somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এক হুবু ইঞ্জিনিয়ারের অপমৃত্যু!

০৩ রা মে, ২০১২ দুপুর ১২:২৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ধিরে ধিরে তিনি মৃত্যুর কোলে ঢুলে পড়লেন! চোখের সামনে নিজের সবচেয়ে আপন ব্যক্তিটির মৃত্যু আমি সইতে পারলাম না! গগন বিদারী একটা চিতকার করলাম! জানি সেই চিৎকার কখনই পৌছাবেনা দেশের প্রধান্মন্ত্রীর কানে,আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির কানে!
বূয়েটে ভর্তি হয়েছিলাম! পিতার রুজি খাওয়ার সোভাগ্য আমার কখনো হয়নি-কারণ তিনি অনেক আগেই এমন একটা গগন বিদারী চিৎকার করেই মৃত্যুর কোলে ঢোলে পড়েছিলেন! কি জানি হয়তো তারো এদেশের প্রতি অনেক আক্ষেপ ছিলো! অনেক কস্টে মা আমাকে পড়াশুনা করিয়েছেন! সে ২০০৭ সালের সময় তিনি ৫০০০ টাকা বেতন পেতেন! আমি শহরের কলেজে পড়ি! আমাকে তিনি ২০০০ টাকা দিতেন,আর নিজে সংসার আর ছোটো বোনের জন্য ৩০০০ টাকা রাখতেন! কিন্তু সমস্যা হলো-নিয়তির একটা মারাত্মক বাজে অভ্যাস আছে! এটা যার সাথে খেলা করে তার সাথে আজীবন ই খেলা করে! তবুও বুয়েটে চান্স পেলাম! ভাবলাম এবার হয়তো নিয়তি আমার সাথে একটু বিরতি দিলো! আমার আম্মার তখন চোখ ভরা স্বপ্ন-কখন আমি ইঞ্জিনিয়ার হয়ে বের হবো,কখন আমাদের একটু স্বচ্ছলতা আসবে!

কিন্তু নিয়তি তো নিয়তি ই! যেই বিদ্যাপীট টা ভেবেছিলাম রঙধনুর আলো দিয়ে ভরা সেখানে এসে দেখলাম ঘোর অমানিশার ঘনোঘটা! অনেক স্বপ্ন নিয়ে ভর্তি হলাম-৪ বছর পর ইঞ্জিনিয়ার হবো! আমাদের আর কোনো অভাব থাকবেনা! যেখানে চাকরী করবো সেখানে আম্মাকে নিয়ে একটা বাসা নিবো! ছোট বোন কে ভালো স্কুলে ভর্তি করাবো- ওর ও তো বুয়েটে চান্স পেতে হবে! না সবি গুড়ে-বালি,যেই টার্ম গুলোতে ৬ মাস করে লাগে সেই টার্ম এখন লাগতেছে ১০ মাস! আমি বুঝে উঠে পারিনা-আমরা তো ফীল করি যে এটা আমাদের প্রতিষ্ঠান,এটার তো সুনাম রক্ষা করতে হবে! কিন্তু যাদের ফীল করার তারাই করলোনা! নিজের স্বার্থ অন্বেষণে তার ভুলে গেলো-দেশের ৪৫০০ হাজার মেধা আজ ধ্বংসের পথে! কারোন তারা তো এই স্টেজ টা পার করে এসেছে! তাদের আজ কোটি কোটি টাকা! তাদের তো আর আমার মত অভাবী সংসার নেই যে ছোট বোনটাকে বুয়েটে ভর্তি করতে হবে! টাকা থাকলে ছেলে-মেয়েদের পৃথিবীর যেকোনো ভার্সিটি তে ভর্তি করানো যায়! আজ তাই তারা নিজেদের স্বার্থ অন্বেষনে ব্যস্ত! বুয়েট গোল্লায় যাক-কিন্তু তাদের স্বার্থ রক্ষা পেলেই হলো! কিন্তু সমস্যা হলো আমাদের! বুক ভরা স্বপ্ন নিয়ে যেখানে এসেছি সেখান থেকে বের হতে ই পারছিনা!পারছিনা মায়ের জন্য কিছু করতে,আর মা মানেই তো দেশ!


এভাবে ৫ টা বছর কেটে গেলো –কিন্তু আমার থার্ড ইয়ার ও পার হলোনা! এক রাশ হতাশা নিয়ে যখন আমি হাল ছাড়লাম না ঠিক তখনি নিয়তি আমার সাথে সবচেয়ে নিষ্ঠুর খেলা টা খেললো! হঠাত করেই আম্মা স্ট্রোক করলেন! আর দুই দিনের মাথায় তিনি আমার নিজের চোখের সামনে মৃত্যুর কোলে ঢোলে পড়লেন! যে সময় আমার ইঞ্জিনিয়ার হয়ে মা কে বড় হাস্পাতালে ভর্তি করানোর কথা সেই সময় আমি তার জন্য কিছুই করতে পারলাম না! পৃথিবীর প্রতি এক রাশ অভিমান নিয়ে আমার মা চলে গেলেন,আমার পৃথীবী চলে গেলেন!
আজ আমি নির্বাক! আমার মুখ থেকে একটা কথা কখনই বের হয়না! অনেক চেস্টা করি কথা বলার জন্য,পারিনা! মাঝে মাঝে গোঙানির মত চিৎকার করি! সেই চিৎকার টা অভিশাপ হয়ে যায়! কিন্তু আমি বুঝি যাদের কোটি কোটি টাকা তাদের গায়ে কোনোদিন অভিশাপ লাগেনা!

২৮টি মন্তব্য ২৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকীর ভাবনা

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ০৫ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৫৭


আজ দেশজুড়ে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী পালিত হচ্ছে। ২৪ -এর জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বিভ্ন্নি সময়ে বহু নিরীহ প্রাণ অকালে ঝরেছে। আবু সাঈদ, মুগ্ধ ছাড়াও নাম জানা-অজানা হাজারো ব্যাক্তি তাদের প্রাণ হারিয়েছেন।... ...বাকিটুকু পড়ুন

তেহরানের ছায়া কি এখন ঢাকা সেনানিবাসে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৬ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৩:০১


সোমবার সকালে জলসিঁড়িতে একটা অনুষ্ঠান হলো। ফিতা কাটা, ফুলের তোড়া, বক্তৃতা, ক্যামেরার ফ্ল্যাশ, স্বাভাবিক একটা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যা যা থাকে সবই ছিল। সেনাপ্রধান ওয়াকার উজ জামান নিজে হাজির, পাশে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাতিঘর (Lighthouse)

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ০৬ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:৪৬



বাতিঘর (Lighthouse)

বাতিঘর নিয়ে সেই ছোট্টবেলা থেকেই আমার অনেক কৌতুহল ছিল। কেন ঐ বয়সেই বাতিঘর নিয়ে আমার এতটা আগ্রহ ছিল, তার কারণ আজও খুঁজে পাই না। অথচ আমি নিজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

"‘৫ই আগস্ট সবার জন্য ভালো হয়েছে’- একটি বক্তব্যের রাজনৈতিক পাঠ"

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৬ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:৪৯



"‘৫ই আগস্ট সবার জন্য ভালো হয়েছে’- একটি বক্তব্যের রাজনৈতিক পাঠ"

"৫ই আগস্ট সবার জন্য ভালো হয়েছে। শেখ হাসিনার প্রয়োজন ছিল বিশ্রাম। আওয়ামী লীগের দরকার ছিল শুদ্ধিকরণ। অন্যান্য দলগুলোরও... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে বিষয়ে মজিবর ও হাসিনা এক বিন্দুও ভুল করেনি!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৬ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:২৫


বাংলাদেশের ইতিহাসে মজিবরের শেষ শাসন কাল ও হাসিনার শেষ শাসন কাল দুটি ভিন্ন সময়ে হলেও গুরুত্বপূর্ণ কাঠামোগত মিল বহন করে। নির্বাচনী বৈধতার নিরিখে ১৯৭৩ সালের নির্বাচনের সংগে ২০১৪, ২০১৮... ...বাকিটুকু পড়ুন

×