নতুন কইরা একটা পুরান গল্প শুনলাম মনে হয়। গল্পটা যদি আসলেই গল্প হয় তা'ও আমি মুগ্ধ রীতিমতো!
10 জানুয়ারী, 2007,
একটা প্রাইভেট কারে কয়েকজন মধ্যবয়স্ক লোক ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় ঢুকতে যাইতেছিলো, মধ্যবয়স্ক মানে আরোহীগো সবাইর বয়স নাকি ছিলো 35 থেইকা 40এর ধারে কাছে। এমপি চেকপোস্টে যথারীতি তাগো চেক করনের লেইগা আটকানো হইলো, তারপর হালকা চেক...খুব বেশি কিছু পাওয়া গেলো না, এক বা দুই বোতল বিদেশী মদ আর লাইসেনস করা অস্ত্র নিয়াই ঘুরতাছিলো লোকগুলি। নিয়মমাফিক এই সব জিনিষ নিয়া কোন সিভিলিয়ান ক্যান্টনমেন্টে বিনা অনুমতিতে ঢুকতে পারে না। কিন্তু তারা রাষ্ট্রীয় ভিআইপি'র অতিথী এই পরিচয় দেওনের পর, এমপি সাহেব তাগো ছাইড়াই দিছিলো প্রায়...কিন্তু না, ভাগ্যের পরিহাস! সেইখানে একজন সিনিয়র আর্মি অফিসার দাঁড়ানো ছিলেন...সে দিলো আটকাইয়া। তার কথা এই অবস্থায় ক্যান্টনমেন্টে ঢুকনের চেষ্টা একটা অপরাধ সিভিলিয়ানগো লেইগা!
লোকগুলি ফোন দিলো যুবরাজ সাহেবরে। তিনি বড় মানুষ ডিরেক্ট ফোন আর্মি চীফরে...চাচা আমার বাড়িতে আসনে একটু...মঈন সাহেব নাকি নরম সরম মানুষ একটু ঘাবরাইলেনই! কি করবেন বুইঝা পাইতেছিলেন না...বিএনপি'র যুগ্ম মহাসচিবের আহবানে তার বাড়িতে যাওনটা ঠিক প্রটোকলের ধারায় পরে না...কি করা যাবে। সেই সময়ে নাকি মেজর জেনারেল মাসুদ সাহেবের সিন'এ প্রবেশ। সে আইসা মঈন সাহেবরে কইলো, 'আপনে ক্যান যাইবেন একজন সিভিলিয়ানের ডাকে?' মঈন সাহেবের ফোনটা লইয়া সে গ্যাট মাইরা বসলো...আবার তারেকের ফোন, এইবার মাসুদ সাহেব ধরলেন লগে লগে...মঈন সাহেবরে দেওন যাইবো না যা বলার বলেন টাইপ কথা কাটাকাটি চললো খানিক্ষণ। তারেক তারে দেইখা নিবো এই থ্রেট কইরা ফোন রাখলো...আর লগে লগে ফোন মোখলেছ সাহেবরে...তিনি তৎকালীন প্রেস সেক্রেটারী রাষ্ট্রপতির মন্ত্রণালয়ের...তারে আদেশ দিলেন যুবরাজ...মে. জে. মাসুদের বাধ্যতামূলক ছুটির নির্দেশের ড্রাফট লিখনের। মোখলেছ সব গুছাইয়া লিখতে লাগলেন...সব শেষ কইরা মিলিটারীগো কিছু টেকনিক্যাল জিনিষ জাস্টিফিকেশনের লেইগা গার্ডরেজিমেন্ট চীফরে দেখাইবার লেইগা ডাকলেন তিনি। আর করলেন বোকামীটা!
ঐ সেনা সদস্য মাসুদ সাহেবরে দিলো ফোন। স্যার আপনে তো এখন ছুটিতে! এই খবরের পর মাসুদ সাহেব তার ভায়রার ভাইগ্নার উপর মহা বিলা হইলেন! তিনি দলবল নিয়া রওয়ানা দিলেন বঙ্গভবন অভিমুখে...মোখলেছ সাহেবের সাক্ষাৎ প্রার্থনা করলেন...তারপরেই সেই বিখ্যাত চড় খাওনের ঘটনাটা নাকি ঘটছিলো। ছুটির ঘোষণাপত্র ছিড়নের পর নতুন ড্রাফট লিখা হইলো, 11 তারিখ রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন সাহেব জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দিলেন...জাতিরে নতুন দিগন্ত দেখাইলেন...
মাসুদ সাহেব জিওসি 9'এর চীফ থাকনের লেইগা তার লগে এমনেই প্রতিবেশী হিসাবে সকল পশ্চিমা কুটনীতিকগো লগে খাতির ছিলো আগের থেইকাই...আমার জলপাই বন্ধুরাই এই কথা কয়।
আর আরেকটা কথা শুনলাম...উনি নাকি কর্ণেল তাহেরের সেই সিপাহী বিপ্লবের টাইমে আন্দোলনের পক্ষের লোক ছিলেন...দাদার লগে নাকি সেই সময় থেইকাই পরিচয় ছিলো উনার...
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



