১৬ তারিখ সকালেই ইমরান আবার গেলো কক্সবাজার...আর আমি ক্যামেরাম্যান হুমায়ুন ভাইরে নিয়া ভেলুচীপালঙের সেই অসহায় ক্যাম্পে...আগের রাতেই মোহন ভাইরে বইলা রাখছিলাম আলমগীর মাস্টাররে ডাইকা আনতে, অতএব সেও ছিলো। নে টং হোটেল থেইকা খুব বেশী হইলে ৫ মিনিটের গাড়ির ড্রাইভ...আর তাই আমরা ৭ মিনিটে সেইখানে পৌছাইলাম...ডিসির একটা মৌখিক পার্মিশনের উপর এইখানে শ্যুটিং সম্ভব...এই ক্যাম্পটার অস্তিত্ব যেহেতু কাগজে কলমে নাই, তাই অনুমোদনটাও কাগজে কলমে হয় না নাকি। বাংলাদেশ সরকারের এই একটা অ্যাপ্রোচ মনে ধরছে আমার...রোহিঙ্গা বিষয়ে অনেক বাহ্যিক রিজিডিটি দেখি, মানুষের ক্ষোভ বিক্ষোভ দেখি, অনধিকার প্রবেশ আর সরকারী জমি দখলের নমূনা দেখি...কিন্তু সরকার এই ক্যাম্পে থাকা লোকজনের দেখভালের দায়িত্বও দিয়া রাখছে উপজেলা নির্বাহী অফিসাররে! তিনি রীতিমতো নিয়মিত-স্বীকৃত ক্যাম্প দুইটার মতো এইখানেও বেশ নিয়ম-কানুন চালু করছেন...
আমাগো ডক্যুমেন্টারীর উপজীব্য মূলতঃ হইলো তরুণ আর তরুণীরা...ক্যাম্পের বদ্ধ জীবনে তরুন-তরুণীগো অনিয়ন্ত্রিত (?) যৌনাচারের ক্ষেত্রে যাতে সেইফটি মেজার ব্যবহৃত হয়...মানে ছেলেরা যাতে কনডম পরে, এই হইলো ইউএনএফপিএ'র চাওয়া-পাওয়া...এই কনডম সচেতনতাবৃদ্ধির হুদাই প্রজেক্টের ব্যয় এইখানে কওনটা ঠিক না হইলেও একটা অ্যাপ্রোক্সিমেট অংক লিখতে পারি...নট লেস দ্যান ১০ লাখ!
অথচ ভেলুচীপালঙের এই নিউ রিফ্যুজি ক্যাম্পের তরুণরা যেহেতু উন্মুক্ত, তারা যেহেতু বদ্ধ জীবন যাপনে নাই, তাই তারা সকাল হইলেই বাইর হয় কাজের সন্ধানে। তাদের এই মুহুর্তের সবচেয়ে প্রচলিত পেশা পাহাড়ি জঙ্গল থেইকা লাকড়ি সংগ্রহ কইরা টেকনাফ বাজারে বিক্রি...এইছাড়া দিনমজুরী টাইপ যেকোন কাজেই তারা আছে। তারা নয়াপারা কিম্বা কুতুপালঙের অনেক তরুণের হাহাকারটা টের পায় না...যদিও ঐ সব ক্যাম্পে খাওনের চাইল-ডাইল আসে এনজিও সহায়তায়...এই ক্যাম্পে কিছু অ-অ-অনিয়মিত জামায়াতি এনজিও'র অর্থ সাহায্য আর নাসারা ফরাসী এনজিও এমএসএফ'এর প্যারাসিটামল, অ্যান্টিবায়োটিক আর চাহিদা অনুযায়ী কনডম সহায়তা ছাড়া কোন প্রাপ্তি নাই!
ঐখানে ক্যামেরা ওপেনের পর একদল মধ্যবয়স্ক বৃদ্ধ টিপিক্যাল রোহিঙ্গা এ্যাক্সেন্টে তাগো কাজকর্মহীনতা বা দুষ্প্রাপ্যতা আর অভাব নিয়া লেকচার ঝাড়তে শুরু করলো কোন প্রশ্নের আগেই। এইটা হইবো আমি যেন জানতাম! দারিদ্র, খাদ্যাভাব ছাড়াতো আসলে সমস্যা থাকে না মানুষের! একটু আধুনিক হইলে লাগে শিক্ষা...আর রোহিঙ্গাগো বিষয়ে আমি আগেই বলছিলাম, এই জাতির কমনসেন্স আর শিখবার ক্ষমতা দেইখা আমি নিজে রীতিমতো মুগ্ধ...
আমি যখনই কনডম বিষয়ে প্রশ্ন করলাম এইসব প্রায়-বৃদ্ধগো, তারা এক অদ্ভুত উত্তর করলো, তারা যেহেতু এখন আর তেমন সক্ষম না, তাই তাগো ঐ বিষয়ে তেমন আগ্রহ নাই! তয় রিজিকের মালিক আল্লাহ! জিগাইলাম নিজের পোলারে ব্যবহার করতে কন? তারা অবলীলায় কয় আমরা ক্যান পোলাগো কমু!
গতোবার মনে হইছিলো ধর্মভিত্তিকতা ব্যাপারটা নিয়া রোহিঙ্গা রিফ্যুজিগো আগ্রহ কমতেছে...কিন্তু এখন মনে হইলো আবার মুসলিম এইড আসে এলাকায়, মানে এই আন অথারাইজড ক্যাম্পে...এইবার তারা এইচআইভি নিয়া কথা কইতে খুব বেশি আগ্রহী না, তাগো ধর্মভিত্তিক যুক্তি করার ধরনটা আগের বার আমারে খুব বেশি শেয়ার করে নাই তারা!
আর তাই সিদ্ধান্ত নিলাম মসজিদের ইমাম কাম মক্তব শিক্ষকের সাক্ষাতকার নিমু...তিনি রীতিমতো বিনোদন দিলেন আমাগো পুরা দলরে...

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




