somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

তালপট্টি নিয়ে যত কথা : রাজনীতির কাছে দেশের সম্পদ বলি

১১ ই জুলাই, ২০১৪ ভোর ৪:০৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কথায় কথায় এখন আওয়ামী লীগ সরকার বলছে, তালপট্টি দ্বীপের কোনো অস্তিত্ব নেই। অথচ জিয়াউর রহমানের শাসনামলে ১৯৭৫ সালে এ সংক্রান্ত মানচিত্র প্রকাশ করা হয়েছিলো। রিয়ার এডমিরাল খুরশেদ সাহেব ওই সময়ে নৌবাহিনীতে কাজ করতেন। তিনি নৌবাহিনীর যুদ্ধ জাহাজ নিয়ে তালপট্টিতে অবস্থান নিয়েছিলেন। সেখানে একটি লাইট হাউজও স্থাপন করা হয়েছিলো। এখন তিনি ভিন্ন কথা বলেছেন। ১৯৭৫ সালের পরে জিয়াউর রহমান সার্ভে শুরু করলে ভারতীয় নৌবাহিনী কানাডিয়ান সার্ভে জাহাজকে তাড়া করে। পরে প্রেসিডেন্ট জিয়া দক্ষিণ তালপট্টির দিকে বাংলাদেশের নৌবাহিনীকে পাঠানোর উদ্যোগ নেন। ১৯৭৯ সালে বাংলাদেশ সফরের সময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোরারজি দেশাই’র সাথে জিয়াউর রহমানের এ ব্যাপারে আলোচনা হয়। তখন বাংলাদেশ সরকার তালপট্টির ব্যাপারে একটি যৌথ সমীক্ষার প্রস্তাব দেয়। তবে তালপট্টির মালিকানা নিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে প্রথমবিরোধ দেখা দেয় ১৯৮০ সালে। পরে ১৯৮০ সালে এক যৌথ বিবৃতি দেয় দু’দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
তাতে বলা হয়, 
The question of the newly emerged island(s) (New Moore/South Talpatty/Purbasha) at the estuary of the border river Hariabhanga was also discussed. The two sides agreed that after study of the additional information exchanged between the two governments, further discussion would take place with a view to settling it peacefully at an early date..’ 
কিন্তু সেই বিবৃতি ভুলে ১৯৮০ সালের ২০ ডিসেম্বর ভারতের তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভারতের রাজ্য সভায় ঘোষণা করেন, দক্ষিণ তালপট্টি দ্বীপ ভারতের। এর জবাবে বাংলাদেশের তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী শামসুল হক ৩০ ডিসেম্বর বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে বলেন, দক্ষিণ তালপট্টি দ্বীপ বাংলাদেশের। এরপর ১৯৮১ সালের ৯ মে ভারত দক্ষিণ তালপট্টিতে আইএনএস সন্ধ্যায়ক নামে নৌ-বাহিনীর এক জাহাজ পাঠিয়ে ভারতের পতাকা উত্তোলন করে। বাংলাদেশ এর তীব্র প্রতিবাদ করে। তার কিছু পরে ভারত সেখান থেকে সৈন্য প্রত্যাহার করে। তবে পরবর্তী সময়ে দু’দেশের শীর্ষ বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় জাতিসংঘের ল’ অব দ্যা সি অনুযায়ী’ তালপট্টি দ্বীপের মালিকানা মীমাংসিত হবে। এরপর ২৩ মে বাংলাদেশের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বিএনপি’র জাতীয় কমিটির বর্ধিত সভায় বলেছিলেন, দক্ষিণ তালপট্টি দ্বীপের সমস্যা সমাধানে উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। এরপর ৩০ মে তিনি চট্টগ্রামে মর্মান্তিকভাবে শাহদাত বরণ করেন।
বিএনপি শাসনামলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আলাদা মেরিটাইম সেল, দক্ষ জনবল নিয়োগ, একটি আলাদা ভবনসহ বিশেষজ্ঞদের যুক্তরাষ্ট্রে পাঠিয়ে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছিলো। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নির্দেশেই মন্ত্রী ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নেতৃত্বে একটি জাতীয় কমিটিও গঠন করা হয়েছিলো। যাতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পেট্রোবাংলা, নৌবাহিনী, জরিপ অধিদপ্তর, ম্পার্সোসহ ৭টি প্রতিষ্ঠান যুক্ত ছিলো। ওই সময়ে সমুদ্রের বিষয়ে কোনো প্রকৃত তথ্য ছিলো না। কেবল তাই নয়, সেময় সমুদ্রে জাহাজ নিয়ে জরিপও চালানো হয়েছিলো।সোচ্চারের পর নমনীয় বিএনপি প্রসঙ্গে বলেন, তালপট্টি আমাদের জাতীয় সম্পদ। ভারত এই সীমানার দাবি করে আসছিলো; কিন্তু গত ৪০ বছর আমরা তা মেনে নেইনি। আজ জাতীয় সম্পদ নিয়ে জাতীয়ভাবে সোচ্চার হওয়ার কথা ছিলো। কারণ এটি আমাদের কাছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের আমানত। দেশের স্বার্থ দেখার দরকার ছিলো। এই সংক্রান্ত বিষয়ে বিজ্ঞ এই আইনজীবীর ভাষায় তোষামোর রাজনীতিতে জাতীয় স্বার্থ বিসর্জন চলছে।
৯টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পরিস্থিতি কি জটিল?

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৫৯

বাইরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে বসে আছি, অথচ বাইরে পুলিশের সাউন্ড গ্রেনেড আর টিয়ার গ্যাসের শব্দে চারদিক প্রকম্পিত! মিরপুরে আমার বাসার কাছেই মেট্রো রেলের নিচে আগুন দেওয়া হয়েছে; কিছুক্ষণের জন্য মেট্রো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ২০৩

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৯



খাওয়া দাওয়া করাটা আজকাল বিরক্তকর লাগে।
কিন্তু মানুষের বেঁচে থাকতে হলে- খেতে হবে। না খেলে শরীর দুর্বল হয়ে যাবে। প্রিয় খাবার গুলোও খেতে ইচ্ছা করে না। ভালো লাগে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজ আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচন কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৬


এই লেখাটি যখন লিখছি, তখন এই গুজবটি ছড়িয়ে পড়েছে যে, ইসরায়েল ট্রাম্পকে রাজি করিয়েছে, যাতে মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই আমেরিকা ইরানে পারমাণবিক বোমা হামলা করে। বিগত বছরগুলোতে ইসরাইল সারা বিশ্বের... ...বাকিটুকু পড়ুন

Haze দমনে সিঙ্গাপুরের কুটনৈতিক দক্ষতা

লিখেছেন ঢাবিয়ান, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৩১

সিঙ্গাপুর সাম্প্রতিককালে স্মরনকালের ভয়াবহ Haze (ধোঁয়াশা ও বায়ুদূষণ) এর কবলে পড়ে। সেপ্টেম্বরের শুরুতেই সারা শহর ঘন ধোয়ার আবরনে ঢেকে যায়। জানালা দিয়ে বাইরে তাকালে মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনার বেঁচে থাকাই তাদের ভয়ের কারণ॥

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ২:৫১





শেখ হাসিনার বেঁচে থাকা নিয়ে আক্ষেপ কেন? একটি রাজনৈতিক সমীকরণের বিশ্লেষণ

সম্প্রতি তারেক রহমানের উপদেষ্টা জাহেদুর রহমানের একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে আলোচনা শুরু হয়েছে - "শেখ হাসিনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×