somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

ওয়েলকামজুয়েল
সত্য সদা সুন্দর চিরন্তন

প্রসঙ্গ : যুদ্ধাপরাধীদের বিচার। শেষ হতে সময় লাগবে ১৪৫ বছর

২৬ শে জুন, ২০১৪ রাত ৯:৫৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধের দায়ে এ পর্যন্ত দায়ের করা ৫৭৭টি মামলা মানবতাবিরোধী আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বর্তমান কাঠামো দিয়ে নিষ্পত্তি করতে লাগবে কমপক্ষে ১৪৫ বছর৷ এ কারণেই প্রয়োজন ট্রাইব্যুনাল এবং জনবল বাড়ানো৷আইনমন্ত্রী আনিসুল হক সংসদে জানান, সারা দেশে এ পর্যন্ত যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে ৫৭৭টি মামলা হয়েছে৷ এর মধ্যে ঢাকা বিভাগে ১১২, চট্টগ্রামে ৮৪, রাজশাহীতে ৬৬, খুলনায় ১৮৪, সিলেটে ৫০ এবং বরিশালে ৩০টি মামলা দায়ের করা হয়েছে৷ কিন্তু এ সব মামলা তদন্ত ও নিষ্পত্তির কোন পর্যায়ে আছে তা জানাননি আইনমন্ত্রী৷২০১০ সালের ২৫শে মার্চ ট্রাইব্যুনাল গঠন করার পর থেকে এ পর্যন্ত মোট ন'টি মামলায় ১০ জনকে দণ্ড দেয়া হয়েছে৷ এর মধ্যে মাত্র একটি মামলায় জামায়াত নেতা কাদের মোল্লার ফাঁসির দণ্ড কার্যকর হয়েছে৷ আর সাতটি মামলা আপিল বিভাগে রয়েছে৷ আপিল বিভাগে শুনানি শেষ হয়েছে মাওলানা দেলাওয়ার হোসেন সাঈদীর মামলার৷ এটি রায়ের জন্য অপেক্ষমান আছে৷ দুটি মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত তিনজন: সাবেক জামায়াত নেতা মাওলানা আবুল কালাম আজাদ, আশরাফুজ্জামান এবং চৌধুরী মঈনুদ্দিন পলাতক থাকায় তাঁর হয়ে আপিল করা হয়নি৷

অবশেষে ফাঁসি

৪৮ ঘণ্টা ধরে নানা নাটকীয় পরিস্থিতির পর ১২ ডিসেম্বর, বৃহস্পতিবার রাতে আব্দুল কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকর হয়৷ এর আগে মঙ্গলবার রাতে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের উদ্যোগ নেওয়া হলেও শেষ মুহূর্তে বিচারকের নির্দেশে তা স্থগিত হয়৷ মোল্লাকে এভাবে ফাঁসি না দিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিল জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশন, জার্মানি সহ অন্যান্যরা৷12345678910ট্রাব্যুনালে এখন তিনটি মামলার বিচার চলছে৷ এই তিনটি মামলার আসামি হলেন জামায়াত নেতা এটিএম আজহারুল ইসলাম, মাওলানা আব্দুস সোবহান এবং সাবেক মন্ত্রী সৈয়দ মোহাম্মদ কায়সার৷ মঙ্গলবার মতিউর রহমান নিজামীর রায় না হওয়ার এখন সেটা রায়ের জন্য অপেক্ষমান আছে৷ এছাড়া ট্রাইব্যুনালের তদন্তকারী সংস্থা আরো তিনিটি মামলার তদন্ত করছে বলে জানা গেছে৷ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট রাণা দাসগুপ্ত ডয়চে ভেলেকে জানান, ‘‘একটি ট্রাইব্যুনাল বছরে সর্বোচ্চ দুটি মামলার বিচার কাজ শেষ করতে পারে৷ সেই হিসেবে দুটি ট্রাইব্যুনালের পক্ষে বছরে চারটির বেশি মামলার নিষ্পত্তি সম্ভব নয়৷ ট্রাইব্যুনাল গঠনের পর গত চার বছরে নয়টি মামলার নিষ্পত্তি করেছে দু'টি ট্রাইব্যুনাল৷''তিনি বলেন, ‘‘যদি গাণিতিক হিসাব করা হয়, তাহলে যুদ্ধাপরাধের ৫৭৭টি মামলা ট্রাইব্যুনালের নিষ্পত্তি করতে কমপক্ষে ১৪৫ বছর লাগবে৷'' তবে বাস্তবে এই সময় আরো বেশি হবে বলে জানান তিনি৷ কারণ মামলার বিচারে আসার আগে তদন্তসহ আরো কাজ রয়েছে৷রাণা দাসগুপ্ত জানান, দুই ট্রাইব্যুনালে এখন ১৭ জন প্রসিকিউটর এবং চারজন বিচারক আছেন৷ তাঁর কথায়, ‘‘ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা এখন বাড়ানো দরকার৷ ভালো হতো যদি প্রত্যেক বিভাগে ট্রাইব্যুনাল খোলা যেত৷ কিন্তু ট্রাইব্যুনালের বিচারকরা যেহেতু হাইকোর্টের বিচারক, তাই বিভাগীয় শহরে ট্রাইব্যুনাল করা সম্ভব নয়৷''ট্রাইব্যুনালের প্রধান তদন্তকারী সানাউল হক ডয়চে ভেলেকে জানান, ‘‘আমরাও মনে করি এতগুলো মামলার তদন্ত শেষ করতে বছরের পর বছর লাগবে৷ কারণ তাদের মাত্র ১৪ জন তদন্ত কর্মকর্তা আছেন৷'' তিনি বলেন, এ জন্য তারা লোকবল চেয়ে আবেদন করেছেন৷ লোকবল হিসেবে ২৭৯ জনের জন্য অনুমোদন দেয়া হয়েছে৷ তাই তাদের নিয়োগ দেয়া হলে তদন্তে গতি আসবে৷তবে সানাউল হক মনে করেন, ‘‘৫৭৭টি মামলার প্রাথমিক তদন্ত শেষ করতে পারলে তাঁরা বুঝতে পারবেন আসলেই কত সময় লাগবে৷'' তাঁর ধারণা, ‘‘এর মধ্যে বেশ কিছু মামলা প্রাথমিক পর্যায়েই বাতিল হয়ে যাবে৷ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ গঠন এবং বিচারের প্রয়োজন পড়বে না৷''তিনি জানান, ট্রাইব্যুনাল গঠনের পর থেকে গত চার বছরে তাঁরা ৩০টি মামলার তদন্ত করেছেন৷ এবার নতুন লোকবল পেলে সব মামলার প্রাথমিক তদন্ত শেষ করে চূড়ান্ত তদন্তের জন্য তালিকা করবেন৷ সানাউল হকের কথায়, প্রাথমিক তদন্তের শেষ করলে বোঝা যেত টাইব্যুনালের সংখ্যা আসলে কতটা বাড়ানো দরকার৷
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে জুন, ২০১৪ রাত ১০:০৩
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফলে ট্রাম্প চাচা ট্রমার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৫


সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে ভোট দিয়ে এসে অনেকক্ষণ ধরেই অপক্ষো করছিলাম কখন সন্ধ্যা হবে সে প্রত্যাশায়। সন্ধ্যার পর মোটামুটি বসে গিয়েছিলাম ফলাফলের উপর টেলিভিশনে বিশেষ আলোচনা দেখার জন্য।... ...বাকিটুকু পড়ুন

"বন্ধ দুয়ার"

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:৫৪


"বন্ধ দুয়ার"

ক্লান্ত এ সপ্তাহে শুনি, আজ কারো কাজ নাই,
বন্ধ কারখানায় তালা, কোথা যাব তবে ভাই?
ছুটা বুয়া হয়ে খাটা, সে সুযোগও মেলা ভার,
তরুণী দেখিয়া মোরে, কেহ খোলে না যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্যালটের চিঠি: মাননীয় ট্রাম্প, আপনার বাকি বন্ধ

লিখেছেন নতুন নকিব, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৩

ব্যালটের চিঠি: মাননীয় ট্রাম্প, আপনার বাকি বন্ধ

ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

"আমেরিকাকে আবার মহান করব" বলে এসে যিনি দুনিয়ার সবাইকে বিরক্ত করলেন, ভোটাররা তাঁকে জানিয়ে দিলেন: হুমকি ধমকি আর উম্মাতাল আঁতলামির... ...বাকিটুকু পড়ুন

কোয়ান্টাম হৃদয়ে বিগ ব্যাং : স্পেস-টাইমের প্রেমকাব্য (আধুনিক ও রোমান্টিক)

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২০

কোয়ান্টাম হৃদয়ে বিগ ব্যাং : স্পেস-টাইমের প্রেমকাব্য (আধুনিক ও রোমান্টিক)
.................................................................................................................



কক্ষপথে ঘোরে আমার একলা মনের ইলেকট্রন,
নেগেটিভ চার্জে মেঘ জমেছে, খুঁজছে আজি কার্বন মাখা অন্যমন।
তুমি যখন পজিটিভ এনার্জিতে, এ... ...বাকিটুকু পড়ুন

পোড়ামাটি নীতি (Scorched Earth Policy).....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:৫৮



পোড়ামাটি নীতি (Scorched Earth Policy).....

একটি একটি সামরিক কৌশল। কোনো সামরিক বাহিনী যখন পিছু হটে বা শত্রুর আক্রমণ প্রতিহত করতে চায়, তখন তারা নিজেদেরই ফেলে যাওয়া এলাকার সমস্ত ফসল,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×