somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নাফ নদীর মতোই প্রবহমান -এক

১৯ শে মে, ২০০৭ দুপুর ২:১৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

যে কোন ভ্রমণ কাহিনী শুরু হয় যাত্রা শুরু থেইকা, কিন্তু আমি ঢাকায় ফিরা যেমনে কাটাইলাম গত ২ দিন, তাতে জ্বরের গল্পই করতে ইচ্ছা করতাছে বেশি। সকালে যখন টেকনাফ থেইকা রওনা দিলাম তখন থেইকাই গা ব্যথা আর হালকা জ্বর...তা'ও ঢাকায় ফিরনের তাগীদে সব ভুইলা মাইক্রোবাসে উঠছিলাম...তারপর পুরা ১২ ঘন্টার জার্নি! মাঝখানে কোন কিছু খাইতে না পারার কষ্ট...সব শেষে যখন ঢাকায় ফিরা মৌসুমরে সাথে কইরা বাসায় আসলাম...তখন কি যে ভালো লাগলো!

যাই হোক, এইবার টেকনাফ যাত্রায় আমার ঠিক আগের বারের চাইতে ভিন্নরম অভিজ্ঞতা হইলো। গতোবার গেছিলাম একটা গবেষণার তথ্য আনতে, আর এইবার সেই তথ্যের ভিত্তিতে তৈরী হওয়া স্ক্রীপ্টের উপর অর্ডারি ডক্যুমেন্টারী ছবি বানাইতে। আর অর্ডারি জিনিষের ক্ষেত্রে যা হয়...স্ক্রীপ্ট হইছিলো তাই! (যদিও স্ক্রীপ্ট আমার নিজের হাতে লেখা, তবু সেইখানে সরকারী আর বেসরকারী জ্ঞানকর্মীগো ছোঁয়া লাইগা এক্কেরে ভার্চ্যুয়াল একটা স্ক্রীপ্টে পরিণত হইছে)। যখন রওনা হই তখন ঢাকায় দেখলাম আকাশ ফকফকা। দুপুরে যখন অফবিটে খাইতে নামি তখনো চৌদ্দগ্রামের আকাশে কোন কালো মেঘের অস্তিত্ব পাই নাই। কিন্তু সীতাকুন্ড থেইকাই পাইলাম গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি আর ঢাকার থেইকা একের পর এক ফোন...সমুদ্রে নাকি ৭ নম্বর মহা বিপদ সংকেত দেওয়া হইছে!

সীতাকুন্ডেই মোটামুটি বৃষ্টির তোড়ে আমাগো গাড়ির গতিসীমা ৩০-এ নামাইয়া আনতে হইলো। কুয়াশার মতো বৃষ্টি! তারমধ্যে ৬টার সময়েই রাইতের অন্ধকার। ড্রাইভারের কুশলতায় তা'ও চলতেছিলাম ভালোই। আর মনে প্রশান্তি...এর আগে সমুদ্রে ৪ নম্বর বিপদসংকেত দেখছি সচক্ষে, এইবার তারচেয়েও আলোড়িত সমুদ্র পামু (এই বাসনার টাইমে বাস্তবে সমুদ্রের মাঝে যারা থাকে তাগো ভাব্না এক্করেই আসে নাই বিধায় ক্ষমাপ্রার্থী)। কালুর ঘাট ব্রিজ পাড় হওনের পর অবশ্য ভয়ও করতে শুরু করলো ঝড়ের তোর দেইখা...কিন্তু তখন আর পিছাইয়া আসনের পথ খোলা নাই।

অন্ধকার আর জলের মাঝ দিয়াই আমরা পথ চলতেছিলাম...আর এরমধ্যে আমাগো প্রোডাকশন ম্যানেজার মোহন ভাইয়ের ফোন হোটেল নে টং থেইকা...কোথায় আছেন!? (আমাগো অবস্থান জাইনা তার তখন কোন লাভ নাই তবুও টেকনাফের ঝড়ের একলা রাইতে নাকি তার ভয় কাটাইতে ঐটা কাজে দিছিলো)। আমরা যখন মরিচ্যাতে তখনই দেখি রাস্তার উপর গাছ পইরা আছে। হ্নীলাতে পৌছানের পরতো রাস্তার পাশের বাঁশঝাড় আর ঝাউগাছের তান্ডবে আমাগো গাড়ির বডির অবস্থা তথৈবচ! এইসময় ব্লগার বন্ধু কৌশিকের উদ্বেগজনিত ফোন! কইলাম সমস্যা নাই...

এরপর মাত্র ২২ কিলোমিটার রাস্তা পাড় হইতে আমাগো লাগলো পুরা দেড় ঘন্টা!
৫টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

নতুন মসজিদের কাজ শুরু করলাম

লিখেছেন প্রামানিক, ২৫ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৬


শহীদুল ইসলাম প্রামানিক

আলহামদুলিল্লাহ্, নতুন মসজিদের কাজ আজ থেকে শুরু হলো। আজ সকাল দশটায় গ্রামের কয়েকজন ধর্মপ্রাণ উদ‍্যোগী মানুষ নিজ উদ‍্যোগেই মাটি কেটে দিয়েছে।

আজ থেকে প্রায় কুড়ি বছর পূর্বে আমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রিয় কন্যা আমার- ৯২

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৫ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০০



প্রিয় কন্যা আমার-
ফাজ্জা তোমার স্কুল বন্ধ। তুমি তোমার নানা বাড়ি গেছো। এবার অনেকদিন থাকবে নানা বাড়ি। নার্সারি থেকে কেজি ওয়ানে উঠলে। বেতন বেড়েছে। খরচ বেড়েছে। আমি নিশ্চিত... ...বাকিটুকু পড়ুন

হাসাহাসি থেকে সাফল্যের ইতিহাস: বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১

লিখেছেন মাথা পাগলা, ২৫ শে জুন, ২০২৬ রাত ৯:৫২



এক সময় অনেক সমালোচনার মুখে ছিল বাংলাদেশ স্যাটেলাইট-১ (সাবেক বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১)। তখন অনেকেই বলেছিল, এত টাকা খরচ করে এসব করে কোনো লাভ হবে না। কিন্তু আজ ধীরে ধীরে সেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

গোসাইপুর ১৯৭১

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ২৬ শে জুন, ২০২৬ ভোর ৪:৫০



জুন মাসের পড়ন্ত বিকেল, ভ্যাপসা গরমে আগন্তুক ঘেমে একাকার। গায়ে ময়লা হাফ শার্ট আর নীল ফুলপেন্ট। শার্টের রঙ কোনো এক সময় হয়তো সাদা ছিলো, ময়লা হতে হতে এখন প্রায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ মোহমায়া

লিখেছেন ইসিয়াক, ২৬ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৪৬



খরস্রোতা নদীও একসময়
ক্ষীণ নালায় পরিণত হয়
কালের পরিক্রমায়,সময়ের চাহিদায় ।
তবু আশা বেঁধে রাখি।

ফিরবে সব আগের মত
চলবে জীবন অবিরত
কোন একদিন।


হারানো মুহুর্তরা কি সত্যিই  ফিরে আসে?
শত ব্যস্ততায়- মায়ের মত... ...বাকিটুকু পড়ুন

×