somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কুরিয়ার সার্ভিস!!!

০৭ ই নভেম্বর, ২০১৫ রাত ৯:০৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



খাবার সামনে নিয়ে টেবিলের এক
পাশে বেশ দূরুত্ব বজায় রেখে নাঈম
আর জ্যোতি বসে আছে। আজ ওদের
প্রথম দেখা!
ক্ষনিকের নীরবতা ভেঙ্গে
জ্যোতি বলে,
__কি ব্যাপার,এত দূরে বসে কেন?
__আপনিই তো বলেছেন প্রথম দেখায়
কমপক্ষে একহাত দূরে থাকতে।
__তুমি আপনি করে বলছো কেন,আজব!
__আসলে হঠাৎ কোন মেয়েকে তুমি
বলতে কেমন যেন লাগে!
__আমি হঠাৎ কোন মেয়ে!!!! তা
নিয়মিত মেয়ে কে আপনার শুনি?
__ যা ভাবছেন তা না।মানে
সরাসরি মেয়েদের সাথে কথা
বলাতে আমার খুব জড়তা তো তাই।
__থাক,ওতো গুড বয় হতে হবে না।
মোবাইলে যে রুপ দেখিয়েছিলে
সেইটাই দেখাও।
__আমার রুপ সব সময় একটাই কিন্তু ছবির
সাথে আপনার বর্তমান রুপ টা
মিলাতে কষ্ট হচ্ছে!!!
__মানে,কি বলতে চাচ্ছো তুমি?
__না মানে,ছবিতে আপনাকে এক
রকম দেখেছিলাম বাস্তবে বেশ
ভিন্ন।
__বুঝেছি,সরাসরি দেখে আমাকে
তোমার পচ্ছন্দ হয় নি,তাই এত
বাহানা।
__না না,মোটেও এরকম না..... কথা
টা শেষ করতে দেও....
ওকে থামিয়ে দিয়ে জ্যোতি
বলে,
__থাক করুনা দেখাতে হবে না।
নুডুলস আনতে বলছিলা,এই তোমার
নুডুলস। খেয়ে নিও।আমি আসি......
,
হনহন করতে করতে জ্যোতি তার
আলো নিভিয়ে রেস্টুরেন্ট থেকে
বের হয়ে যায়।
কি বলতে চাইলো আর কি বললো এই
ভাবতেই নাঈমের মনে পড়ে,
ওর পকেটে তো মাত্র ১০০টাকা
আছে,রেস্টুরেন্ট এর বিল দিবে কে!
দৌড়ে জ্যোতিকে গিয়ে বলে,
__"বাবু প্লিজ,আমার পুরা কথাটা
শুনো।তুমি যা ভাবছো আসলে আমি
তা বলতে চাই নি।আর কোথায়
যাচ্ছো তুমি?
__জাহান্নামে।
__রেস্টুরেন্টে এর বিল দিবে কে?
__কেন,তুমি দেও... হুহ।
__তুমিই তো বলেছিলে প্রথম দেখার
দিন আমাকে খাওয়াবে।তাই গাড়ি
ভাড়া ছাড়া বাড়তি টাকা তো
আমি নিয়ে আসি নি।
__ওইটাই বিল দিয়ে হেটে বাড়ি
যাও!
__কি বলছো তুমি,এই ৩০কিঃমিঃ পথ
হেটে যাওয়া সম্ভব?!
খানিক ভেবে বিরক্ত হয়ে বিলটা
দিয়েই জ্যোতি অটোতে করে চলে
যায়।পকেটে টাকা না থাকায়
নাঈম শুধু হা করে ওর চলে যাওয়াই
দেখে....।
,
ঐ ঘটনার পর থেকে আজ তিনদিন হলো
জ্যোতির ফোন বন্ধ,ফেবুতে তো
১৫দিন হলো ঢুকেই না ও।মনটা ছটফট
করছে ওর সাথে কথার বলার জন্যে
নাঈমের।
জ্যোতি মাঝেমাঝে ওর আন্টির
নাম্বার থেকে ফোন করতো।ডায়াল
নাম্বার খুজে সেইটা বের করে
সাহস করে
ফোন দেয়
__হ্যালো, জ্যোতি ম্যাডাম বলছেন?
আমি সুন্দরবন কুরিয়ার থেকে
বলছিলাম।
__না,এটা তো জ্যোতির নাম্বার
না।
__এখানে দুইটা নাম্বার ছিলো,
একটা বন্ধ থাকায় এটাতে ফোন
দিলাম।উনার একটা পার্টস
আসছে,নিয়ে যেতে বলবেন।
বলেই ফোন টা রেখে দেয় নাঈম।এটুকু
বলতে ওর আত্না কাঁপছে, মনে হচ্ছে
কেও হাতুরী দিয়ে পিটাচ্ছে!!!
বেশি বকবক করলে যদি ফেঁসে যায়!
,
জ্যোতির আন্টি ভাবে জ্যোতি
কে বলবে নাকি নিজেই জ্যোতি
সেজে যাবে। আবার ভাবে
নাহ,সত্যিই কোন দরকারী পার্টস
আসতেও পারে।ওকেই
বলি,নিয়ে আসলেই জানা যাবে।
,
আন্টি, নিজের নাম্বার অন্যদের
কাছে দেওয়ার জন্যে প্রথমে বকা
দিয়ে পরে জ্যোতি কে পার্টসের
কথা
বলতেই ও ভাবতে থাকে কে পার্টস
পাঠাবে? আন্টির নাম্বারই বা কে
জানবে!
,
দ্বিধাদ্বন্দ্ব ভেঙ্গে জ্যোতি
পরদিন কুরিয়ার এর দোকানে যায়।
অন্যদিকে নাঈম কুরিয়ারের
লোকটা কে আগেই একটা লাল
টুকটুকে গোলাপ এনে দিয়ে রাখে
যেটা জ্যোতি আসামাত্র ওকে
দিবে।
,
জ্যোতি এসে পার্টসের কথা বলতেই
গোলাপ এগিয়ে দেয় লোকটা!
__আপনি আমাকে গোলাপ দিচ্ছেন
কেন?আমার পার্টস কই?
__এটাই আপনার পার্টস।
অবাক হয়ে জ্যোতি গোলাপ টা
হাতে নিয়ে দেখে ছোট্ট একটা
কাগজ ভিতরে। খুলে দেখে তাতে
লেখা....
__"কদম কে পূর্নভাবে ফুটতে দেওয়ার
আগেই যেমন তার সৌন্দর্য বিচার
করা ঠিক না তেমনি কারো কথা
সম্পুর্ন শোনার আগেই উল্টাপাল্টা
কিছু ভাবা ঠিক না।
তোমার রুপটা বাস্তবে ছবির
থেকেও বেশি মিষ্টি,একটু বেশিই
রুপবতী।
রাস্তার বিপরীতে ছেলেটার
কানটা
এবার ছাড়তে বলবে না??"
,
দরজা সোজা রাস্তার বিপরীতে
চোখ রাখতেই দেখে নাঈম কান ধরে
দাড়িয়ে আছে।জ্যোতি হাসি-
কান্নার রিমিক্সে রাস্তা পাড়
হয়ে নাঈমকে টেনে একটু আড়ালে
নিয়ে যায়।
পেটের মধ্যে দুইটা ঘুষি মেরে
জ্যোতি বলে
__সেদিন একবারে পুরা কথাটা
বললে কি হতো?
__বললে কি আজ আবার এই চাদমাখা
মুখটা দেখতে পেতাম?
__হয়েছে আর পাম দিতে হবে না।
চলো কোথাও বসি নাকি আজও
টাকা আনো নি?!
ম্যানিব্যাগ টা জ্যোতির হাতে
দিয়ে নাঈম বলে,
__হুকুম করুন মহারানী,কি খাবেন?
__জি না, আমার দশ-বিশ টাকা হলেই
চলবে,বাদাম খাবো আর গল্প করবো।
__ ঠিক আছে।
তবে আমাকে কিন্তু টাকা ছাড়া
একটা জিনিসের পরশ দিতে হবে!!
,
ইঙ্গিত বুঝতে পেরে জ্যোতি বলে,
__ফাজিল কোথাকার। কিচ্ছু পাবে
না...হাসতে হাসতে হেটে চলে
দুজন।
_____________________
থাক,নাই পেলো কিছু।নাঈম পেলে
আমার আবার হিংসায় গা জ্বলতো!!
তবে একটা কথা জানুন,"মেয়েদের
রাগিয়ে যদি তা ভাংগানোর
কৌশল জানা থাকে তাহলেই
রাগাবেন নচেৎ নিশ্চিত বিপদে
পড়বেন.....!!!
,
লেখাঃ http://www.facebook.com/venus.vasper
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাংলাদেশে ইসলামপন্থা বনাম গণতন্ত্র: মানুষ যখন নাগরিক থেকে অনুসারী হয়ে উঠছে!

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৪৩


কিছুদিন আগেও আমরা বলতাম, "দয়া করে ধর্মকে রাজনীতির সঙ্গে মেশাবেন না"। সরল এই কথাটির মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বোধ ছিল - ধর্মীয় বিশ্বাস আর রাজনীতি এক জিনিস নয়। গত দুই... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগার হিসেবে আপনার স্ট্র্যাটেজি কি?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৬



গত আড়াই দিনে, অর্থাৎ, ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৯:১০-তে ব্লগার ওয়াদুদ সোহেল মোল্লা থেকে শুরু, এরপর থেকে আজ ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় বিকাল ৪টা ৪২... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতার কোনো প্রয়োজন নেই! আপনি কি মনে করেন?

লিখেছেন কাজী আবু ইউসুফ (রিফাত), ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৪



বর্তমান প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে শিক্ষাগত যোগ্যতাবিহীন বা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাবঞ্চিত কোনো ব্যক্তির পক্ষে এককভাবে স্থানীয় সরকারকে প্রযুক্তিনির্ভর এবং 'স্মার্ট বাংলাদেশ' বা 'ডিজিটাল বাংলাদেশ'-এর লক্ষ্য অনুযায়ী আধুনিকায়নের দিকে এগিয়ে নেওয়া অত্যন্ত কঠিন ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

"টোকাই থেকে হিরো"

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:১৬



টোকাই থেকে হিরো! বাংলা ছবির  অশ্লীল যুগে মুক্তি পাওয়া এক ঢাকাইয়া চলচ্চিত্র। ছবিতে প্রেক্ষাপটে অনেকটা এইরকম - বস্তিতে বেড়ে উঠা; মানুষের লাথি- উষ্টা খেয়ে বড় হওয়া এক টোকাই (ছবির... ...বাকিটুকু পড়ুন

মুখরিত জীবনের চলার পথে, ব্লগের মুখরিত দিন

লিখেছেন মেহবুবা, ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:১৪


ব্লগ স্কুল, মজারু
ছোটন চলে স্কুলেতে বই শ্লেট হাতে ,
বদরুল ভাই কাঁদছে ভীষন যাবে সাথে সাথে,
চান্কু হল লক্ষ্মীছাড়া পান্কু হয়ে ঘোরে ,
চিটি যাবে সবার আগে উঠল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×