"দুজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হওয়ায় তাদের সরাসরি ভর্তি করা হচ্ছে।মোট নেওয়া হবে দশজন।বাকি সবাই
মুক্তিযোদ্ধার নাতনী হওয়ায় লটারীর মাধ্যমে নির্বাচিত করা হবে।"
।
মাইকে কথাগুলি শুনার পর কিছুমানুষ হৈ হৈ করে চিল্লিয়ে স্টেজের দিকে যায়।এখনো মুক্তিযোদ্ধার কোন সন্তান
প্রথম শ্রেনীতে পড়বে!!!
কিরকম যেন হিসেব মিলাতে কষ্ট হয় সবার।
।
যুদ্ধ হয়েছে ৪৫ বছর। ১৩ বছরের কম কাউকে মুক্তিযোদ্ধা বলা যাবে না।ভর্তিকৃত সন্তানের বয়স ৬।সব মিলিয়ে বাবার
বয়স হওয়ার কথা ৬৪ বছরের বৃৃদ্ধ।কিন্তু লোকটা কে এখনো সবল দেখা যাচ্ছে, এমনকি দাড়িও পাকে নি!
ব্যাপার কি...জানতে সবাই উনাকে জোকের মত চেপে ধরেছে।উনি আবার বলছে উনার মুক্তিযোদ্ধার সনদ আছে!
।
আমি কনফিউজড হয়ে গেলাম... এই সবল
ভদ্রলোকটি একাত্তরের যুদ্ধ করেছে নাকি তীব্র শীতে ঠান্ডা পানিতে গোসল করতে যে যুদ্ধ করতে হয় সেটা
করেছে!
যাইহোক, এই পবিত্র সনদের সত্য দাবি করাটা হচ্ছে আমাদের নৈতিকতার বিষয়। আর এই ঘটনাটা আমাদের টাঙ্গাইলের "বিন্দুবাসিনী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়" এর প্রথম
শ্রেনীর ভর্তি লটারীর দিনের।
।
প্রতি সরকারের আমলেই মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা যে হারে বাড়ছে তাতে আমি নিশ্চিত, আগামী সরকারের
আমলে আমিও যদি আবেদন করি এই সনদের জন্যে...তাহলে "পাইলেও পাইতে পারি এই অমূল্য রতন।"
।
মুক্তিযুদ্ধে নিহতের সংখ্যার সঠিক হিসেব নিয়ে কথা বললে আমি
রাজাকার আর বছর বছর নয়া 'জারজ' মুক্তিযোদ্ধার জন্ম দিলেই
দেশপ্রেমিক!
কি সুন্দর চেতনা আমাদের।
।
প্রতি সরকারের আমলে যেখানে বাড়ার কথা বৈদেশিক মুদ্রার
রিজার্ভ, শিক্ষার মান,বেঁচে থাকার সুযোগ সুবিধা,উন্নয়নের গতি সেখানে প্রত্যেক সরকার মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা বাড়াতে ব্যস্ত.... বড়ই হাস্যকর।
আচ্ছা, যারা যুদ্ধ করেছে তাঁরা কি এসব সনদের
আশায় যুদ্ধ করেছে? নাকি একটু শান্তিতে কারো অধীনে না থেকে
বাঁচার আশায় যুদ্ধ করেছে?
।
কোন দেশেই মনে হয় না এরকম মুক্তিযোদ্ধার তালিকা করা হয়। আর সেই তালিকায় ঠাই পাওয়া লোকগুলি,তাঁদের সন্তান,নাতি-
নাতনীরা পর্যন্ত এরকম সনদ দেখিয়ে বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা ভিক্ষা নেয়।
।
বর্তমানে ছত্রাকের মত অহরহ গজানো কথিত সনদধারী
মুক্তিযোদ্ধাদের দেখে সালাম দিতেও এখন কেন জানি মনে সংশয় দানা বাধে।
তিনি আসল নাকি ভুয়া???!!!
।
তবে প্রকৃত বীরদের প্রতি স্যালুট এ প্রজন্মের.....
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে ডিসেম্বর, ২০১৬ দুপুর ১২:১৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



