somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কি থেকে কি যে হয়ে যায়!

২৮ শে আগস্ট, ২০০৬ সকাল ৭:২৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

এই ব্লগে এসেছিলাম , একটা স্বপ্ন নিয়ে। পাবলিক হেলথের কিছু বিষয় আছে , যে গুলো এত বেশি সেনসিটিভ , যে বাইরের দুনিয়ায় বিষয় গুলো নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করা কখনোই সমভব না। ইচ্ছা ছিলো, পরিচিতি বাড়ার পর, মোটামুটি অনেকেই যখন আমার লেখা পড়তে উৎসাহী হবে, তখন আস্তে আস্তে শুরু করবো সিরিয়াস জিনিস নিয়ে আলোচনা।

প্রথম থেকেই তাই চেষ্টা ছিল ভারচুয়াল সম্পর্ক নির্মানের। যে খানে সবাই স্বাগত। যত বেশি মানুষ পড়বে, জানবে , আখেরে আমার ততই লাভ। যেহেতু আমার উদ্দেশ্যই হলো জন সংযোগের মাধ্যমে হেলথ মেসেজ যথা সম্ভব ছড়িয়ে দেওয়া। ব্যক্তিগত পরিচয় সম্পূর্ন গোপন রেখে , কারো সাথে সম্পর্কিত না হয়ে জাস্ট মাধ্যমটাকে ব্যবহার করা একটা হাতিয়ার হিসাবে। এই পরিকল্পনায় বাধ সাধলো দুটো জিনিস----- প্রাপ্তি নামের একটা অলঙ্ঘন ী য় ভালবাসা---- আর আমার চরমভাবে অবহেলিত এবং স্ফুরনের সুযোগে অপেক্ষমান লেখক সত্ত্বা। প্রেমে পড়লাম ব্লগের। আর জড়িয়ে গেলাম কিছু মানুষের সঙ্গে। বোধ করি , আমার ব্যক্তি জীবনকে ওলট পালট করার জন্য এই একটা ভুলই যথেষ্ট ছিলো।

ভারচুয়াল যে কোন কিছু পুরাপুরোই ভারচুয়াল। ব্যক্তি সম্পর্ক নির্মানে অথবা বিনির্মানে তার কোন ভূমিকা থাকা একেবারেই উচিৎ নয়।

আমি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত তা-ই বিশ্বাস করে এসেছি।

কাউকে কিছু বলার থাকলে সেটা সামনা সামনি বলাটাই সবচেয়ে সঠিক পন্থা । অন্য কোন পথ চিন্তাই করা উচিৎ নয় , যদি কথা গুলো হয় খুব সেনসিটিভ কিছু। বলার জন্য যে মানুষ 15 বছর অপেক্ষা করতে পারে, তার কাছে 15 দিন বা 6 মাস কোন ব্যাপার না।

মানুষ তাই অপেক্ষা করে। নিরবে, সংযোগ বিহীন অপেক্ষা।

কিন্তু যে মানুষ এইভাবে ভাবতে পারে না!!!

যে ব্যক্তিকে টেনে আনে বার বার আন্তর্জালে?

যে বাইরের সম্পর্ক এর উপস্থি তি বা অনুপোস্থিতির বিপদ জনক সংবেদনশীলতাকে না বুঝে আঘাত করে বসে তার সবচেয়ে বড় শুভাকাঙ্খ ীকে!!!

যে পৃথিবীর সব সাহিত্য তাকে নিয়েই লেখা হচ্ছে , এরকম অমূলক সন্দেহ, আর ফ্যান্টাসি তে ভুগে কষ্ট পায় আর অন্যদেরকেও তার মত ভাবতে বাধ্য করে, তাকে কি বলতে পারি?

আবেগ মানুষকে অন্ধ করে। যখন কোন ধরনের কমিউনিকেশন গ্যাপ, সেটা ইচ্ছাকৃতই হোক আর অনিচ্ছাকৃতই হোক, থাকে.............তখন মানুষ কল্পনা করে।

এর পরিণতি সব সময়ই ভয়ংকর!!!
ইংরেজীতে তাই বলা হয়ে থাকে , ডু নট এ্যাসিউম, বিকজ,

assume= ass + u + me

কিন্তু তারপরও মানুষ গুলিয়ে ফেলে ব্লগের মিথ্যা একটা রুপকে বাস্তবের মানুষের সাথে।

ব্লগের দানব রুপ প্রশ্নবিদ্ধ করে বাস্তবের মানবকে।

ভারচুয়াল ফান, রম্য রচনা, গালি, প্রেম, ভালবাসা সবই তখন ব্যক্তিকে , তার সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করতে থাকে। ভয়ংকর ভাবে এবং ভারচুয়াল দুনিয়া নিয়ন্ত্রন করতে থাকে রিয়ালিটিকে।

ব্লগেও দেখলাম, কারো কারো লেখাকে মানুষ মনে করে ধ্রুব সত্য।

আসলেই কি তাই?

আমার কোন লেখা পড়লে মনে হবে আমি ছেলে।
কোনটা পড়লে মনে হবে আমি মেয়ে।

কোন লেখায় আমি প্রতিবাদী শ্রমিক।

কোন লেখায় আমি মমতাময়ী মা।

কোন লেখায় আমি শোষনের শিকার পতিতা বা পথশিশু।

কোথাও প্রত্যাখানকারী , কোথাও প্রত্যাখাতা ।

কোথাও মৃত্যুকামী , কোথাও ভীষন ভাবে জীবন ঘনিষ্ট।

কোথাও 5 বছরের শিশু , কোথাও 50 বছরের বৃদ্ধা।

এটাই তো লেখার গুন। যখন যা লিখবো , মিশে যাব লেখার চরিত্রের সাথে। মনে হবে ওটাই আমি, ভীষন আমি।

কিন্তু কেউ যখন আপনাকে ডেকে বলবে,
প্রথম পোস্ট থেকে পড়ে দেখলাম, আপনি তো ভীষন ভন্ড। আপনার কোন স্থির চরিত্র নাই। আপনার কোন ধারাবাহিকতা নাই। আপনি আজকে এর সাথে তো কালকে ওর সাথে !!!!!

অথবা কোন প্রিয় মুখে শুনতে হবে , তোমার এ কি রুপ দেখছি ! এই তোমাকে তো আমি চিনি না । রাগ ইমন কে ? আর তুমি কে?

কি জবাব দেব? কি করে বোঝাবো , সবটাই লেখালেখি!!! সামনা সামনি যা বলি, তাই বিশ্বাস করো, ব্লগ তো বোগাস...............

সবাই বোঝে না। সবাই মানতেও চায় না।
ভালবাসায় কেউ প্রেম খুঁজে পায়, আর কেউ খুঁজে পায় সাপ।

মাঝখান থেকে মানবীয় "রিয়েল ওয়ালের্ডর" সম্পর্ক গুলো চরম ভাবে ক্ষতি গ্রসথ ...............ভুল বোঝা বুঝি বাড়তে বাড়তে এমন এক জায়গায় এসে পৌঁছে গেছে , যেখানে আমার নিজের বিশ্বাস টলে গেছে। আমি নিজেও জানি না , আসলে সত্যি টা কি!!!!

যেহেতু আমার কোন সুযোগ নেই , কোন সংযোগের অনুমতি নেই , নেই কোন উপায়----- ক্ল্যারিফিকেশনের---- আমি নিজেও প্রচন্ড বিপর্যস্ত।

এই পুরো দুর্ঘটনায় নিজের সম্পৃক্ততা কে এড়াতেও পারছি না।

আমিও তো দায়ী, ( আমি যে বোকার মত সবার কথাই বিশ্বাস করেছি সরল মনে সে কি আমার নিজের দোষ নয়?) আমারও দায় থাকে তাহলে ভুল শোধরানোর।

আমি যতটুকু দায়ী, তার সবটুকু স্ব ীকার করে নিয়ে , আমি কথা রাখলাম।

কথা দিয়েছিলাম, বন্ধু থাকবো।
কথা দিয়েছিলাম, রক্ষা করবো, এমনকি নিজের থেকেও।

কথা দিয়েছিলাম , মুহূর্তেই নিজেকে খুন করবো আমি , যদি দেখি , তোমাকে বাঁচানোর জন্য সেটাই প্রয়োজন।

এই ব্লগ আর ব্লগের বাইরের ঘটনা সূত্রে আমি যা হারিয়েছি, তা ফিরে পাব কিনা কখনো , আমি জানি না। যে ক্ষতি আমার ব্যক্তিগত জীবনে ঘটে গেছে, সেটা পূরন করার ক্ষমতা মনে হয় , এই দুনিয়াতে কারো নেই।

আমাকে অনেক কিছুই বানানো হয়েছে --- ইচ্ছে করে --- ষড়যন্ত্র নয়ত খেলার ছলে --- এই নাটকে আমি কখনো ছিলাম নায়িকা, কখনো ভিলেন, কখনো মৃত সৈনিক----- অন্যান্য নটীরা যে যার নিজের মত করে আমাকে দেখতে চেয়েছে, যে যার নিজের মতো করে আমাকে বর্ননা করেছে।

কে ঠিক আর কে ভুল , সেটা আমি গলা ফাটিয়ে চিৎকার করলেও কিছুই বদলাবে না। কষ্ট বাড়বে শুধু!!!

তবু , এই টুকু সান্তনা আমার থাকবে, আমি কথা রেখেছি। আমার সারা শরীরে কালি মাখিয়ে আমি এই টুকু আলো নিয়ে ফিরে যাচ্ছি।

তোমরা ভালো থাকো, এই কামনাটুকু সব সময়ের জন্য সত্য!!!!

রাগ ইমন
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই মে, ২০০৮ দুপুর ১২:১৮
৪৬টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শৈশব থেকে খেলতে খেলতে শিশুকে ইংরেজি শিক্ষা দিন। ২ বছর বয়স থেকে কীভাবে আপনার শিশুকে খেলাধুলা, আনন্দ এবং দৈনন্দিন জীবনের মাধ্যমে ইংরেজি শেখাবেন?

লিখেছেন rezaul827, ২২ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২৩

অনেক অভিভাবকের ধারণা, ইংরেজিতে সাবলীল হতে হলে ছোটবেলা থেকেই কোচিং, টিউটর বা ব্যয়বহুল স্কুল প্রয়োজন। আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ভিন্ন কথা বলে। আমি আমার সন্তানকে খেলার ছলে, স্বাভাবিক পরিবেশে এবং পরিবারের... ...বাকিটুকু পড়ুন

=আল্লাহ মহান=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ২৩ শে জুন, ২০২৬ রাত ১২:২২



একবার চিন্তায় ডুবাও মন?
ভেবে দেখো আরো একবার
আল্লাহ কত মহান, কত যে তাঁর দয়া;
ভুমিকম্প হলো প্রকট
তবুও বেঁচে আছি এ যাত্রায়
শোকর গুজার করেছো কী তাঁর?

ভাবনায় একবার আনো,
আল্লাহর দেয়া গজব-কত ভয়ঙ্কর
তবুও কী ভয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিষিদ্ধ সংগঠনের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে মাঠে নামছে জামায়াত-এনসিপি।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৩ শে জুন, ২০২৬ রাত ২:১৭


বাংলাদেশে এই প্রথম একটা অভাবনীয় ঘটনার সাক্ষী হচ্ছি আমরা। সরকার টেকানোর জন্য মাঠে নামছে বিরোধী দল! জ্বী, আপনি ঠিকই পড়েছেন। আগামীকাল আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী। ওহ সরি,... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাইরে এসো

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ২৩ শে জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৬

এসো, বৃত্তবদ্ধ খাঁচা ছেড়ে বাইরে এসো,
কল্পনাতীত উদাত্ত আকাশে চোখ পেতে
দুজনে বসি ঘাস গালিচাতে আজ পাশাপাশি ,
দেখ, পুস্প-ফলে বৃক্ষদের একাগ্র তপস্যা
দেখ, পূর্নিমাকে অর্থ দেয় বিপরীত অমাবশ্যা ।

দেখ, সাপ ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

বেসুরো গলায় গান গাওয়ার অপরাধে

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ২৩ শে জুন, ২০২৬ রাত ৯:০৯


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বাংলা বিভাগের অধ্যাপক চৌধুরী মো. তাশরিক-ই-হাবিবকে একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে

যে কোন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় পপুলিস্ট দিক ও ন্যায়বিচারের দিক উভয়ই খেয়াল রাখতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×