আমি আর দাউদ চলে এলাম ঢাকায় বন্ধু শামসুর রহমানের আস্তানায়। সে তখন সোশাল ওয়েলফেয়ারে চাকরী করে। থাকতো পুরানো ঢাকার ২৯ খাজা দেওয়ান লেনের এক মেসে। মেসটা নিরাপদ মনে না হওয়ায় আমরা আমলিগোলায় আরেকটা মেসে চলে গেলাম। আমাদের সবার বিরুদ্ধে ডিপিআর এ কেস দেওয়া হয়েছিল যার অর্থ ছিল বিনা বিচারে আটক এবং জেল। আমি এবং দাউদ আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় একদিন তোহা সাহেবের পুরনো ঢাকার বাসায় সাক্ষাত করলাম। খুব বেশি কথা হলো না।তবে তোহা সাহেবের কমুনিজমের দর্শনের চেয়ে আমাদের কাছে যে পূর্ব বাংলার স্বাধীনতার প্রশ্ন বেশি গুরুত্বপূর্ণ তা বেশ স্পষ্ট ভাবে তুলে ধরা হয়েছিল।
তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে ডিস্প্যারিটি শব্দটা ছিল একটি বহুল উচচারিত শব্দ। বিশেষ করে ইত্তেফাক পত্রিকায় পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে ডিস্প্যারিটি বা বৈষম্যগুলো তুলে ধরা হতো। চাকরী, ব্যবসা, বাণিজ্য, অর্থনীতি প্রভৃতি ক্ষেত্রের বৈষম্য পূর্ব পাকিস্তানের যুব সমাজকে দারুন ভাবে নাড়া দিতো। কিন্তু আমরা এটাকে বৈষম্য বলে মেনে নিতে রাজি ছিলাম না। আমরা এটাকে বলতাম পশ্চিম পাকিস্তানের শাসন ও শোষন , যার একমাত্র সমাধান হলো পূর্ব বাংলার স্বাধীনতা!
[চলবে]

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


