somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বিশ্ব রাজনীতিতে বাংলাদেশ : বর্তমান ভবিষ্যৎ (২)

০২ রা জানুয়ারি, ২০১৫ বিকাল ৫:১৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

নাটকীয়তায় ভরা সিনেমার মতো অতি দ্রুত ঘটনার আমূল পরিবর্তন-প্রসূত অপার বিস্ময়বোধের মধ্য দিয়ে কেটে যাওয়া এই ঈসায়ী সন দুই হাজার চৌদ্দকে ভালো, খারাপ উভয় বিশেষণের ছোঁয়াচ থেকে নাহয় দূরেই রাখলাম!

আল্লাহ হকের হাকিম। নতুন ঈসায়ী বছর সবার জন্য ভালো কাটুক। আমার পরিবার, বন্ধু, সুহূদ, সহকর্মী, সহমর্মী, সমাজ, জাতি, রাষ্ট্র সকলের জন্য আল্লাহর কাছে নিষ্কলুষ মঙ্গল কামনা করি...
যাই হোক প্রাসঙ্গিক বিষয়ে আসি
গত বছরের শেষ সপ্তাহে ঢাকা সফরে এসেছিলেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। নজিরবিহীনভাবে কাঠমান্ডু থেকে বাংলাদেশ বিমানের নিয়মিত ফ্লাইটে চেপেই তিনি ঢাকা আসেন। বাহ্যত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এ সফরে বাংলার সার্বিক সক্ষমতা বিনির্মাণে চীনা সম্পৃক্ততা আরো বৃদ্ধির নিদর্শন দেখা গেছে, যা ভবিষ্যতে এদেশে চীনা প্রভাবের ব্যাপক বৃদ্ধিরই ইঙ্গিতবাহী।

বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতির এই শীর্ষ কূটনীতিকের তিন দিনের ঢাকা সফরে বেশ কিছু স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সমঝোতা স্হাপন পর্যায়ের অগ্রগতি হয়েছে। শোনা যাচ্ছে, নৌবাহিনীকে সজ্জিত করতে বেইজিংয়ের সাথে ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের চুক্তি করবে বাংলাদেশ। এই চুক্তির আওতায় অত্যাধুনিক রণতরী ও সমরাস্ত্র বিক্রয় ছাড়াও পায়রা বন্দরের কাছে প্রস্তাবিত শের-ই-বাংলা নৌঘাঁটি ও পেকুয়ায় সাবমেরিন ঘাঁটি নির্মাণে সাহায্য প্রদান করবে চীন। শের-ই-বাংলা নৌঘাঁটি নির্মাণ শেষে হবে দেশের বৃহত্তম নৌঘাঁটি।

এছাড়াও কৃষি গবেষণায় চীনের প্রভাব বৃদ্ধির আলামত হিসেবে চীন বাংলাদেশে একটি উচ্চ ফলনশীন ধানের গবেষণাকেন্দ্র করতে আগ্রহ দেখিয়েছে। অর্থাৎ সামরিক খাতের পর কৃষি খাতেও চীনা প্রভাব বাড়তে যাচ্ছে। দেশের বাণিজ্য ও অর্থনীতিতে চীনা প্রভাব বৃদ্ধির আরেক অনুঘটক হিসেবে বেইজিং প্রস্তাব করেছে চীন ও বাংলাদেশের মধ্যে একটি মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল চুক্তির।

আমার অতীতের অসংখ্য সংলগ্ন ও অসংলগ্ন পোষ্ট যদি কেউ হাতড়ায়, তাহলে দেখতে পাবে, বেশ কয়েকবারই আমি সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা ও আসিয়ানে বাংলাদেশের যতো তাড়াতাড়ি সম্ভব যোগদানের উপর গুরুত্বারোপ করে পোস্ট লিখেছি। যে কয়টি আন্তর্জাতিক সংঘে অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক ও ভূরাজনৈতিক কারণে বাংলাদেশের যোগদান ফরজ বলে আমি মনে করি, সাংহাই সংঘ ও আসিয়ান তাদের মধ্যে শীর্ষে আছে।

বস্তুত, চীন, রাশিয়া, সহ ইউরেশীয় জমিনের বেশ কয়েকটি দেশ নিয়ে গঠিত সাংহাই জোট এখনো ততো সক্রিয় না হলেও এটি ইতোমধ্যেই একটি ঐক্যবদ্ধ ইউরেশীয় সামরিক ও অর্থনৈতিক জোটে পরিণত হবার লক্ষণাক্রান্ত। সাম্প্রতিক বৈশ্বিক প্রক্ষাপটে চীন, রাশিয়া, তুরস্কের মতো সম্ভাবনাময় ইউরেশীয় শক্তিগুলোর নবজাগরণের প্রেক্ষাপটে সাংহাই সংঘের সম্ভাবনা ও গুরুত্ব হয়ে গেছে আকাশচুম্বী; সম্ভবত এই মুহূর্তে অন্য যেকোন আন্তর্জাতিক জোটের চেয়ে বেশি। এই সংঘ ও প্রাচ্যের সফল অর্থনৈতিক সংঘ আসিয়ানে পূর্ণ সদস্য হিসেবে যোগ দেয়া এখন আমাদের জন্য অবশ্য পালনীয়।

চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এই দুই সংস্থায় বাংলাদেশের যোগদানে সাহায্য করার ওয়াদা দিয়ে গেছেন।

বস্তুত, ওয়াং ইর এই সফরে তেমন কোন ভৌত অগ্রগতি না থাকলেও উপরিউক্ত বিষয়গুলোর আলোচনা হওয়াটা গুরুত্বের দাবীদার। যেসব বিষয়ে চীনের সাথে বাংলাদেশের আলোচনা চললো, সেসব বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশে মার্কিন প্রভাব তো বটেই, ভারতীয় প্রভাবও কমে যাবে। ফলে ভূরাজনৈতিক দিক থেকে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই সফর বেশ স্পর্শকাতর। বিশেষত, বাংলাদেশ গভীর সমুদ্রে নিজেদের সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর যে সংকল্প করেছে, চীন যেন তাতে নিবিড় সহযোগী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। আর আন্ধারমাণিক ও কুতুবদিয়া প্রণালীতে দুটি গুরুত্বপূর্ণ নৌঘাঁটি যদি সত্যিই চীন নির্মাণের দায়িত্ব পায়, তাহলে বঙ্গোপসাগরে আমেরিকার প্রবেশের সম্ভাবনায় মোহর পড়বে, আর ভারত নিজেকে জলে-স্থলে চীন কতৃক সম্পূর্ণ ঘেরাও অবস্থায় দেখতে পাবে। কার্যত নিজের পেটের ভেতর বঙ্গোপসাগরে চীনের শক্তিশালী সামরিক প্রভাব দিল্লীর জন্য অত্যন্ত অস্বস্তিকর। যার পারিপার্শ্বিক প্রভাব ও প্রতিক্রিয়া সহজেই অনুমেয়।

তবে এক্ষেত্রে প্রণিধানযোগ্য বিষয় হচ্ছে, এই সফরে সোনাদিয়ায় প্রস্তাবিত গভীর সমুদ্রবন্দর, যা নির্মাণে চীনের আগ্রহের কথা সুবিদিত, সে ব্যাপারে আলোচনা হয়নি। দৃশ্যত চীন দুটি নৌঘাঁটি নির্মাণের দায়িত্ব পেয়েই যেন খুশি। তবে আসলেই কি তাই?

এজন্যই ব্যাপক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হওয়া, এবং ওয়াং ইর এই সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশকে ঘিরে ওয়াশিংটন ও দিল্লীর দুশ্চিন্তা আরো বেড়ে যাওয়ার ক্ষেত্র গোচরীভূত হলেও আপাতত এই সফরের খুব একটা ভৌত বা বাস্তব প্রাপ্তি এখনো আমি দেখিনা। তবে এই সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশের সামনে প্রকাশ্য হওয়া সুবর্ণ সুযোগকে কাজে লাগানোর নতুন এক চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি হয়েছে, যা হাতছাড়া করা আর আত্মহত্যা করা মোটামুটি কাছাকাছি প্রতিশব্দ...!
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

=মনের হিংসা দূর করো রব=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:২৯


তবুও হিংসা এসে যায় কারণে অকারণে;
পারি না সামলাতে মন আমার - ইয়া রব,
নিতে পারি না সহজ করে কিছু
মনের কিনারে ভাঙ্গে হুড়মুড় স্বার্থের কলরব।

স্বচ্ছ মনের মানুষ কী করে হই,
সহজরে করে ফেলি... ...বাকিটুকু পড়ুন

সৌদি প্রবাসীর মৃত্যুদন্ড ও রটানো গুজব

লিখেছেন মঞ্জুর চৌধুরী, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:২২

আপনি যে দেশে যাবেন, সেই দেশের আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রাখাটা আপনার দায়িত্ব।
আমেরিকায় আপনি মদ কিনতে পারবেন। কিন্তু আপনার বয়স অবশ্যই ন্যূনতম ২১ হতে হবে। ইউরোপে হয়তো এই বয়সটা ১৮।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের জেন-জি ইন্ডিয়ার ককরো...

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:৫২

বাংলাদেশের জেন-জি ইন্ডিয়ার ককরোচ.....

বিপ্লবের লক্ষ্য কী- পরিবর্তন, নাকি প্রদর্শন?
বাংলাদেশে জেন-জি স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়েছে; কিন্তু প্রশ্ন- স্বৈরাচার গেছে, স্বৈরাচারী মানসিকতা কি গেছে?
যে তরুণ প্রজন্ম গণতন্ত্র, অধিকার ও মর্যাদার দাবিতে রাজপথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

রম্য: পর্নের সেকাল একাল!

লিখেছেন গেছো দাদা, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৬

গুরুত্বপূর্ণ একটা টপিক নিয়ে অনেকদিন ধরে লিখব লিখব করছিলাম। সময় হচ্ছিল না। আজ এই গভীর রাতে মনে হলো, লিখেই ফেলি। কেন মনে হলো, সে আলাপে আর না যাই। টপিক হলো:... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেশভাগ এবং ধর্ম- অধর্ম

লিখেছেন রাজীব নুর, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২৪



শীতের শেষে সমস্ত গাছের পাতা ঝরে পড়ে।
তখন পাতা ছাড়া গাছ একদম রুগ্ন মনে হয়। শুকনো পাতা দিয়ে মাটির পথ ঢেকে যায়। সেই পথ দিয়ে কোনো পথিক হেটে গেলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×