"... ভাজপা'র (ভারতীয় জনতা পার্টি - বিজেপি) জনপ্রিয়তা ভারতের ইতিহাসে মর্যাদার ব্যঞ্জনা কি মঙ্গলের দ্যোতনা কি শুভ সূচনা সেই বিচারের মধ্যে না গিয়েও বলা যায় যে "মন্দির ওয়হিঁ বনায়েঙ্গে" এই একটাই মন্ত্রের জোরে তার অভাবিত বিরাট প্রাসাদ গড়ে উঠেছে ভারতের বিখ্যাত হিন্দি বলয়ের উপরে। আর ওই মন্ত্রের তাৎপর্য হল বাবরি মসজিদের ধ্বংস সাধন যা বাস্তবে রূপায়িত হল ১৯৯২-এর ৬ ডিসেম্বর।
একথা বলা হয় বটে যে হিন্দু মৌলবাদী শক্তির হিংস্র জনতা মসজিদ চূর্ণ করেছে, কিন্তু ঘটনা এই যে মসজিদ ভাঙার জন্য হাজার হাজার করসেবক পাওয়া গেছে, শত শত মাইল পার হয়ে দেশের নানা স্থান থেকে তারা মসজিদ ভাঙার জন্য পরম উৎসাহে অযোধ্যায় ফৈজাবাদে সমবেত হয়েছে, সেখানে তারা একত্র হয়ে পরিণত হয়েছে হিংস্র জনতায়, তারপর সেই জনতা দিনের আলোয় সবার চোখের সামনে প্রচন্ড উল্লাসে মসজিদ ভেঙেছে। মনকে চোখ না ঠেরে যদি আমরা বাস্তব সত্যকে প্রত্যক্ষ করতে চাই তাহলে দেখব যে ভারতীয় বৈচিত্রের মধ্যে ঐক্যের, শ্রীরামকৃষ্ণের যত মত তত পথের, রবীন্দ্রনাথের ভারততীর্থের, গান্ধীর অহিংসা ও সত্যাগ্রহের, সংবিধানের সেকিউলারিজমের সমস্ত আদর্শ ও দর্শন, সমস্ত বিচার ও বিশ্বাস, সমস্ত যুক্তি ও সত্ত্বের বিরুদ্ধে যে-অভিযান শুরু হয়েছিল তার চূড়ান্ত সাফল্য সাধিত হল বিরানব্বইয়ের ছয়ই ডিসেম্বর।
আমরা যদি মহাত্মা গান্ধীকে হত্যা থেকে বাবরি মসজিদের ধ্বংস পর্যন্ত ভারতের রাজনৈতিক ও সামাজিক জীবনের পর্দা সরিয়ে তাকাই তাহলে দেখব যে, এই ৪৪ বছর ধরে মিথ্যা ও হত্যার, দুর্নীতি ও হিংস্রতার, পেশীশক্তি ও বিত্তশক্তির এক বিচিত্র জয়যাত্রা নির্গত হয়েছে ভারতের রাজপথে। যারা ওই রাজপথের উদ্দাম জয়যাত্রার শামিল নয়, যারা আপন বিচার অনুসারে অন্যপথে চলতে চায়, যারা স্বতন্ত্র জীবনযাপন করতে চায়, যারা রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ বা ভারতীয় জনতা পার্টি বা শিবসেনা বা বিশ্ব হিন্দু পরিষদ নির্ধারিত হিন্দুত্ব থেকে স্বাধীনভাবে জীবনযাপন করতে চায় আজ তারা সবাই ভারতীয় জনতার শত্রু বলে পরিগণ্য ও তারা সবাই বিপন্ন এবং বিপন্নদের প্রথম সারিতেই আছে ভারতীয় মুসলমানগণ॥"
- সুরজিত দাস গুপ্ত / ভারতীয় মুসলমানদের সংকট ও সমস্যা ॥ [ ইতিহাস সংকলন, প্রণয়ন ও গবেষনা সংস্থা - জানুয়ারি, ২০০৮ । পৃ: ১০৩ ]

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




