somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মুসলমানদের ঐক্যবদ্ধতাই ইসরায়েলের বড় শত্রু

১৪ ই জুলাই, ২০১৪ রাত ১:১৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মুসলমানদের পবিত্র সিয়াম সাধনার মাসে ইসরাইলের আগ্রাসন, হামলা, হত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞের বিরুদ্ধে বিশ্বজুড়ে নিন্দা ও ধিক্কার ধ্বনি উচ্চারিত হচ্ছে। প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, অন্যান্য ইউরোপীয় দেশ, মধ্যপ্রাচ্যসহ মুসলিম দেশগুলোতে প্রতিবাদ, সমাবেশ ও মিছিল হয়েছে। অবিলম্বে হত্যা ও দমন-দলন বন্ধের দাবি জানানো হয়েছে। সম্ভবত: ইসরাইল এ রকম একটি হত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর প্রতীক্ষায় ছিল। ফিলিস্তিনে ফাতাহ-হামাস ঐকমত্যের সরকার হওয়ার পর ইসরাইলি নেতারা যেভাবে একের পর এক অসহিষ্ণু ও উস্কানিমূলক মন্তব্য করেছিলেন তাতেই মনে হচ্ছিল অচিরেই হয়তো মুখের ভাষা অস্ত্রের ভাষায় রূপ নেবে। বাস্তবেও তা-ই হয়েছে। বলা হয়েছে, হামাসের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রতিশোধ নিতেই ইসরাইল গাজায় হামলা শুরু করেছে। তথ্যগতভাবে কথাটি ঠিক। কিন্তু তার আগেও কথা আছে। ইসরাইলের তিন ইহুদি কিশোরকে কে বা কারা অপহরণ ও হত্যা করে। এর প্রতিশোধ হিসেবে ফিলিস্তিনি এক কিশোরকে অপহরণ করে পুড়িয়ে মারা হয়। এতে যে প্রতিবাদ, প্রতিক্রিয়া ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয় তার জের ধরেই গাজায় আগ্রাসন, হামলা ও হত্যা  এবং ধ্বংসযজ্ঞের  অবতারণা হয়েছে। সহসা তার অবসান ঘটবে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর উদ্ধৃত ইসরাইলি কথাবার্তা ও পদক্ষেপ থেকে সেটা মনে হচ্ছে না। আসলে ফিলিস্তিনে ফাতাহ-হামাস ঐকমত্যের সরকার এক বিরাট রাজনৈতিক উন্নয়নের নজির। ফাতাহ-হামাস বিরোধে লাভবান হচ্ছিল ইসরাইল। তাদের ঐক্য ও সংহতি ফিলিস্তিনিদের অধিকার আদায় ও স্বাধীনতার প্রত্যাশা পূরণ ত্বরান্বিত করতে পারে, এ কথা সবারই জানা। ফিলিস্তিনীরা দীর্ঘদিন ধরে এই ঐক্য-সংহতির প্রত্যাশা করে আসছিল। সে ক্ষেত্রে ইসরাইল ফাতাহ-হামাস সরকারকে কীভাবে স্থায়ী ও কার্যকর হতে দিতে পারে? পারে না বলেই এই হামলা, হত্যা ও ধ্বংসকা-।ইসরাইল ফাতাহ-হামাস ঐক্য-সংহতি স্থায়ী ও দৃঢ় হওয়ার আগেই তা অফলপ্রসূ ও নস্যাৎ করে দেয়ার লক্ষ্যেই এই হামলা ও নৃশংসতার তা-ব শুরু করেছে। ইসরাইলের তরফে আগেই বলা হয়েছিল, ফাতাহ-হামাস ঐকমত্যের সরকার হলে তারা শান্তি আলোচনায় বসবে না। গত এপ্রিলে ঐকমত্যের সরকারের সম্ভাবনা নিশ্চিত হওয়ামাত্র ইসরাইল শান্তি আলোচনা থেকে নিজেকে সরিয়ে নেয়। চলমান ইসরাইলি হামলার প্রেক্ষাপটে শান্তি আলোচনায় উভয় পক্ষের ফিরে আসার সম্ভাবনা অনিশ্চিত হয়ে গেছে। স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র সুপ্রতিষ্ঠিত হোক, ইসরাইল কখনোই তা চায় না।চাইলে বিগত ৬৬ বছরেও তা না হওয়ার কারণ থাকতে পারে না। অন্যদিকে একদা ফাতাহসহ ফিলিস্তিনিদের কোনো সংগঠনই ইসরাইলের অস্তিত্ব স্বীকার করতো না। এখন একমাত্র হামাসই ইসরাইলকে স্বীকার করে না। অথচ সেই হামাস যখন ঐকমত্যের সরকার গঠন করে তখন অনুমিত হয়, হামাস হয়তো পূর্বের কঠোর অবস্থানে নেই। মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার-প্রয়াস প্রচেষ্টার ধারায় হামাসের এই নমনীয় মনোভাব ইতিবাচক। ইসরাইল তা নস্যাৎ করে দেয়ার পথ বেছে নিয়েছে। দুঃখজনক হলেও বলতে হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা বিশ্ব ইসরাইল নামের এই ভূইফোঁড় ইহুদি রাষ্ট্রটি প্রতিষ্ঠাই করেনি, তাকে অন্ধ সমর্থন ও সহযোগিতা দিয়ে এখন পর্যন্ত টিকিয়ে রেখেছে। যুদ্ধ বন্ধে অস্বীকৃতি জানিয়ে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যে ঔদ্ধত্য দেখিয়েছেন, তার উৎস কোথায় তা বুঝতে না পারার কিছু নেই। যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমাবিশ্ব ইহুদি তোষণ বন্ধ করলে এবং ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় আন্তরিক হলে মধ্যপ্রাচ্য সমস্যা এত প্রলম্বিত হতে পারতো না। এখনও ফিলিস্তিনের পক্ষে যতটা বলা হচ্ছে, তার মধ্যে আন্তরিকতার ছোঁয়া কম। এই লিপ সার্ভিস না দিয়ে তাদের, জাতিসংঘের এবং মুসলিম বিশ্বের উচিত অসহায় ফিলিস্তিনিদের পাশে দাঁড়ানো। যে কোনো মূল্য মুসলিম নিধন বন্ধ করতে ইসরাইলকে বাধ্য করা। শান্তি নিরাপত্তা ও মানবাধিকার সুরক্ষায় ইসরাইলকে অবশ্যই রুখতে হবে, এর বিকল্প নেই।
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পরিস্থিতি কি জটিল?

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৫৯

বাইরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে বসে আছি, অথচ বাইরে পুলিশের সাউন্ড গ্রেনেড আর টিয়ার গ্যাসের শব্দে চারদিক প্রকম্পিত! মিরপুরে আমার বাসার কাছেই মেট্রো রেলের নিচে আগুন দেওয়া হয়েছে; কিছুক্ষণের জন্য মেট্রো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ২০৩

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৯



খাওয়া দাওয়া করাটা আজকাল বিরক্তকর লাগে।
কিন্তু মানুষের বেঁচে থাকতে হলে- খেতে হবে। না খেলে শরীর দুর্বল হয়ে যাবে। প্রিয় খাবার গুলোও খেতে ইচ্ছা করে না। ভালো লাগে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজ আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচন কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৬


এই লেখাটি যখন লিখছি, তখন এই গুজবটি ছড়িয়ে পড়েছে যে, ইসরায়েল ট্রাম্পকে রাজি করিয়েছে, যাতে মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই আমেরিকা ইরানে পারমাণবিক বোমা হামলা করে। বিগত বছরগুলোতে ইসরাইল সারা বিশ্বের... ...বাকিটুকু পড়ুন

Haze দমনে সিঙ্গাপুরের কুটনৈতিক দক্ষতা

লিখেছেন ঢাবিয়ান, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৩১

সিঙ্গাপুর সাম্প্রতিককালে স্মরনকালের ভয়াবহ Haze (ধোঁয়াশা ও বায়ুদূষণ) এর কবলে পড়ে। সেপ্টেম্বরের শুরুতেই সারা শহর ঘন ধোয়ার আবরনে ঢেকে যায়। জানালা দিয়ে বাইরে তাকালে মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনার বেঁচে থাকাই তাদের ভয়ের কারণ॥

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ২:৫১





শেখ হাসিনার বেঁচে থাকা নিয়ে আক্ষেপ কেন? একটি রাজনৈতিক সমীকরণের বিশ্লেষণ

সম্প্রতি তারেক রহমানের উপদেষ্টা জাহেদুর রহমানের একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে আলোচনা শুরু হয়েছে - "শেখ হাসিনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×