সেলিম আমার মামা হলেও সমবয়সী। ইবনে সিনা কোম্পানীর নাজিরহাট জোনের মেডিক্যাল রিপ্রেজেন্টিভ হিসেবে কাজ করে। অনেকদিন ধরে ভাবছিলাম তার ওখান থেকে একটু বেড়িয়ে আসব। অবশেষে বৃহস্পতিবার রাতে আমি আর আমার বউ সিদ্ধান্ত নিলাম শুক্রবার সকালে রওনা দিব। সকাল 10টায় বাসা থেকে বের হলাম। দেখতে দেখতে 8ম ট্যাক্সিটা রাজি হল যাওয়ার জন্য। ভাড়া কত জিজ্ঞেস করলাম বলল, ন্যায্য ভাড়া দিয়েন। আমি আন্দাজে বলে দিলাম 120 টাকা দিব যাবা???
-ঠিক আছে অল্প বাড়ায় দিয়েন।
যদিও ভাড়া ঠিক করে ফেলেছি তারপরে ও সে মিটার অন করে দিল হয়ত দেখতে চায় মিটারে ভাড়া কি রকম আসে। ট্যাক্সি চলছে, মিটার বাড়ছে, তখন ও 17 কিলেমিটারের মত পথ বাকি মিটারে দেখলাম 129 টাকা। ট্যাক্সি ওয়ালা দেখলাম উসখুস করছে কিছুক্ষন পরপর মিটারের দিকে তাকাচ্ছে কান্ড দেখে আমি আর বউ মিটিমিটি হাসছি। গন্তব্যে পেঁৗছার পর মিটারে দেখলাম 190টাকা। ট্যাক্সি ওয়ালাকে জিজ্ঞেস করলাম কত দিব?? বেচারার অবস্থা করুন কারন সে 120 টাকাতে রাজি হয়েই এসেছে। আমি তাকে 150 টাকা দিয়ে বিদায় করলাম। পেঁৗছার পর সেলিমের বাসায় কিছুক্ষন বিশ্রাম নিয়ে চট্টগ্রামের বিখ্যাত "মাইজভান্ডার শরীফে" জিয়ারতের জন্য গেলাম। মাইজভান্ডার সম্পর্কে আমার মনে একটা বিরুপ ধারনা ছিল। কারন আমি রাঙ্গামাটি থাকাকালীন অনেক লোককে দেখেছিলাম যারা নিয়মিত মাইজভান্ডারে আসা-যাওয়া করে অথচ লোকগুলো চারিত্রিক দিক দিয়ে অতটা উন্নত না!! যাই হোক মাইজভান্ডারে গিয়ে আমার ধারনাটা পালটে গেল। ওই এলাকায় বেশ কয়েকটা মসজিদ দেখলাম লোকজন নামাজ পড়ছে। তাছাড়া মাজার প্রাঙ্গনে মহিলারা একপাশে পুরুষরা অন্য পাশে কেউ নামাজ পড়ছে কেউ কোরআন তেলাওয়াত করছে। অথচ আমাদের এলাকায় যেসব লোকগুলোকে দেখেছিলাম তারা নামাজ পড়তনা। তারা বলত, বাবাকে খুশি রাখতে পারলেই হবে নামাজ পড়ার দরকার কি?
এছাড়াও তারা প্রতি সপ্তাহে গান-বাজনার আসর করত যেখানে নারি-পুরুষ একসাথে গান-বাজনা, নাচানাচি করত। তাদের মধে গাঁজার প্রচলন ও ছিল। যাইহোক, জিয়ারত শেষে আমরা ওদালিয়া চা বাগানের উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম। চা বাগানটা নাজিরহাট থেকে আরো 7-8 কিলোমিটার পশ্চিমে গহীন জঙ্গলে। যাচ্ছি তো যাচ্ছি রাস্তা শেষ হচ্ছেই না। একসময় আমি ধৈর্য হারিয়ে ফেললাম, সেলিম চলো ফিরে যাই আমার চা বাগান দেখার সাধ মিটে গেছে। সে বলল আরেকটু গেলেই দেখতে পাবে। অনাগ্রহ সত্বেও গেলাম। গিয়ে টিলার ওপর ওঠতেই মনটা এত ভাল হয়ে গেল যে একটু আগের সমস্ত বিরক্তি আমার মন থেকে মুছে গেল। ফটোগ্রফার হিসেবে আমার তেমন হাত নেই তারপর ও পটাপট ছবি তুলতে লাগলাম। এক সময় সুর্য ডুবতে শুরু করল। এবার ফেরার পালা। আমরা চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম। চট্টগ্রাম ফিরতে ফিরতে রাত হয়ে গেল বউকে বল্লাম বাসায় গিয়ে এখন রান্না করতে ইচ্ছে করবেনা চল তোমাদের বাসায় রাতটা কাটিয়ে যাই। একটু পরেই হটাৎ করে ঝড়োহাওয়ার সাথে তুমুল বর্ষন শুরু হল। বৃষ্টিতে ভিজে একাকার হয়ে অবশেষে রাত নটায় শ্বশুরবাড়ী ওঠলাম।
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে মে, ২০০৬ ভোর ৬:০৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




