somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জান যদি না থাকে , ধান দিয়া কি কাম?

০৪ ঠা জুন, ২০০৭ দুপুর ১:৩৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

গায়েবের প্রতি ভয় , ভালো অস্ত্র ঃ -

উক্তিটা "লাল সালুর " অনবদ্য চরিত্র । সহজ সরল গ্রামের মেয়ে রহিমার । মজিদের প্রথম স্ত্রী , যাকে মজিদ বিয়ে করেছিলো সংসারের "মুফতি" কাজের মেয়ে হিসেবে । ধান মাড়াবে , চাল করবে, এক হাতে সংসারের যাবতীয় কাজ সামলাবে । সহজ সরল এই মানুষটাকে শোষন করতে মজিদ খুব কার্যকরি একটা পথ নিয়েছিলো । "ভয়" । নাহ, মানুষের ভয় নয়। ঐশি ভয় , আল্লাহর ভয় ।

"ভয় " এর মত ইফেক্টিভ অস্ত্র আর হয় না । এই ভয় একজন মাকে দিয়ে খুন করাতে পারে , হয়ত সে স্বাভাবিক অবস্থায় একটা পিপড়েও মারবে না। ইংরেজি ছবি , "স্টেট অফ ফিয়ার" দেখতে অনুরোধ করবো । দেখবেন , সেই আদি কাল থেকে ব্যবহৃত এই অস্ত্র কিভাবে বুশ কাজে লাগিয়েছে । এই বুঝি সাদ্দামের গুপ্তচররা ঝাপিয়ে পড়বে, কেমিকেল অস্ত্র ব্যবহার করে মেরে ফেলবে মার্কিনীদের ।

আদিকাল থেকে ব্যবহৃত অস্ত্র , ভয়ঃ

মধ্যযুগে যখন বায়োলজিকাল উইপেন বা আনবিক বোমার ভয় ছিলো না , তখন ধর্ম ব্যবহার করেছে "অজানাকে ভয়ের " স্বাভাবিক প্রবৃত্তি । চার্চ , ধর্মের নামে "ডাইনি" বলে আখ্যা দিয়ে মেরে ফেলেছে হাজার হাজার নারী। জাহেলিয়াতের যুগে যেমন মেরে ফেলা হতো নারী শিশুদের । কিংবা এখন মেরে ফেলা হয় , ভ্রনাবস্থায় , একটা পুরুষ শিশুর দুর্বার আকাঙ্খায় ।

সর্বত্রই ভয় । প্রতিটা কাজ আপনি বিশ্লেষন করতে থাকুন , প্রতিটা আবেগকে প্রশ্ন করতে থাকুন - একেবারে শেষ প্রান্তে গিয়ে আপনি একটাই উত্তর পাবেন । ভয় ।

হতে পারে , মরে যাবার ভয় । এবং পরকালে বিশ্বাসী হলে তো আরো সমস্যা । মরে যাওয়ার পরে আবার মৃত্যু যন্ত্রনার ভয় । ধর্ম চলে যাওয়ার ভয়। আল্লাহ রেগে যাবার ভয়। মুহম্মদকে হারানোর ভয়। দারিদ্রকে ভয় । খোদাকে ভয় । ক্ষুধাকে ভয় ।

কিন্তু, ঐ যে বললাম, সবার শেষে , সবের মূলে ওই একটাই কারন। মরে যাওয়ার ভয় ।

এই ভয়কে কাজে লাগিয়েই ধর্ম্প্রান মুসলমানকেও সন্ত্রাসী করে তোলা হয় । ব্রেইন ওয়াশ করা হয়। দলাদলিটাও ওখানেই । ওরা বুঝি আমাকে মেরে ফেলবে । তাই ভয়। রাজাকার আর মুক্তিযোদ্ধার অস্তিত্বের লড়াই । আস্তিক আর নাস্তিকের অস্তিত্বের লড়াই । ধনী আর গরীবের অস্তিত্বের লড়াই। নারী আর পুরুষের অস্তিত্বের লড়াই । আমেরিকার সাথে বাকি পৃথিবীর অস্তিত্বের লড়াই। সকলেই ভাবছে , " অপর পক্ষ আমাকে মেরে ফেলবে"।

তাহলে সমাধান ?

নিজেকে বাঁচাও ।

নাহলে , "ওকে মেরে ফেলো।"

মানুষের কর্মকান্ডের মূলেও ভয় ঃ

মানুষের তথা জীবের "বেঁচে থাকার স্বাভাবিক" তাগিদ তাকে গনতান্ত্রিক করে । মানুষ সব সময় সংখ্যাগরিষ্ঠের পক্ষেই যায় । কারন , এতে মনুষ্য প্রজাতির "টিকে যাওয়ার" সম্ভাবনা বেশি থাকে। বিলুপ্ত হওয়ার ভয় এর বিপরীতে।

কিন্তু , এর বাইরেও , টিকে থাকার তাগিদের পরেও "নীতিবোধ " ও "আদর্শ " নামক এক আজব ঝামেলা দ্বারা মানুষ পরিচালিত হয় । এই চিন্তা ও চেতনার জায়গাটা আছে বলেই মানুষ পশু হতে হতেও হয় না ।

কখনো কখনো নিজে না বেঁচে অন্যকে বাঁচায় । সংখ্যালঘিষ্ঠের পক্ষে রুখে দাঁড়ায় । সব কিছুর উর্ধ্বে , কিছু "কমন গুড" কে পরিমাপক ধরে লড়াই করে ক্ষমতার পক্ষে নয়, বিরুদ্ধে ।

হয়ত সেও শোষিতের টিকে থাকার অধিকার রক্ষায় । নিপীড়িতের সংখ্যা এক হলেও , নীতি বোধের কারনে তার পাশে দাঁড়ায় । এই অদ্ভুত আচরনের কারনেই মানুষ , মানুষ হয়। পশু নয়।

মানুষের কমন সেন্স , ভয় ছাপিয়ে উঠতে পারেঃ

রহিমার মত " অতি সরল বোকা " মানুষটাও একদিন হঠাত করেই বুঝতে পেরেছিলো , জমিলার " জান এর দাম , ধানের চেয়ে অনেক বেশি।" মজিদের ধর্ম তাকে এই শিক্ষা দেয়নি। এই শিক্ষা সে পেয়েছিলো মাতৃত্ববোধ থেকে । আর এই বোধই তাকে প্রতিবাদী করেছিলো , মানব ঈশ্বর ভেক ধারি "মজিদের" বিপক্ষে , যাকে সে এতদিন পেত প্রচন্ড ভয়।

রাজাকারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে , খুন, শোষন, ধর্ষনের সহযোগিদের বিরুদ্ধে - যা পারি তাই নিয়ে - লড়াই করতে তাই খুব বেশি যুক্তি বা প্রমান লাগে না। এইটা কমন সেন্স । সাধারন বোধ থেকেই মানুষ সাহসী হয় । ঘৃনা করতে শেখে । প্রতিবাদী হয় । ৭১ এ যেমন হয়েছিলো । কারন, তারা কিছু অশুভ শক্তিকে ক্ষমতার ব্যবহার করতে দেখে । এরা ধর্ম বিরোধী নয় । এরা রাজাকার বিরোধী । এরা মুহম্মদের বিরোধী নয় । পাকিপন্থী এন্টিবাঙালিদের বিরোধী ।

কোন কথায় চিড়ে ভিজবে না হে, তোমাদের মত এও আমাদের অস্তিত্বের লড়াই । তোমরা আমাদের মেরে ফেলবে , দখল নেবে , আমরা বিনা যুদ্ধে কেন দেব সূচাগ্র মেদিনী?

আফটার অল, জানই যদি না থাকে তো ধর্ম কি ধুয়ে খাবে ?

[ কেউ ব্লগ ছেড়ে যাবেন না , আমরা আর কত পালাবো?]
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ১০:৪৮
২০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে যে-সব সাবেক চ্যাম্পিয়নদের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হবার সম্ভাবনা একেবারেই নাই

লিখেছেন সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই, ২৮ শে জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২২

এ দলটি ১৯৩৪, ১৯৩৮, ১৯৮২ ও ২০০৬ সালে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়। ২০১৪ সালে তারা গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেয়। ২০১৮ ও ২০২২ সালে তারা মূল পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে পারে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আহা! ছবি।

লিখেছেন মোঃ মাইদুল সরকার, ২৮ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:০০


কত দিন হয়ে গেলো....................


এ মাসেতো একটাও পোস্ট দেওয়া হলো না........................


ইদে গ্রামের বাড়ি গিয়ে কিছু ছবি তুলেছিলাম।







আজকের ছবি ব্লগে থাকছে সেই ছবিগুলো।








---------------------------------------------------






























... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্বপ্ন বুনাচ্ছো

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ২৮ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


উম্মুখ চোখে কি দেখো
উম্মাদ মনে কিছু ভাবো
তোমার স্বার্থপরা ছাড়ো
দেখো সোনালি অতীত
কিংবা সম্প্রীতির অভয়
মাঠ-বলো বিচার করবে
বিবেকের কাঠগড়া দাঁড়িয়ে
স্বপ্ন বুনাচ্ছো বেশ ভালই;
ভাল কাজের প্রতিপক্ষ করো
কিন্তু রক্তাক্ত লাশ আর নয়;

২৫-৬-২৬
...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৮ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২৩

মেট্রোরেল পুরো বাংলাদেশের জন্য শান্তির বিষয়।
শুধু মেট্রোরেল না পদ্মাসেতুও। দারুণ এক কাজ হয়েছে। আগে মতিঝিল থেকে মিরপুর বা উত্তরা যেতে খবর হয়ে যেতো। তিন ঘন্টার বেশি সময় লাগতো। এখন মুহুর্তেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

কারণে অকারণে ছবি

লিখেছেন মায়াস্পর্শ, ২৮ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫৬

আমি ছবি তুলি। পরে সেগুলো দেখি। বেশ ভালো লাগে। ফোনের স্টোরেজ এ আজ দেখলাম মোট ছবি ৬৮৯৩ টি। ব্লগে কখনোই ছবি দিয়ে লেখা হয়নি। আজ মাইদুল ভাইয়ের লেখা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×