somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সত্যিই,নারীর গতিবিধি একমাত্র বিধাতাই বুঝে.....

০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৬ সকাল ৮:৫৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

undefined
মামাশ্বশুরের শ্বশুড়বাড়ীর সবাই
আমেরিকা থাকে।কিছুদিন হলো
দেশে এসেছেন। উনাদের সাথে
আমাকে আর অর্নি কে পরিচয় করিয়ে
দিবেন বলে আগামী পড়শু দাওয়াত
করেছেন মামাশ্বশুড় তাদের বাড়িতে।

আমি সাধারন মানুষ। অর্নির মত এত
স্মার্ট বা পরিপাটি না।পিচ্চি
ছেলেটা,অন্তুও ওর মায়ের মতই ওয়েল
ম্যানারড হয়েছে।আমার সাথে খুব কমই
মেলামেশা ছেলের সাথে,কি
জানি ক্ষ্যাতই ভাবে কি না আমায়!

শার্ট প্যান্ট পড়ে বসে আছি ওদের বের
হওয়ার অপেক্ষায়।হঠাৎ ড্রয়িং রুমে
এসে অর্নি আমাকে দেখেই অবাক হয়ে
বলে,"কী ব্যাপার,তোমার কোর্ট টাই
কোথায়?"একটু হেসে
বললাম,"এরকমভাবেই কমফোর্টফিল
করছি।"একরকম হুংকার দিয়েই ও
বললো,"তোমার কমফোর্ট ফিলে তো
আমার যায় আসে না।আমার একটা
প্রেস্টিজ আছে।যা বলছি তাই করো।"

বাইরের আকাশে এই রোদ,এই ছায়াময়
বাতাসের খেলা হচ্ছে।কার জোর
বেশি তাই দেখার পালা।কিন্তু
অর্নির কাছে আমার জোর কোথায়?
আমি তো অনেকটা হেরেই যাই সবসময়।
ওর নিজস্ব জগতে ও ব্যস্ত যেখানে আমি
বড্ড বেমানান।মাঝেমাঝে আমার
উপস্থিতি বড়ং ওর জন্যে বিব্রতকর হয়।
তবুও কিভাবে যেন পাহাড়ের গা
ঘেঁষে ঝর্ণার মত অবিরাম বয়ে চলছে
আমাদের কথিত সংসার জীবন।
সত্যই কি গা ঘেঁষে চলছে?

শেষ বৃষ্টির রাতটাতে যখন এপাশ ওপাশ
করতে করতে ওর ফুলের পাপড়ি
ছাড়িয়ে
সুভাস নিতে চাইলাম,তখন অর্নি
ঝ্যাংটা দিয়ে হাতটা সরিয়ে
দিলো আমার।বললো,"ছ'মাস,ন'মাস পরপর
কি দরকার এসবের।মনের আকাশে যদি
মেঘ না থাকে দেহের মিলনে বৃষ্টি
ঝড়ালেই কি সব শীতল হয়ে যাবে?"
আমি উত্তর দিতে পারি নি।

আসলেই কি আমি অর্নিকে ঠকাচ্ছি?
কেন,আমারো তো ওর আদর মাখা ডাক
শুনতে মন চায়,ইচ্ছে করে ওর হাতের
চিংড়ী ভুনা খেতে,বৃষ্টি সন্ধ্যায় ওর
কবিতা আবৃত্তি শুনতে।কখনো তো
দেখলাম না এসব করতে।শুধুই কি আমার
দোষ?আমাকে ও ঠকাচ্ছে না? ওর
প্রস্টিজটাই ওর কাছে বড় হলো!

কোর্ট টাই পড়ে বের হলাম বউ ছেলের
সাথে দাওয়াত খেতে।উনাদের
সাথে বেশ আলাপ হলো।
তার দু'দিন পর।অর্নি
বলেছিলো,শিল্পকলায় আজ নাকি
কবিতা আবৃত্তি অনুষ্ঠান হবে।ও নিজেও
একটা কবিতা আবৃত্তি করবে।
এসব প্রোগ্রামেই ওর দিনের
বেশিরভাগ সময় যায়। ওকে ছাড়া যে
এগুলি চলেও না তাও জানি।দেখতে
রুপসী, সাবলীল বাচনভঙ্গি, একেবারে
সব দিক দিয়ে পারফেক্ট।

অফিস একটু আগে ছুটি দেওয়ায় সন্ধ্যায়
গেলাম শিল্পকলায়। পিছনদিক দিয়ে
দোতলার গ্যালারী তে উঠলাম যাতে
ওর চোখে না পড়ি।ওমা,গিয়ে দেখি
অন্তু বসে চিপস খাচ্ছে সেখানে!
আমাকে দেখেই "বাবা" বলে জড়িয়ে
ধরলো।
আহ!অনেকদিন পর ওর ডাকটা শুনে মন টা
ভরে উঠলো।বিষন্ন হৃদয়টা শীতল হলো ওর
এমন পরশ পেয়ে।
__কি ব্যাপার,তুমি এখানে?
__একটু পর আম্মু পার্ফম করবে,তাই স্টেজে
গেছে।এতক্ষন আম্মুর সাথেই ছিলাম।
__ও...
__জানো আব্বু,আম্মু না একটু আগেই
বলছিলো,আজ তোর আব্বু এলে ভালো
হতো।
বেশ অবাক হয়ে বললাম
__কেন?
__বা রে,সব প্রোগ্রামের আগেই তো
আম্মু তোমার আসার অপেক্ষায় থাকে
কিন্তু তুমিই তো আসো না।বিচ্ছিরি
আব্বু...

যার উপস্থিতি বিব্রতকরের সৃষ্টি
করে,যাকে সর্বদা ক্ষ্যাত,আনকালচার্ড
বলে এড়িয়ে চলে তার জন্যে
অপেক্ষা!
__আচ্ছা,তোর বিচ্ছিরি আব্বু সম্পর্কে
আম্মু আর কি কি বলে?
__বলে,তোর আব্বুর মত ভালো মানুষ হতে
হবে,ব্রিলিয়ান্ট রেজাল্ট করতে
হবে,সহজসরল জীবন যাপন করতে হবে,গল্প-
কবিতা লিখতে হবে.... আরো অনেক
কিছু।
,
ভালো মানুষ!
অর্নির কাছে আমি ভালো মানুষ! শরীর
টা শির শির করে কাপঁতে থাকে
আমার।
আর কবিতা।
হ্যা,কবিতা গল্প তো লিখি অনেক ব্যর্থ
লেখকদের মত যার জন্যে সব সময় ওর
কুটুক্তি শুনতে হয়।
নাহ,সব কিছু কিরকম যেন গুলিয়ে
যাচ্ছে।

অর্নির কন্ঠস্বর শোনা যাচ্ছে মাইকে।
আরে,এত আমারই লেখা কবিতে।

"আমার ইচ্ছে করে না ভালোবাসতে
শুধু ভুলতে পারি না তালতলার
বেদীতে
কারো সঙ্গে বসে থাকার কিছু মূহুর্ত।
কনিষ্ঠ আঙ্গুলে আঙ্গুল রেখে
দীর্ঘ পথ চলার সেই চুক্তিপত্র।"
----------------
----------------

লুকিয়ে লুকিয়ে ও আমাকে এত
ভালোবাসে!
অন্তুকে আরো জোরে জড়িয়ে ধরি
আমি।আমার চোখে কি পানি? আমি
আবারো হেরে গেলাম অর্নি তোমার
রহ্যসে,তোমার লুকায়িত
ভালোবাসায়।আমার ভালোবাসা
সতিই বিচ্ছিরি।
আসলেই, নারীর গতিবিধি একমাত্র
বিধাতাই জানে....
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৬ সকাল ৮:৫৯
৫টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ধানমন্ডি ৩২ যারা ভেঙেছিল, আর যারা বিচার চাওয়ার পথ বন্ধ করে দিল- তারা কি একই?

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:৪৪



ধানমন্ডি ৩২ যারা ভেঙেছিল, আর যারা বিচার চাওয়ার পথ বন্ধ করে দিল- তারা কি একই?

ধানমন্ডি ৩২ ভাঙা হয়েছিল- কে দেখেনি, কে জানে না, এটা অস্বীকার করার উপায় নেই।,... ...বাকিটুকু পড়ুন

গরীবের বউ সবার ভাবি

লিখেছেন অপলক , ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:০২



৩৬ জুলাই আন্দোলনের পর অনেক আশায় ছিলাম। আশার গুড়ে বালি। তত্বাবধায়ক সরকারের সময় বাংলাদেশ ব্যাঙ্ক গভর্ণর ড. আহসান এইচ মনসুর বুদ্ধিদীপ্ত প্ররিশ্রম করে ২০২৬ জানুয়ারীতে রিজার্ভে রেখে গেছেন ৩৫... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন থেকে যারা আওয়ামী লীগকে ভালোবাসেন এখন তাদেরকে আওয়ামী লীগের প্রয়োজন

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:৪০



ক্ষমতায় গেলে কোন দল যাদেরকে মনে রাখে না ক্ষমতায় গেলে তাদেরকেই তারা সবচেয়ে বেশী মিস করে। সেই নিখাঁদ দল প্রেমিকদেরকে এখন আওয়ামী লীগ খুঁজছে। তারা লগি বৈঠা নিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

একুশটি বার মৃত্যুর মুখোমুখি: এক অবিনশ্বর সংগ্রামের নাম শেখ হাসিনা

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩২


একুশটি বার মৃত্যুর মুখোমুখি: এক অবিনশ্বর সংগ্রামের নাম শেখ হাসিনা
শুধু ২১ আগস্টের সেই ভয়াল গ্রেনেড হামলাই নয- বঙ্গবন্ধুকন্যা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা হয়েছে ১৯৮৮ সাল থেকে আজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

৫ই আগস্ট ছিলো আরো একটি ১৫/২১শে আগষ্টের অপচেষ্টা।

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৫২



২১শে আগস্ট পালন করা অর্থে , আমার কাছে মনে হচ্ছে আবারো জঘন্য কোনো ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে। কারন আমরা ঐ নারকীয় হত্যাকাণ্ডের কোনো বিচার সম্পন্ন করতে পারিনি। আমরা যারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×