জামাতি নেতা কামরুজ্জামানের ফাসির আদেশ বহাল হল আজ সোমবার। অভিযুক্তদের বিচারের জন্য ট্রাইবুনাল গঠন ও কর্মকান্ডের মাধ্যমে নৈতিক বৈধতা হারিয়ে ফেলেছে অনেক আগে। তাই বিগত কয়েকটা ফাসির মত বাংলাদেশে "জুড়িশিয়াল কিলং" এর তালিকায় নতুন নাম যুক্ত হল। একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে বাংলাদেশের অবৈধ সরকার ও তার পুতুল ট্রাইবুনালের সাথে অমত প্রকাশ করছি। "যো সুই কামরুজ্জামান"।
যুদ্ধাপরাধী বিচার বাংলাদেশে খুবই সংবেদনশীল একটা বিষয়। বাংলাদেশ আওয়ামিলীগ ও তার পরগাছা কমিউনিস্টরা প্রপাগন্ডার মাধ্যমে একাত্তরের ঘটনাবলীকে একটা ট্যাবুতে পরিনত করেছেন। কোন বিষয়ে ট্যাবুর বিশেষত্ব হচ্ছে যে কোন সচেতন মানুষ উক্ত বিষয়টা নিয়ে নিজে নিজ বিবেকের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন যাতে প্রচলিত মতামতের বাইরে কোন চিন্তা বিবেককে স্পর্স করতে না পারে। আর তাই বিশাল জনমত ট্রাইবুনালকে অনিয়ম মনে করলেও কেউ সাহস করে প্রতিকার চাইতে পারছেননা। জনগনের বিশাল একটা অংশ এই ট্রাইবুনাল নিয়ে কোন প্রকার আলোচনা করতে চাচ্ছেননা। অনেকেই মনে করেন যাক বাবা কয়েকটা মানুষ মারা গেলে ল্যাঠাটা যদি চুকে যায়. তারপর সব ঠিক হয়ে যাবে। যারা এ ধরনের কথা ভাবছেন তারা নিতান্ত বোকার স্বর্গে বাস করছেন। এতদিন আওয়ামো-কমিউনিস্টরা জামাতিদের যুদ্ধাপরাধী বলে দাবি করতেন. এখন থেকে তারা দাবি করবেন জামাতিরা প্রমানিত যুদ্ধাপরাধী. এতদিন তারা সন্দেহের তীর ছুড়তেন. এখন থেকে ট্রাইবুনালের রায় নিয়ে ছড়ি ঘোরাবে। একাত্তর নিয়ে যে ট্যাবু তার সৃষ্টি করেছেন এটা তার শুধু পরবর্তি ধাপ মাত্র। তার পরবর্তি ধাপ হবে এ রায়খানা টাঙ্গিয়ে ইসলামপন্থি যে কোন দলের উপর নিষেধাজ্ঞা স্থাপন। একটা মুসলিম প্রধান দেশে ইসলামি মূল্যবোধ প্রকাশের রাস্তা বন্ধ করার ফন্দি মাত্র। ব্যাক্তিগতভাবে ইসলামপন্থি না হলেও অনৈতিকভাবে কারো কন্ঠরোধ যে একসময় বিস্ফোরনে পরিনত হবে তাতে উদ্বিগ্ন হচ্ছি। ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরানের দিকে তাকালেই আমার উতকন্ঠার কারন খুজে পাওয়া যাবে।
বাংলাদেশে জুড়িশিয়াল কিলিং শুধু ইসলামপন্থিদের দমানোর জন্য ভয়ঙ্কর নয়. এখানে গনতন্ত্রের অন্যতম স্তম্ভ বিচার বিভাগকেও চুরমাচুর করা হচ্ছে। যে দেশে বিচারবিভাগ সরকারের পোষা কুকুর হয়ে যায় সে দেশে গনতন্ত্র থাকেনা. আর মুসলিম প্রধান যে দেশে গনতন্ত্র নেই সেখানেই জন্ম নেয় উগ্রপন্থি জঙ্গিদল. গৃহযুদ্ধে দেশ হয় ক্ষতবিক্ষত। হয়ত আমাদের দেশের ক্ষমতাদখলদাররা মনেপ্রানে জঙ্গিদলের উত্থানের কামনা করছেন। তাহলে মিসরের আদলে একনায়ক সৈরাশাসনের মাধ্যমে ক্ষমতার চিরস্থায়ি বন্দোবস্ত করতে পারবেন।
বাংলাদেশের সকল সচেতন নাগরিককে শুধু বর্তমান নয়. ভবিষ্যতের দিকে একচোখ রেখে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে হবে। জামাতি নেতাদের ফাসিতে হয়তো একাত্তরের অতিরন্জিত ক্ষততে মলমের সাময়িক প্রশান্তি দেবে কিন্তু ভবিষ্যতের অনন্ত অশান্তি সৃষ্টি করবে. দেশকে বিভাজিত করে রাখবে। তাই মানবতাবাদের কাঠমোল্লাদের না বলুন। বলুন "যো সুই কামরুজ্জামান"।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




