somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ডিম ভাজিময় ভালোবাসা!

০৬ ই ডিসেম্বর, ২০১৮ রাত ২:১১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



- আমার চড়ুই পাখিটা কি করে?
- ডিম ভাজে!
- কি?!
- লিটারেলী ডিম ভাজতেসি!
- এত রাতে!?
- এত রাত কোথায়, ১১ টা বাজে মাত্র!
- ও, তুমি তো আবার ভোর ৪টায় ঘুমাও, তোমার কাছে ১১ টা মানে তো সবে সন্ধ্যা!
- প্লিজ জ্বালায়ো নাতো, ডিম টা পুড়ে যাচ্ছে তোমার কথার যন্ত্রনায়!
- ডিম পুড়ে যাক, তুমি ঠিক অাছো তো?
- না, ঠিক নাই!
- হাহাহা! ভালো! এত কষ্ট না করে তাড়াতাড়ি আমাকে বিয়ে করে ফেলো, বসে বসে সারাদিন ডিম ভাজা লাগবে না আর!
- আমি যে সারাদিন বসে বসে ডিম ভাজি, এটা তুমি কার কাছ থেকে শুনসো?
- তো কি? একা একা থাকো, নাদান-ব্যাচেলর একটা মানুষ, ডিমই তো তোমাদের একমাত্র সম্বল!
- মোটেও না । আজ দুপুরের মেন্যুতে বেগুন ভাজির সাথে সরষে ইলিশ ছিলো!
- ইলিশ? পেলে কোথায়?
- অদ্ভুত তো, আমার আর্থিক অবস্থা কি এতই খারাপ তোমার মনে হয়?
- না, সেরকম না ব্যাপারটা, জাস্ট অাস্কিং।
- পাশের বাড়ির ভাবী দিসে, দুই টুকরা!
- তাই?
- হুম
- কেমন ভাবী সে?
- কেমন ভাবী মানে? ভাইয়ের বউকে ভাবী বলে বাঙ্গালীরা, তুমি জানো না?
- গর্দভ! বলসি, তোমার কোন ভাইয়ের ভাবী সে? নাকি এমনেই ভাবী বলো তারে?
- এমনেই!
- তোমরা তো আবার মেয়েদের ভাবী ডাকতেই বেশী স্বাচ্ছন্দ বোধ করো, ভুলেই গেসিলাম!
- পাশের ফ্ল্যাটের লিটন ভাইয়ের বউ, এমনিতে সে খুব ভালো মানুষ!
- বাহ! তা, লিটন ভাইয়ের ফ্ল্যাটে কেমন যাওয়া-আসা হয়?
- মানে কি? হোয়াট ডু ইউ মিন?
- তুমি যেটা ভাবতেসো, সেটাই!
- ইয়াক! তোমার মেন্টালীটি এত ন্যাস্টি কেন!
- হেহ!
- নিজের হবু বরের চরিত্র নিয়ে তোমার এত সন্দেহ!
- এক্সকিউজ মি! হবু বর মানে?
- কেনো? আমাকে বিয়ে করবা না তুমি একটাসময়?
- ও আচ্ছা, সেটা তো অদুর ভবিষ্যৎ!
- জ্বি!
- ভবিষ্যৎ নিয়ে না ভাবি আমরা, আপাতত বর্তমান টাই পাঠ্যক্রম হোক আমাদের, নাকি?
- টলস্টয়ের ফ্যান?
- আজ্ঞে!
- 'ভবিষ্যৎ একটা মরিচীকা, বর্তমানটাই সব'
- সত্যবচন!
- মাঝে মাঝে কি ভাবি জানো?
- কি?
- কথাটা ভুল!
- কেনো?
- বর্তমানের অস্তিত্ব টিকে থাকে ভবিষ্যতের আশ্বাসে!
- কিরকম?
- এই ধরো, এই যে আমরা প্রেম করতেসি, এটারও একটা আলটিমেট রিজন আছে, ভবিষ্যতে বিয়ে করবো, এজন্য!
- হুম
- ভবিষ্যৎটাই তো সব, বর্তমানে যা করতেসি আমরা, সেটা তো ভবিষ্যতের জন্যই!
- টলস্টয়ের কথাটার একটু অন্য ব্যাখ্যা আছে । তিনি আসলে কথাটার অন্যরকম একটা মিনিং দিয়েছেন, ধরো...
- ধরতে পারবো না, চুপ, খুব ক্ষুধা লাগসে, রান্না শেষ, খেতে বসবো এখন ।
- তুমি কথা শুরু করে দিয়ে শেষ করতে দাও না কখনো, ঠিক এই কারনেই আমি তোমাকে বিয়ে করবো না, দেইখো!
- ইয়া আল্লাহ! একটা নাদান-ব্যাচেলর মানুষ রাতে ক্ষুধার্ত পেট নিয়ে খেতে বসবে, তার উপর এমন ইমোশনাল অত্যাচার যারা করে, তাদের তুমি বিধবা করে দাও, তাদের যেন বাসর রাতেই জামাই মারা যায়, আমীন!
- গর্দভ! তোমাকে আমি এত তাড়াতাড়ি মরতে দেবো না! আর কথায় কথায় মৃত্যু জিনিসটাকে টেনে আনবা না, অশুভ জিনিস এটা!
- জ্বি ।
- টলস্টয় ওই কথাটা দিয়ে বুঝিয়েছিলেন, ভবিষ্যতের দুশ্চিন্তায় আমরা মাঝে মাঝে বর্তমানটাকে ভুলে যাই, আমাদের যা কিছু করার এক্ষুনি করতে হবে, বর্তমানেই করতে হবে! তোমাকে ভবিষ্যতে ভালোবাসবো, এই আশায় বর্তমানের মোমেন্টসগুলোকে নষ্ট করে দিতে পারি, বলো?
- সহমত ভাই!
- আবারো ফাজলামো করতেসো!
- হাহাহা! আচ্ছা, তুমি ছাড়া আমি আর কার সাথে কথা বলি, বলো! সারাদিন অফিস করে এসে তোমার সাথে এসব লেইম লেইম টপিক নিয়ে কথা বলার মাঝখানে মসলা হিসেবে তাই ওসব বলি!
- আমি লেইম টপিক নিয়ে কথা বলি সবসময়?!
- সত্যি বলতে... হ্যা, অনেকটা!
- ওকে, ঠিক আছে! আমাকে আর প্রয়োজন ছাড়া ফোন দিবা না তাহলে, বাই!
- এই, আরে শোনো!
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই ডিসেম্বর, ২০১৮ রাত ২:১৩
৫টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

২০১৮ সালের পর ঢাকাতেই ৪টা এক্সপ্রেসওয়ে

লিখেছেন মাথা পাগলা, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৩:৫৩



একটা দেশের উন্নয়ন কতটা এগিয়েছে, সেটা বোঝার অনেকগুলো উপায় আছে। তবে সবচেয়ে সহজ উপায় হলো সেই দেশের রাস্তা, সেতু আর যোগাযোগব্যবস্থা। কারণ এগুলোর পরিবর্তন সরাসরি মানুষের দৈনন্দিন জীবনে চোখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

অভ্যাস বিষয়ে

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:১২

অভ্যাস আসলে কীভাবে তৈরি হয়?

আমরা অনেক সময় ভাবি, কোনো একটা অভ্যাস তৈরি করতে হলে অনেক বেশি Willpower দরকার।

আসলে ব্যাপারটা একটু অন্যরকম।

আপনি যদি প্রতিদিন এক ঘণ্টা বই পড়ার সিদ্ধান্ত নেন, কিন্তু... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ১৯৭

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৪



শরতের সকাল! সকাল ৮ টা।
ভাদ্র মাস। ইংরেজি সেপ্টেম্বর মাস। ২০২৬ সাল। ঘটনাটা কি হয়েছে, আমি বলি। মোটামোটি ভয়াবহ ঘটনা বলা যেতে পারে! যে কোনো সময় রোদ উঠবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশে বর্তমান গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট: দায় কার?

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:০৭


সংক্ষিপ্ত রায় সবচেয়ে বড় দায় বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ নীতির। এর মধ্যে ২০০৯–২০২৪ সময়কালের সরকারের সিদ্ধান্তগুলোর দায় তুলনামূলকভাবে বেশি, কারণ ওই সময়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা দ্রুত বাড়ানো হলেও... ...বাকিটুকু পড়ুন

যাপিত জীবন.....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৭


১।মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ব্রুনাই দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কিছু দেশে জুম্মার নামাজ পড়ার সুযোগ হয়েছে। ১২.৫০ এ আজান তারপর ১.১৫ দিকে জুম্মার নামাজের সকল আনুষ্ঠানিকতা শেষ। আজানের কিছুক্ষণ পর খুতবা শুরু তারপর... ...বাকিটুকু পড়ুন

×