আয়নার সামনে নিজের নগ্ন শরীরটা আরেকবার খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখে সুমনা । সামান্য ভারি হয়েছে তবে তেমন ভয়ংকর কিছু না। মা অবশ্য এটা নিয়েই চেঁচায় । সুমনা ভেজা শরীরটাকে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে নিরীক্ষা করতেই থাকে । কি যেন নিয়মটা ! ডান হাত উপরে তুলে বাম হাত দিয়ে প্রথমে স্পর্শ , তারপর চাপ ......... তিরিশের উপরে বয়স হলেই স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি বেড়ে যায় । দুইজন খালা ক্যানসারে মারা যাওয়ার পর সুমনার ভয় ঢুকেছে মনে।
"নিজের প্রতি অব হেলারও একটা লিমিট আছে , সুমু ।"
মায়ের কুঞ্চিত ভ্রু আর কুকিল চিৎকারে সুমনা প্রমাদ গোনে । আল্লাহ ! আবার কি করলাম!!
" একি অবস্থা? মা কালি ও তোকে দেখলে ভয় পাবে !
মায়ের সামনে একটু মিন মিন করে সুমনা ।
"ফিলডে গেলে অমন একটু হয় মা "।
নাস্তাটাও কি খেতে দেবে না মা! শাড়ির আঁচল গুছাতে গুছাতে সুমনা এক কামড় খেয়েই ছুট লাগায় ।
এই এক জ্বালা ! শাড়ি পরতে খুবই ভালোবাসে সুমনা । বিশ্ববিদ্যালয়ের দিন গুলোতে এমন কি মিছিলেও সুমুর শাড়ি পরে যেতে ইচ্ছে হতো । কিন্তু রাজনীতি তখন বাহুল্য বর্জিত নারীর আদর্শ টাদর্শ নিয়ে বেশ একটা বিপ্লবী ভাবের উপর ছিলো । কেমন করে জানি একটা স্টাইল হয়ে গেলো । বনে বাদাড়ে ঘুরে বেড়াবে , গ্রামে যেতে হবে । মেক আপ বিহীন । এবং জিনসের উপর ফতুয়া আর তাঁতের ওড়না। এই চেহারার বাইরে শাড়ি, চুড়ি পরা , টিপ লাগানো নারীরা ঠিক বিপ্লবের উপযোগী নয় । দেখতে ভালো মিছিলের পুরোভাগে । কিন্তু সিরিয়াসলি কেউ নেবে না। সুমনার সান্তনা ছিলো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। ফতুয়া বাদ দিয়ে এই সব দিন গুলো সুমনা প্রান ভরে সাজতো ।
চিরকাল মারদাঙ্গা , গেছো টাইপ মেয়ে । বাবা খাঁটি সমাজতান্ত্রিক । ফলে কন্যাকে কমরেড বলে ডাকতেন আর মা ভীষন বিদূষী আটপৌরে মহিলা। সুমনার " অনেক সাজা" মানে তাই চোখ ভরে কাজল , ঠোঁটে লিপস্টিক আর বড় জোর কানে ঝুমকো গয়না। কপাল ভালো হলে পিঠ ডোবানো এক ঢাল চুল গুলোকে এলো খোঁপায় শৃঙ্খলিত করে দু'গাছি ফুলের মালা ।
আজকে রাস্তায় আঁতি পাতি করে খুঁজেও ফুল বিক্রেতা পাওয়া গেলো না। অবশ্য এরা বেশির ভাগই সন্ধ্যায় বের হয় । সুমনা পড়ি কি মরি করে অফিসে পৌঁছায় ।
[চলবে]
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ৯:৪৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



