somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জানিনা, কোথায় আছো, কেমন আছো;

২৯ শে জুন, ২০১৬ বিকাল ৫:৫৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


জানিনা কোথায় আছো, কেমন আছো;
শুধু জানি, হয়তো তুমি ভালো নেই, অথবা আছো
যে ভাবে তোমার থাকার কথা ছিলনা।
আজ এই অবেলাতে যদি তোমায় একটি প্রশ্ন করি,
খুব, খুব ভুল হবে কি প্রিয়...
কে তোমায় দুঃখ দিলো, কেন তুমি এমন হলে_
যা তুমি কখনো-কোনোদিন হতে চাওনি; নারী না!
তুমি চেয়েছিলে একটি সবুজ শান্ত-সুখের ঘর
যেখানে, থাকবে না কোন দ্বন্দ্ব স্বার্থের হানাহানি,
কথা কাটাকাটি, থাকবে শুধুই ভালো বাসাবাসি।
চেয়েছিলে, লক্ষ্মীমন্ত একটি বউ, যে থাকবে সর্বদা তোমার পাশাপাশি,
কখন কি লাগে তোমার, এই যেমন ভোরে ঘুম থেকে ওঠার পরে
তোমার ব্রাশ তাওয়াল এগিয়ে দিয়ে, অফিসের জিনিসপত্র গুলি গুছিয়ে দেয়া,
টেবিলের পাশে বসে যত্ন করে নাস্তা খাইয়ে দেয়া, সাথে এককাপ চা হলে মন্দ নয়।
কর্মক্ষেত্রে যাবার বেলেয়, দুয়ার অবদি এগিয়ে দেয়া, কপলে একটি আলতো করে
চুমু এঁকে দেয়া আর নেয়া, হাত নেড়ে যতদূর চোখ যায় হাসিমুখে হাত নাড়া।
দুপুরে ফেরার পরে, ব্যাগটা তোমার হাত থেকে নিয়ে, শার্টটা টাইটা খুলে দেয়া,
জুতো টা খুলে যথা স্থানে রেখে, হাত ধরে টেনে নিয়ে বাচ্চা শিশুর মত করে
পা ডলে, পিঠ ডলে সুন্দর মত করে গোসল করিয়ে দিয়ে, মাথাটা মুছে দেয়া
চুল গুলো বা সিঁথি করে আঁচরে দেয়া, পছন্দের শাক ঝোল ভেজা ভাত
দুজন মিলে খেয়ে, শীত, গ্রীষ্ম, বরষা সব ঋতুতে, একে অপরকে জড়িয়ে ধরে
একটা ভাত ঘুম দেয়া, কখনো বা দুষ্টুমি খুনসুটিতে মেতে ওঠা।
চশমাটা, বইটা এগিয়ে দিয়ে এককাপ লেবু, আদা, এলাচ পাতা, কিংবা
কাঁচা মরিচের চা য়ের সাথে পাকোড়া, ডালের বড়া, অথবা দুটো মুড়ির মোয়া
এনে, পাশে বসে দুজনেই বই কিংবা টেলিভিশনের কোন সাদা-কালো
ছবির মাঝে হারিয়ে গিয়ে দুজনেই নায়ক কিংবা নায়িকা বনে যাওয়া।
হাত ধরে নেচে গেয়ে, ওসব ছবির নায়ক-নায়িকা দের কেও হার মানিয়ে দেয়া।
চাঁদনী রাতে দুজনে গাঁয়ের মেঠো পথে, নদীর তীরে গুন গুন গানের সুর তুলে
জোনাক জলা লাইটিংয়ের মাঝে, একান্ত নিজেদের আপন গহীন বনে হারিয়ে যাওয়া।
ছুটির দিনে, ধানক্ষেত, হলুদ সরষে ক্ষেত, জারুল, হিজল, আমলকী বনে বাদারে
ইচ্ছে মত ছুটোছুটি, মাতামাতি, পাট কিংবা ছন বনে লুকোছুপি খেলা,
পাটখড়ির মাথায় কাঁঠাল অথবা গাছের কস মেখে, ফড়িং, প্রজাপতি ধরা,
কাঠবিড়ালির পিছু ধেয়ে ক্লান্ত শরীরের, লাজুক রাঙা বউয়ের শরিরের,গাছের সাথে
হেলান দিয়ে দাড় করিয়ে, আলতো করে ঘোমটা তুলে কিছু একটা একে দিয়ে
হো হো করে হেসে উঠা, যেন খ্যাপাটে আলাভোলা এক পাগলা ঘোড়া...
গোধূলি লগণে ধবধবে সাদা বক, মাছরাঙ্গা, শালিক,চড়ুই, শ্যামা, কোকিল
ঘুঘু, সোনালী ডানার চিলদের স্থির উড়ে চলা দেখে, সন্ধ্যেবেলা
আঁজলাতে কলমিলতা, মালঞ্চা, হেলঞ্চা, ঘি কাঞ্চন, ঢেঁকিশাক তুলে ঘরে ফেরা।
দু'চারটে মুরগী, ছাগল পোষা, গাঁয়ের খাঁটি গরুর দুধের পিঠা-পুলি, পায়েস রাধা।
কনকনে শীতের কুয়াশা ভেজা ভোরে খড়কুটো জ্বালিয়ে উম নেয়া আর
খেজুর রসে ভেজা চিতই, ভাপা পিঠে ফুঁকে ফুঁকে তৃপ্তি করে খেয়ে ঢেকর তোলা।

হায়; কত স্বপ্নই না ছিল আমার ওই শিশুর মত, নরম মনের গেদা আলাভোলা মানুষটার;
কারা যেন কেড়ে নিলো সব তার স্বপ্ন- স্বাদ, নিংড়ে চিপরে খেল, তারপর... ছুড়ে ফেলে দিলো;
কংক্রিট, ইট পাথরের শহর ওকে কেমন জানি করে দিল, ভুলে গেল, ভুলে গেল বুঝি
ও ওর সকল চাওয়া পাওয়া আবেগ অনুভূতি আর প্রেম ভালবাসায় মাখামাখি করে
জীবন কাটিয়ে দেয়ার সপ্নগুলো। মিলিয়ে গেলো অন্ধকারে আলো আঁধারীর আশা গুলো।
আজ কি ও মাতাল, উম্মাদ, যেখানে যা পায়, তাইই কি খায়! দেশি-বিদেশী এঁটো- ঝুটা সব কি!
ও তো কখনো এঁটো-ঝুটা খেতে চায়নি, মাতাল উম্মাদ কিংবা অপরিছন্ন এলোমেলো জীবন বইতে চায়নি;
তবে কে বানালো ওই সহজ সরল, মেধাবী চরিত্রবান পুরুষটিকে এমন??
বলো ঘরের স্ত্রী? বলো শহুরে নারী, ডানা কাটা পরী? বলো আজন্ম প্রেমিকা ঘুঁটোকুড়োনী কৃষাণী বধু?

বুড়ো হয়ে গেল কি ও, চুলে কি পাঁক ধরেছে, চোখ কি তার আগের মত দেখে, নাকি পাওয়ার কোন চশমা পরে!!
নাকি !! ইচ্ছে জাগে খুব করে, পৃথিবীর সকল দেয়াল, সকল নিয়ম ভেঙ্গে ছুটে গিয়ে জিজ্ঞেস করি...
ওগো প্রিয়, তুমি ভালো আছো তো... কেউ তোমায় দুঃখ কষ্ট দেয়নি তো, বকুনি দেয়নি তো,
ঠিকমত খেয়েছিলে, নেয়ে ছিলে তো, ফুলবাবুটির মত করে হেলেদুলে চলে ছিলে তো,
আমায় তোমার মনে পড়েনি তো, অনেক ঘৃণা ও বুকে জমিয়ে দিয়েছি যে সেই কবে দূরে সরিয়ে;
চেয়েছি নিজ শেকড়ের মাঝে শক্ত করে আগলে ধরে বাঁচো, বাঁচার মত করে বাঁচো...
কোন সাহস সাধ্য ছিল কি এই গেঁয়ো, ঘুঁটোকুড়োনি কৃষাণীর...তোমার মত
ওত বড় সাহেব বাবু কে ধরে রাখার বলো; কিংবা সমুখে গিয়ে সেই ...
পরিচিত সু ঘ্রানি শরীরের ঘাম, চশমার ঝাপসা ঘোলাটে কাঁচ আঁচল দিয়ে মুছে,
পড়িয়ে দিয়ে কপোলে একটি ছোট্ট চুম এঁকে দিয়ে ফিরে আসার;
যেমনটা মা তার সন্তান কে এঁকে দেয় ...পরম মমতায় ;

..................................................................

আমি যে কৃষাণী, তোমার চাওয়ার যতটুকু ছিল, জানিনা তা কতটুকু দিতে পেড়েছি,
তবু আরও কিছুটা দিতে, বড় লাঞ্চনা ঘৃণা সয়ে, আজো আমি এ গাঁয়ে কামলা খাঁটি;



যদি ইকটু ক্ষণের তরেও ভালো থাকো ...

______________ঁ









সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে জুন, ২০১৬ বিকাল ৫:৫৪
৬টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

যারা জানেন না তাদের জন্য! কফি এনিমা (Coffee Enema)!

লিখেছেন সাহাদাত উদরাজী, ২৫ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৩

কফি এনিমা হলো মলদ্বার দিয়ে কোলন বা বৃহদন্ত্রে তরল কফি প্রবেশ করিয়ে পেট পরিষ্কার করার একটি বিকল্প পদ্ধতি। নিচে এটি শরীরে দেওয়ার সাধারণ প্রক্রিয়াটি ধাপে ধাপে উল্লেখ করা হলোঃ

প্রয়োজনীয় উপকরণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

মিলাদুন্নবী: ভালোবাসার নবী, মানবতার শ্রেষ্ঠ আদর্শ

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ২৫ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৮


মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্মদিন বা মিলাদুন্নবী শুধু একটি ঐতিহাসিক স্মরণদিন নয়; এটি মানবতার জন্য এক মহান আদর্শের কথা স্মরণ করার উপলক্ষ। তাঁর আগমন ছিল এমন এক... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ একটি পরিচ্ছন্ন শৌচাগার

লিখেছেন রাজসোহান, ২৫ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৮



বাড়িটা দেখতে বাড়ির মতো না, যেনো একটা ঘোষণা। দ্যাখো, আমি কে।

গেটে দুইটা সিংহ, পাথরের, মুখ হাঁ করা; সিংহ দুইটা কী পাহারা দিচ্ছে তারা নিজেরাও জানে না। ভিতরে উঠান... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাদ্রাসায় শিশুর নিরাপত্তা কোথায়?

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ২৫ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫০

মাদ্রাসায় শিশুর নিরাপত্তা কোথায়?
====================
একটি ১১ বছরের শিশু যার বয়স খেলাধুলা, পড়াশোনা আর স্বপ্ন দেখার। সেই শিশুকে যদি যৌন নির্যাতনের শিকার হতে হয় এবং তার গর্ভে একটি সন্তান জন্ম নেয়, তাহলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মক্তব চালু করলে শিশুরা ফিরে আসবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:৪২


ববি হাজ্জাজ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী। মুসা বিন শমসেরের ছেলে। মন্ত্রী হওয়ার পর থেকে পুরো দেশ চষে বেড়াচ্ছেন। নতুন দায়িত্ব পেয়েছেন, নতুন নতুন আইডিয়া দিচ্ছেন। মনে হয়,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×