somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বিবিধ বেলুন

২১ শে ডিসেম্বর, ২০১৮ ভোর ৪:১৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আশ্বিনের কোন এক রাতে আমরা দেখতে পাই, দিনভর কেরোসিন কাঠস্বরূপ খটখটে শুকনো আকাশটা হঠাৎ চেহারা বদলে ফেলেছে। কোনরকম পূর্বাভাস ছাড়াই মাঝরাতের মিনিট পনেরো আগে বিদ্যুৎ চমকে ওঠে, ভীষণ বাতাসে উপড়ে পড়তে চায় শহরের অবহেলিত দীর্ঘাঙ্গী নারিকেল আর ইউক্যালিপ্টাস গাছ। ভারী বর্ষণ, সুঁই ঝরে পড়ে আকাশ থেকে। তীক্ষ্ম ডগা, সূক্ষ্ম দেহ; লক্ষ লক্ষ সুঁই ঝরে বায়ুস্তর ভেদ করে, ক্ষ্যাপা মহিষের মতো ওরা ছুটে আসে মাটি বরারর। বৃষ্টি হয়ে আমাদের চোখে ধরা দেয় বহুরূপী সু্ঁই, অথচ গায়ে বিধলেই চামড়া ফুটো হবে। সাত আসমান ফুঁড়ে ছুটে আসা ধারালো সূচ চামড়ার সাতটি স্তর ভেদ করে প্রথিত হবে গভীর থেকে গভীরে

আকাশ থেকে বিষাক্ত সুঁই ঝরে পড়ছে। তীক্ষ্ম ডগা, সূক্ষ্ম দেহ; লক্ষ লক্ষ সুঁই।

আমাদের সম্মিলিতি দৃষ্টিশক্তি একীভূত হয়ে যায়। ছায়ার মতো অদৃশ্য হয়ে ভাসতে ভাসতে আমরা দেখি, সড়কের একপাশে বিশালাকৃতি দালানের নিচে গুটিসুটি মেরে দাঁড়ানো এক কুকুর। সূচবিদ্ধ, রক্তাক্ত সেই কুকুরের যন্ত্রণায় কাতর হবার কথা, তবুও কোন এক অজানা কারণে ওর ঘোলাটে চোখে আমরা মায়া দেখতে পাই। নেশায় বিভোর, মন্ত্রমুগ্ধ কুকুরটাকে কেউ জানায়নি কেন? আকাশ থেকে সুঁই নেমে আসছে। মুহূর্তের ব্যবধানে পিঠ-পাজর ভেদ করে ঢুকে যাবে ওরা।

মাঝরাতের কালো পর্দায় ঢাকা চারদিক, লক্ষ লক্ষ ধারালো ধাতব সু্ঁই ঝলমলিয়ে ধেয়ে আসছে মাটির দিকে। হঠাৎ এই রুপালী-কালো কন্ট্রাস্টের বাইরে আমাদের দৃশ্যপটে হাজির হয় গাদাখানেক বেলুন। বেগুনি, নীল, আসমানী, সবুজ, হলুদ, কমলা, লাল- হাইড্রোজেন গ্যাসভরা হরেক রঙের বেলুন। মহাকর্ষকে তুচ্ছজ্ঞান করে, মাটির পৃথিবীকে ধিক্কার জানিয়ে ওরা উঠছে, তীব্র বেগে উঠে যাচ্ছে আকাশের দিকে। অথবা হয়তো আকাশ নয়, বিশালাকৃতি দালানের চৌদ্দতলা বরাবর ওরা আশ্রয় নিতে চায়।

আকাশ থেকে বিষাক্ত সুঁই ঝরে পড়ছে। তীক্ষ্ম ডগা, সূক্ষ্ম দেহ; লক্ষ লক্ষ সুঁই।

প্রথমে চুপসে যায় বেগুনি বেলুন। তারপর নীল, আসমানী, সবুজ, হলুদ। অসুরের মতো ছুটে আসা সুঁইয়ের নির্মম খোঁচায়, ওদের দর্পচূর্ণ হয়। মরে যাওয়া তারার মতো ওরা ছিটকে পড়ে কক্ষপথ থেকে।

কমলা আর লাল এখনও চুপসে যায়নি। তবে আসন্ন পরিণতির কাছে হার মানতে বাধ্য হয় ওরা। আমরা চুপচাপ চেয়ে দেখি, হাইড্রোজেন গ্যাসের ঊর্ধ্বগামী ক্ষমতাকে অগ্রাহ্য করে উল্টোপথে ওরা ধেয়ে আসে পিচঢালা কালচে রাস্তার দিকে। সময় থমকে যায়, অনন্তকাল ধরে নেমে আসতে থাকে দুই বেলুন। তারপর হঠাত, একটা দোতলা বাসের চাকার নিচে আত্মাহুতি দেয়। নৈ:শব্দে জর্জরিত পৃথিবীতে ওদের আর্তনাদ সশব্দে ধ্বনিত হয় না। তবে আমরা বুঝতে পারি, সময় চলতে শুরু করেছে আবার।

আকাশ থেকে বিষাক্ত সুঁই ঝরে পড়ছে। তীক্ষ্ম ডগা, সূক্ষ্ম দেহ; লক্ষ লক্ষ সুঁই।

দালানের ওপরতলায় পর্দার আড়ালে কারও ছায়া জমাট বাধতে শুরু করে, একটু একটু করে রূপ নেয় মানবদেহের আকৃতি। সেখানকার পরিস্থিতি জানার জন্য মন ব্যকুল হয়ে উঠলেও, আমাদের সম্মিলিত দৃষ্টি আবারও ক্যামেরার ফোকাল পয়েণ্টের মতো নিচের দিকে আটকে যায়।

নেড়ি কুকুরটা কখন যেন অন্য পথে হাঁটা দিয়েছে!
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে ডিসেম্বর, ২০১৮ ভোর ৪:১৯
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কেউ পুড়বে আর কেউ পোড়াবে!

লিখেছেন রাজীব নুর, ২১ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

অনেকদিন নিশ্চুপ আছি কিছুদিনের অপেক্ষায়;
কেউ কেউ বলে কিছুদিন নাকি হারিয়ে গেছে,
অনেকদিনের গর্ভে তাই মেলাতে সরল গণিত।
কিছুদিনের অপেক্ষায় অপেক্ষায়-
ছেটে দিয়েছি কথামালার ডালপালা।
বসে বসে মেলাই কাণ্ডহীন বৃক্ষের... ...বাকিটুকু পড়ুন

Good governance starts with respecting public money....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২১ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৬



Good governance starts with respecting public money....

গত দুই দশক রাষ্ট্রীয় সফর মানেই ছিল বিশাল বহর, শত শত সঙ্গী, অপ্রয়োজনীয় জাঁকজমক আর জনগণের টাকায় এক শ্রেণির মানুষের বিদেশ ভ্রমণের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইসলাম প্রতিষ্ঠায় যুদ্ধের প্রয়োজন নেই, ভালোবাসাই যথেষ্ট

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২১ শে জুন, ২০২৬ রাত ১১:৪৮



চীনের লিংশান পর্বতে শুয়ে আছেন ইসলামের শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ মুস্তফা (সাঃ)-এর দুই সাহাবী সা-কে-জু (Sa-Ke-Zu) এবং
উউ-কো-শুন (Wu-Ko-Shun)। এই নামেই তাঁদের চিনতো স্থানীয় চীনবাসীরা। অবাক হতে হয়, আরব... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রিয় সামু ব্লগারদের কাছে খোলা চিঠি.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২২ শে জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫০

প্রিয় সামু ব্লগারদের কাছে খোলা চিঠি.....

প্রিয় সহব্লগার,
একসময় সামু ছিল আমাদের ছোট্ট এক মহাবিশ্ব।
দৈনিক গড়ে তিন-চারশ' ব্লগার অনলাইনে থাকতেন। প্রতি মিনিটেই নতুন নতুন পোস্ট আসত। কেউ গল্প লিখছেন, কেউ কবিতা, কেউ... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ইউনিভার্সিটি অব চানখাঁরপুল

লিখেছেন রোকসানা লেইস, ২২ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:০৭



বাংলাদেশে শেষ কবে সিনেমা হলে গিয়ে মুভি দেখেছিলাম মনে নাই। গতকাল সন্ধ্যায় আমন্ত্রিত হয়ে গিয়েছিলাম, স্টার সিনেপ্লেক্স মুভি থিয়েটারে। এখন আর আগের মতন সিনেমা হল নেই। অনেক কিছু বদলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×