somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এলোমেলো ভাবনার দিন............

২৩ শে আগস্ট, ২০০৬ ভোর ৫:৩৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সকালটা ভালো ভাবে শুরু হয়নি। আমার অবশ্য আজকাল ভোরই হয় না! তবু অনাবশ্যক এই বাড়তি বোঝাটুকু পৃথিবীর দীর্ঘতম শ্বাসের সাথে বুকে চেপে নেমে এলাম । অফিসে যাব। হাতে টাকা পয়সা কিচ্ছু নেই, হেটে যাতায়াত করছি অফিসে। টেলিফোন বিলে 17,000 সংখ্যাটা দেখার পর থেকে রীতিমত আতংকিত বোধ করছি। লাইন ম্যানের সাথে ঘুষ না দেওয়া নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়েছিল, আমি সাফ জানিয়ে দিয়েছি, দরকার হলে টি. এন. টি. লাইনই রাখবো না। মোবাইল দিয়ে কাজ চালাবো। তবু ঘুষ দেব না। তো বাপের ব্যাটা মুখে জবাব দেয়নি। দিয়েছে বিলে।

আমরা যাতে কিছুতেই সৎ থাকতে না পারি, তার জন্য দুর্ন ীতির সিস্টেমাইজেশন এর কাজটা বেশ ভালোভাবেই হয়েছে। বিলের উপর স্পষ্টই লেখা, " ডিজিটাল টেলিফোনে কল রোধ ব্যবস্থা থাকায় অতিরিক্ত বিলের অভিযোগ নেওয়া হবে না"। আহা ! যেন, ডিজিটাল ফোনে ভাইজান ইঞ্জিনিয়াররা কোন 2 নম্বরী করেন না! মানে কুরআনের মত, ডিজিটাল বিল গুলোকে স্বয়ং আল্লাহ নিষ্পাপ রাখবেন বলে আয়াত টায়াত আছে বোধ হয় কোথাও!!!

আমি নিজেকে নিয়ে বিন্দুমাত্র চিন্তা করি না। কিন্তু আব্বুর যে চেহারা দেখে এসেছি। আই হ্যাভ টু টেক কেয়ার অফ দিস , নাও! মাথায় খুন চেপে আছে। আজকে কাউকে মাফ করবো না।
.........................................................................................

অতীত ইতিহাস ভুলে গিয়ে বুকে পাছায় বিভিন্ন ধরনের মিলন, রতি দেখতে দেখতে আমার চোখ ক্লান্ত। টি.ভি. দেখা , পেপার পড়া বন্ধ করে দিয়েছি। অদ্ভুত একটা ব্যাপার লক্ষ্য করছি কদিন থেকে। একটাও সংবাদ না জেনেও আমি আসলে জানি অনেকটাই। আমার অনুভব দিনকে দিন খালি তীব্রই হচ্ছে।
....................................................................................

রাজনীতিতে নাকি শেষ কথা নেই। "রাজাকার" , নব্য রাজাকার, খুবলে খাওয়া দেশ মাতৃকার শরীর, সব ভুলে যেয়ে মানবতা -আবাদী হতে হবে। গুড, গুড। শুনে মনে হলো কেউ বলছে, "খাম অন বিচ, লেটস মেক লাভ"। তারপর আমাদের আবাদ থেকে বেজন্মার জাত হিটলারী বিশুদ্ধ সবল বাঙালী বানাবে। ওহ নো! ইমার্জিং টাইগার........মাগার আমি এইটা বুঝলাম না........বায়োলজি পড়েও..........মানব আর শুয়োরের মিলনে টাইগার জন্মাবে কি ভাবে? আজিব!!
..............................................................................

সব ভুলে গিয়ে মানবতাবাদী , দেশপ্রেমিক হওয়ার একটা চেষ্টা চালালাম। সামনের মেয়েটা , যে মাত্র 4 বছর বয়সে নৃশং স ধর্ষনের শিকার, তাকেই বললাম,
ঃ সব ভুলে যাও। লোকটা আসলে ঠিক বুঝতে পারেনি যে সে কি করছে। সে ভেবেছিল শিশু ধর্ষনের মধ্যেই তোমার মঙ্গল লুকানো। মানে , এই যে তুমি এত ছোট্ট বয়সেই পেয়ে গেলে আদর, ভালবাসা আর মিলনের স্বাদ.........তোমার অফুরান সম্ভাবনার দুয়ার একটু আগেই খুলে দেওয়ার জন্যই তো!!! বয়সে ছোট হলেও , তোমাকে একজন পরিপূর্ণ নারীর সম্মান সে দেওয়ার চেষ্টা করছিল আসলে............প্লিজ তুমি ভুল বুঝো না। শাস্তি দেওয়া নিয়ে খেপো না। নিজের শান্তির জন্য , উন্নতির জন্য , রতিসুখের জন্য ভুলে যাও। উন্নয়ন বলে কথা , টাইগারের স্বার্থে ভুলে যাও।

এহ! বড় বেয়াদব মেয়ে। একেবারে মুখের মধ্যে হেগে দিয়ে গেল?!!!!! ছিঃ !!!! মানবতা, ভদ্রতা, আইনের শাসন, জলপাই ডিসিপ্লিন কিচ্ছু বোঝে না!
....................................................................................

নতুন যারা মুখোশ পরে খুবলে খায় আমার মাকে। তাদের চেহারা গুলো এত গোলমেলে। কালো আর সাদা কই ? সব দেখি ছাই রঙা।
আর বার উন্নয়নের হাটে জিহবা বেচে এসেছি! তা'পর একে একে গিয়েছে হাত, পা, পেট , পিঠ ,চোখ...এমনকি উরুও। এবার ওদের চোখ পড়েছিলো আমার জরায়ুতে । ওটাও গেল বুঝি।
কেউ প্রশ্ন করলে তাই আজকাল আর ভাবা লাগে না।
ঃ কেমন আছেন?
ঃ একদম বাজার দর!!!!
.......................................................................

বেহুলা -লখিন্দরের শোবার ঘরের পাশেই থাকি। খন্ডিত , নপুংশক দেশপ্রেমিকরা দেয়ালের ইট দেখেই লাফালাফি। বিভৎস , মুক্তিযোদ্ধার রক্তমাখা পাথুরে দেয়ালটা , খুব কাছে থাকি বলেই হয়ত , পুরোটাই টের পাই। চোখ তো খুবলে নিয়েছে শ্বাপদের নখর। হাত, পা কেড়ে নিয়েছে জীবন নামের সিদ্ধান্তহীন প্রপোঞ্চ। শুধু কানটাই উৎসুক জেগে থাকে। আমার দেশ মাকে ওরা প্রতিরাতে ন গ্ন করে। নীল ছবি বানিয়ে বার বার দেখায় উন্নয়নের সামিটে। ( তের কোটি ডলারে গুরুনিতম্বী দারিদ্রের কটি জড়িয়ে নাচা যায় বুঝি ?) ঝগড়া করে ঠিক করে কে কত দেবে খুবলানোর দাম। যুগপৎ কন্ঠ শুনি। খদ্দের আর লালায়িত পিম্প-এর তেলতেলা শীৎকার পিছলে আসে বাইরে। কেমন করে আসে ? কোথাও একটা ফুটো আছে।

আমি নিশ্চিত জানি। কোথাও একটা ফুটো আছে। ঐ ক্ষমতার বলয় আমি বাইরে থেকে ভাঙতে পারবো না। আমার 235 বছরের দাসত্ব। কিন্তু ভেতরে ঢুকতে পারলেই কেল্লা ফতে!!!

আমি ফুটো খুঁজছি। আমি সাপ হবো। তোরা যতবার চিনবি , আমি খোলস বদলে আবার আসবো। ঢুকে পড়বো তোদের এত সুখের বাসরে।

ও মা ! একটু ধৈর্য্য ধরো! আমি সাপ হবো। আমি সূঁচ হবো। তারপর ফাল। ফিদেলের ফাল। একটা ক্যাস্ট্রেশনের উৎসব বড় দরকার তোমার!
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই এপ্রিল, ২০০৮ বিকাল ৫:৪৬
৩৮টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গর্ব (অণু গল্প)

লিখেছেন আবু সিদ, ২৭ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১০:৪০

একটা সরকারি প্রাইমারি স্কুল। ক্লাস শুরু হয়েছে বেশ আগে। স্কুলের মাঠে জন মানুষ নেই। কয়েকটা গাছ, দু'একটা পাখি আর চিরসবুজ ঘাস তাদের নিজের মতো আছে। একান্ত চুপচাপ একজন মানুষ শিক্ষক-রুমে... ...বাকিটুকু পড়ুন

কালকেউটে

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৭ শে এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৯



তুমি ও অতিথি পাখি কী সুন্দর মিলেমিশে একাকার!
আম ও দুধের অপূর্ব সংমিশ্র!
অতিথি পাখির কিছু কিছু বিসর্জন থাকলেও-
তুমি যা কিছু অর্জন করেছো তাতে নেই একরত্তি বিসর্জন!

অর্বাচীনের মতো ভেবেছিলাম... ...বাকিটুকু পড়ুন

দায় নেওয়ার কেউ নেই ।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৭ শে এপ্রিল, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৫


বাংলাদেশের ব্যাংকিং সংকট নিয়ে যত আলোচনা হচ্ছে, যত টকশো হচ্ছে, যত বিশেষজ্ঞ মতামত দিচ্ছেন, তার কিছুই ব্যাংকের সামনে লাইনে দাঁড়ানো মানুষটার কাজে লাগছে না। তিনি জানতে চান একটাই কথা,... ...বাকিটুকু পড়ুন

অন্য ধর্মের মানুষদের মাঝেও 'উত্তম মানুষ' আছেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৭ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৯:৪৭



পবিত্র কোরআনে অসম্ভব সুন্দর একটি আয়াত আছে। মহামহিম খোদাতায়ালা পুরো বিশ্বের মানুষদের দিকে একটি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে পবিত্র কোরআনে জিজ্ঞাসা করেছেন - "আর ঐ ব্যক্তি থেকে কে বেশি উত্তম... ...বাকিটুকু পড়ুন

দুখু মিয়া

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ২৭ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১১:৫৬



গভীর অন্ধকার রাত প্রবল গর্জন করে আকাশ ডাকছে, দুখু মিয়া আর তার মেয়ে ফুলবানু খুপড়ি মতো ছাপরা ঘরের জানালা দিয়ে তাকিয়ে আকাশ দেখেন। অন্ধকারে কিছুই দেখা যায় না তারপরও বাপে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×