যে কোন ভ্রমণ কাহিনী শুরু হয় যাত্রা শুরু থেইকা, কিন্তু আমি ঢাকায় ফিরা যেমনে কাটাইলাম গত ২ দিন, তাতে জ্বরের গল্পই করতে ইচ্ছা করতাছে বেশি। সকালে যখন টেকনাফ থেইকা রওনা দিলাম তখন থেইকাই গা ব্যথা আর হালকা জ্বর...তা'ও ঢাকায় ফিরনের তাগীদে সব ভুইলা মাইক্রোবাসে উঠছিলাম...তারপর পুরা ১২ ঘন্টার জার্নি! মাঝখানে কোন কিছু খাইতে না পারার কষ্ট...সব শেষে যখন ঢাকায় ফিরা মৌসুমরে সাথে কইরা বাসায় আসলাম...তখন কি যে ভালো লাগলো!
যাই হোক, এইবার টেকনাফ যাত্রায় আমার ঠিক আগের বারের চাইতে ভিন্নরম অভিজ্ঞতা হইলো। গতোবার গেছিলাম একটা গবেষণার তথ্য আনতে, আর এইবার সেই তথ্যের ভিত্তিতে তৈরী হওয়া স্ক্রীপ্টের উপর অর্ডারি ডক্যুমেন্টারী ছবি বানাইতে। আর অর্ডারি জিনিষের ক্ষেত্রে যা হয়...স্ক্রীপ্ট হইছিলো তাই! (যদিও স্ক্রীপ্ট আমার নিজের হাতে লেখা, তবু সেইখানে সরকারী আর বেসরকারী জ্ঞানকর্মীগো ছোঁয়া লাইগা এক্কেরে ভার্চ্যুয়াল একটা স্ক্রীপ্টে পরিণত হইছে)। যখন রওনা হই তখন ঢাকায় দেখলাম আকাশ ফকফকা। দুপুরে যখন অফবিটে খাইতে নামি তখনো চৌদ্দগ্রামের আকাশে কোন কালো মেঘের অস্তিত্ব পাই নাই। কিন্তু সীতাকুন্ড থেইকাই পাইলাম গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি আর ঢাকার থেইকা একের পর এক ফোন...সমুদ্রে নাকি ৭ নম্বর মহা বিপদ সংকেত দেওয়া হইছে!
সীতাকুন্ডেই মোটামুটি বৃষ্টির তোড়ে আমাগো গাড়ির গতিসীমা ৩০-এ নামাইয়া আনতে হইলো। কুয়াশার মতো বৃষ্টি! তারমধ্যে ৬টার সময়েই রাইতের অন্ধকার। ড্রাইভারের কুশলতায় তা'ও চলতেছিলাম ভালোই। আর মনে প্রশান্তি...এর আগে সমুদ্রে ৪ নম্বর বিপদসংকেত দেখছি সচক্ষে, এইবার তারচেয়েও আলোড়িত সমুদ্র পামু (এই বাসনার টাইমে বাস্তবে সমুদ্রের মাঝে যারা থাকে তাগো ভাব্না এক্করেই আসে নাই বিধায় ক্ষমাপ্রার্থী)। কালুর ঘাট ব্রিজ পাড় হওনের পর অবশ্য ভয়ও করতে শুরু করলো ঝড়ের তোর দেইখা...কিন্তু তখন আর পিছাইয়া আসনের পথ খোলা নাই।
অন্ধকার আর জলের মাঝ দিয়াই আমরা পথ চলতেছিলাম...আর এরমধ্যে আমাগো প্রোডাকশন ম্যানেজার মোহন ভাইয়ের ফোন হোটেল নে টং থেইকা...কোথায় আছেন!? (আমাগো অবস্থান জাইনা তার তখন কোন লাভ নাই তবুও টেকনাফের ঝড়ের একলা রাইতে নাকি তার ভয় কাটাইতে ঐটা কাজে দিছিলো)। আমরা যখন মরিচ্যাতে তখনই দেখি রাস্তার উপর গাছ পইরা আছে। হ্নীলাতে পৌছানের পরতো রাস্তার পাশের বাঁশঝাড় আর ঝাউগাছের তান্ডবে আমাগো গাড়ির বডির অবস্থা তথৈবচ! এইসময় ব্লগার বন্ধু কৌশিকের উদ্বেগজনিত ফোন! কইলাম সমস্যা নাই...
এরপর মাত্র ২২ কিলোমিটার রাস্তা পাড় হইতে আমাগো লাগলো পুরা দেড় ঘন্টা!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




