somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একজন লেখক ও তার লেখনি

০১ লা এপ্রিল, ২০১৫ রাত ১০:০৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ইতিহাস বিষয়ক অনুবাদ গ্রন্থটির নাম 'মুঘল শাসনব্যবস্থা'। লেখক হরি শংকর শ্রীবাস্তব। তিনি ভারতের উত্তর প্রদেশের গোরক্ষপুর দিনদয়াল উপাধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ছিলেন। এই বইটির কথা আগেও কয়েকবার শুনেছি। তাছাড়া এতে মুঘল শাসনামলের রাজনৈতিক ইতিহাসের বদলে প্রশাসনিক ও শাসনতান্ত্রিক বিষয়াবলী থাকাতেই বইটি আমি অর্ডার দেই। বইটি হাতে পাবার পর এখন একটু উল্টেপাল্টে দেখছি। অল্প কিছু পড়েই আমি বিস্মিত হয়েছি এতে ইসলামের প্রতি লেখকের প্রগাঢ় শ্রদ্ধার ভাষা দেখে। এমনকি বইটির লেখকের নাম জানা না থাকলে আমি বিশ্বাসই করতাম না যে এটা কোন অমুসলিম লেখকের বই!

যেমন বইটির উপক্রমণিকার এক স্থানে তিনি লিখেছেন, "এদেশে মুসলমানরা এনেছিলেন উন্নততর ধর্ম ও শাসনব্যবস্থা। ... এতে কোন সন্দেহ নেই যে, মুসলমানদের শাসন ছিলো কল্যাণকর। অন্যান্য সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলোর মতো তাঁরা এদেশের সম্পদ পাচার করেননি, বরং এদেশকে নিজের মাতৃভূমির মতো দেখেছেন, শাসন করেছেন, এবং এখানেই সমাহিত হয়েছেন। রাজনৈতিক ডামাডোল, হানাহানি ছিলো 'রাজায় রাজায় যুদ্ধ'। দেশের প্রজা সাধারণ তার দ্বারা ক্ষতিগ্রস্থ হয়নি।"

আবার আরেক স্থানে সম্রাট শের শাহ সুরের প্রশংসা করতে গিয়ে তাঁকে হযরত উমার (রা:) এর সাথে তুলনা করার চেষ্টাকালে হরি শংকর শ্রীবাস্তবের ভাষা- "প্রথমত উল্লেখ্য যে, হযরত উমরের সঙ্গে ইতিহাসের শাসককুলের কারোরই কোন তুলনা করা যায়না। মানবজাতির ধারাবাহিক ইতিহাস সম্পর্কে যাদের অন্তরঙ্গ পরিচিতি আছে, এ সত্য তারা কেউ অস্বীকার করতে পারেন না।... আমরা অত্যন্ত বেদনাভারাক্রান্ত চিত্তে হযরত উমরকে আবারো স্মরণ করি। সেই ক্ষণজন্মা মহাপুরুষ খেলাফত লাভের অল্প কয়েক বছর পর অাততায়ীর হস্তে অপঘাতে শাহাদাত বরণ করেছিলেন। আমরা অত্যন্ত বেদনাভারাক্রান্ত চিত্তে আবারও বলছি, হযরত উমরের এ অকাল মৃত্যুতে মুসলিমবিশ্ব যে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছিলো, সে ক্ষতি আজো অপূরণীয় রয়ে গেছে।"

আমি হরি শংকর শ্রীবাস্তব সম্পর্কে বলতে গেলে কিছুই জানিনা। তবে ওনার লেখা পড়ে আমার মনে ভাবান্তর হলো। তিনি সেই দেশেরই মানুষ, সেই ধর্মগোষ্ঠীরই অন্তর্গত, যাদের একাংশ আজ গরুর মুত্র পান করে, অথবা চিড়িয়াখানার মাংশাসী প্রাণীদেরও মাছ, পাখির গোশত খেতে দিয়ে নিজেদের হাস্যস্পদ বস্তুতে রূপান্তর করেও তাদের মুসলিমবিদ্বেষের কথা বিশ্বকে জানান দিতে ব্যাকুল। আমাদের দেশেও কতিপয় ইসলামবিদ্বেষী লেখকের অপঘাতে মৃত্যুতে শোকের ভান করা কতিপয় ব্যক্তি প্রকাশ্যে, অথবা ইনিয়েবিনিয়ে ওই ইসলামেরই পিণ্ডি চটকাচ্ছে। বলা বাহুল্য, এতে করে এদেশেও ছাইচাপা আগুনের মতো জাতিগত বিদ্বেষ ঘণীভূত হচ্ছে। যার নমুনা ফেবুতে এলে প্রতিদিনই দেখতে পাই।

এমতাবস্থায় শ্রীবাস্তব পদবীধারী একজন লেখকের বইয়ে ইসলামের এমন প্রশস্তিগাঁথা পড়ে ভাবছি, বহুত্ববাদী সমাজের আসলে দুটি দিক থাকে। মানুষ যদি দুটি দিক সম্পর্কেই সম্মক অবগত থাকে, তাহলে তার মনোজগত উদার হয়। পাশাপাশি পৃথিবীও অধিকতর শান্তির স্থান হয়। একই সমাজে ভালো, খারাপ, গাড়ল, বুদ্ধিমান সবধরণের আত্মারই একটা সহাবস্থান থাকে। এভাবে সকল বিষয়কে পর্যবেক্ষণ করতে শিখলে ক্রোধের পাগলা ঘোড়ায় লাগাম দেয়া যায়। মনের প্রতিক্রিয়াশীলতা কমে আসে। জাতিগত বিদ্বেষ ও প্রতিক্রিয়াশীলতা মুখ্যত একটি ছোঁয়াচে মহামারীর মতো বিষয়। এটা মানুষ থেকে মানুষে ছড়ায়। মনোজগত উদার এবং মস্তিষ্কজগত বুদ্ধিদীপ্ত ও কৌশলী হলে এই মহামারী ছড়ানোর সময়ই বাঁধাপ্রাপ্ত হয়...।
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৪৮

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি....

বন্দর শুধু রাজস্ব আয়ের প্রতিষ্ঠান নয়; এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ প্রতিযোগিতার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।
বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামহোয়্যারইন ব্লগের সেরা ব্লগার

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:০৮



আমাদের দেশে যে কোনো ক্রিটিক্যাল সময়ে লক্ষ্য করা যায় কোনো না কোনো পণ্যের অভাব লেগে গিয়েছে। কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, ভোজ্য তৈল এমনকি রিলিফ গায়েব হয়ে যায়। বন্যায় আক্রান্ত বন্যায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

তৌহিদি জনতা কবে দেশ রক্ষায় আন্দোলনে নামবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:০১


আলহামদুলিল্লাহ। তৌহিদি জনতার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুনামগঞ্জে মেয়েদের একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ বন্ধ করা গেছে। ইসলামের দৃষ্টিতে মেয়েদের খেলাধুলা নিষিদ্ধ এবং অশ্লীল কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়। সুনামগঞ্জের মাটিতে এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কি আসলেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:৪৪



“রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন “, “মূর্খের দেশে আবার কীসের বিশ্ববিদ্যালয়” – এসব প্রচারণা আমাদের দেশে অনেকদিন ধরেই হয়ে আসছে। বিশেষ করে ফেসবুকে আকছারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ঃ নদী-নালায় ভেসে থাকা স্বদেশের কান্নাঃ শহীদদের প্রতি নিবেদিত একটি কাব্যগাথা জাতির রক্ত, অশ্রু ও স্বাধীনতার অমর ইতিহাস

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:০৫


পঁচিশে মার্চ ১৯৭১
রাত্রি তখন গভীর, নগরীর বাতিগুলো
যেন অনাগত বিপদের সামনে অসহায়
ঢাকার আকাশে হঠাৎ গর্জে উঠল কামান
ট্যাংকের চাকার নিচে কেঁপে উঠল রাজপথ
গুলি ছুটে গেল মানুষের ঘুমন্ত জানালায়
আগুন ছড়িয়ে পড়ল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×