: পাহাড়ি ঢলে ও যমুনার পানি বেড়ে জামালপুরে নতুন করে ৩৫টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। যমুনার পানি বাহাদুরাবাদ ঘাট পয়েন্টে বিপদসীমার ৬৩ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানির তীব্র স্রোতে মেলান্দহ-মাহমুদ সড়ক ডুবে যাওয়ায় যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে।
সিরাজগঞ্জ: যমুনার পানি সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে বিপদসীমার ২৯ সেন্টিমিটার ওপরে প্রবাহিত হচ্ছে। জেলায় বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে।
বন্যায় জেলার সাতটি উপজেলার ৪৬ ইউনিয়নের কয়েক লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। অনেক স্থানে বিশুদ্ধ খাবার পানির অভাবে ডায়রিয়া, আমাশয়সহ পানিবাহিত নানা রোগ দেখা দিচ্ছে।
সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী বাবুল চন্দ্র শীল জানান, টানা বৃষ্টি ও জোয়ারের কারণে পানি আরো বাড়তে পারে। অভ্যন্তরীণ নদ-নদীর পানিও বাড়তে শুরু করেছে। যেসব এলাকা থেকে পানি নামতে শুরু করেছিল তা আবারো প্লাবিত হয়েছে। চরাঞ্চলসহ বন্যা কবলিত এলাকার উঠতি ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। জেলার অন্তত ১০ হাজার হেক্টর জমির ফসল এখন পানির নিচে।
গাইবান্ধা:
জেলার তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র, করতোয়া ও ঘাঘট নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি অবনতি ঘটেছে। কৃষি জমিসহ নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ঘাঘট নদীর পানি বিপদ সীমার ৫৭ সেন্টিমিটার ও ব্রহ্মপুত্রের পানি বিপদসীমার ১৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া তিস্তা ও করতোয়া নদীর পানি বিপদসীমা ছুঁইছ্ইুঁ করছে।
গাইবান্ধা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক মীর আব্দুর রাজ্জাক জানান, গত দুদিনের বন্যায় জেলার ফুলছড়ি, সাঘাটা, সুন্দরগঞ্জ ও গাইবান্ধা সদরে নুতন করে এক হাজার ১৫৮ হেক্টর আবাদি জমি তলিয়ে গেছে।
কুড়িগ্রাম: কুড়িগ্রামে বন্যা পরিস্থিতি আরো অবনতি হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ধরলা, ব্রহ্মপুত্র তিস্তা, দুধকুমারসহ জেলা ১৬টি নদ-নদীর পানি বাড়তে থাকায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে।
পাউবো জানায়, ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বিপদসীমার ৪০ সে.মি ও ধরলা নদীর পানি ৪৩ সে.মি উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নতুন করে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নতুন তিন ইউনিয়নসহ জেলার ৫৬টি ইউনিয়নের সাড়ে তিনশ গ্রাম পানিবন্দি হয়েছে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




