আপনার প্রশ্ন:
ক। প্রমাণ করুন যে জুমার নামাজ, তাফসির, তাবলিগের ওয়াজ, ওয়াজ মাহফিল, শত শত ইসলামি বই ইত্যাদি অমুসলিমদের মুসলিম বানানোর কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে।
আমার উত্তর:
আপনি আমার কথার ভূল অর্থ গ্রহণ করেছেন। ইসলাম ধর্ম প্রচার ও প্রসারের ক্ষেত্রে যত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় তার শত ভাগের একভাগও অন্য ধর্মের ক্ষেত্রে হয়ে থাকে না।প্রচার ও প্রসার এর কর্মসূচী শুধু মাত্র ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের মাঝে করাকে বোঝায় না।
ধরুন আওয়ামিলিগ যদি তাদের দলীয় আদর্শের ব্যপক প্রচার,প্রসার ও প্রতিষ্ঠা লাভ করাতে চায়, তাহলে যে সকল কর্মসূচী গ্রহণ করবে তার সকল কর্মসূচীকেই দলীয় আদর্শের প্রচার-প্রসারের কর্মসূচী বলা হবে।তাদের এ ধরনের কর্মসূচী যথার্থ তখনই হবে যখন তারা নিজ দলের কর্মীদের মধ্যে সর্বপ্রথম সবচেয়ে ভাল করে প্রচার করবে এবং শিখন-প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা করবে। তারা নিজ দলের কর্মীদের ভাল করে প্রশিক্ষন না দিয়ে আগেই তার বিরোধী দল তথা জামাত-বি, এন,পি ইত্যাদির অনুসারীদের মাঝে আগেই প্রচারে লেগে যাবে না।
সুতরাং ইসলাম প্রচারের ক্ষেত্রে যেমন মুসলমান নিজেদের মধ্যে লক্ষ কোটি প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা রয়েছে ঠিক তেমনি ভিন্ন ধর্মের লোকদেরকে কনভার্ট করাতেও আলাদা আলাদা প্রতিষ্ঠান রয়েছে।
আপনার প্রশ্ন:
খ। ধরেই নিলাম এসব ইসলাম প্রচারের কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। এটা আপনার সমালোচনার বিষয়বস্তু হবে কেন? তারা যা সত্য মনে করছে তা অন্যদের মাঝে প্রচার করছে। আপনার কথা অনুযায়ী "যার যে ধর্ম বা আদর্শ ভাল লাগবে সে তা গ্রহণ করবে"। তারা কি মানুষকে জোর করছে?
আপনিও কি ব্লগে একই কাজ করছেন না?
আমার জবাব:
আপনি আমার লেখার কোন অংশে পেলেন যে আমি এ প্রচারকে সমালোচনা করেছি? আমার লেখার যে অংশে এ প্রচার সংক্রান্ত কথাটি বলেছি তা আবার এখানে তুলে ধরছি, আপনি আবার পড়ে দেখুন কথাটির সারাংশ কি দাড়ায়।
[ইসলাম ধর্ম প্রচারের জন্য যত হাজার হাজার বই, পুস্তক, সাময়িকি প্রকাশ করা হয়, হাজার হাজার ওয়াজ নসিহত প্রচার করা হয়, শত শত প্রতিষ্ঠান রয়েছে যারা শত শত কোটি টাকা ইসলাম প্রচারে ব্যয় করছে, আবার ধর্মের নামে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে (বিভিন্ন ধরনের মাদ্রাসা)- তার অর্ধেকও যদি অন্য আদর্শ ও ধর্মাবলম্বীরা করত তাতেই যতজন মানুষ অন্য আদর্শ থেকে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে থাকে তার চেয়ে বেশি ভিন্ন আদর্শ গ্রহণ করতো। তাছাড়া কেউ ইসলাম ছেড়ে অন্য আদর্শ গ্রহণ করলে তাকে বিভিন্নভাবে হেনস্তা করা হয় এবং এমনকি হত্যার হুমকিও দেয়া হয়।]
আপনার প্রশ্ন:
২। আমার মন্তব্যের এ অংশটুকু আপনার জন্য ছোট একটা পরীক্ষা।
আপনি লিখেছেন-
"শুধু ধর্ম শিক্ষার জন্য মুসলমানদের মধ্যেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আছে, অন্য কোন ধর্মে শুধু ধর্মের নামে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নেই।"
আপনি যেহেতু পুরোপুরি অস্বীকার করলেন। তাই আমি মনে করছি আপনার দাবী খণ্ডনে একটি দৃষ্টান্ত পেশ করাই যথেষ্ট হবে।
জনাব কি কখনো "রামকৃষ্ণ মিশনে"র নাম শুনেছেন?
আপনার প্রশ্নঃ
এবার আপনার "বিবেক ও সত্য" নাম এবং এতদিনের সত্যের ব্রতকে সার্থক প্রমাণ করতে কষ্ট করে একটু স্বীকার করবেন কি যে আপনার উপরোক্ত দাবীটি মিথ্যা?
আমার জবাব:
আপনি এখানেও আমার কথার ভূল অর্থ গ্রহণ করেছেন।"রামকৃষ্ণ মিশনে" কোন স্কুল-কলেজ বা বিশ্ব-বিদ্যালয়ের নাম নয়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বলতে সাধারণত বিদ্যালয় বোঝায়। আপনি হয়ত বলবেন "রামকৃষ্ণ মিশনেও শিক্ষা-দীক্ষা দেয়া হয়।"রামকৃষ্ণ মিশনে"র মত হাজার হাজার ইসলামীক প্রতিষ্ঠানও রয়েছে যারা ইসলামেরও বিভিন্ন দিক নিয়ে শিক্ষা-দীক্ষা দিয়ে থাকেন, তাই বলে সেগুলোকে বিদ্যালয় বলা হয় না। আমার দাবী ছিল যে শুধুমাত্র ইসলাম ধর্মের শিক্ষা প্রচার-প্রসারের নিমিত্তে মুসলমানদের মাঝেই আলাদা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আছে যা অন্য কোন ধর্মের মাঝে নেই।
আপনার প্রশ্নঃ
৩। মুসলিমরা তাদের বিশ্বাসে নিজেদের ধর্মকে চূড়ান্ত সত্য মনে করে। তারা এও বিশ্বাস করে যে শয়তান মানুষের চিরস্থায়ী শত্রু। সে মানুষকে ধোকা দিয়ে অন্যায় পথে পরিচালিত করে। অনেক জ্ঞানী ব্যক্তিও যেখানে মুহূর্তের দুর্বলতায় শয়তানের ফাঁদে পড়ে যায়। সেখানে একজন মুসলিম পিতা কেন তার সন্তানকে ছোটবেলায়ই সতর্ক করবে না?
আপনিও নিশ্চয়ই আপনার সন্তানকে ছোটবেলায় একবারের জন্য হলেও একথা পুশ করতে ভুলবেন না যে সব ধর্মই মানুষের বানানো
আমার জবাব:
আমার লেখার কোথায়ও কোন আদর্শের প্রচার করা খারাপ কাজ বা অনুচীত তা বলিনি। প্রশ্নের আগে বক্তব্য ভাল করে বোঝা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আমি শুধু তুলনা করতে চেয়েছি যে ইসলাম প্রচার-প্রসারের জন্য যত অর্থ ব্যয় করা হয়, যত পদক্ষেপ ও কর্মসূচী গ্রহণ করা হয় তা অন্য ধর্মের প্রচারনার তুলনায় ৯৯ গুন বেশি।এতটুকু কেন এর চেয়ে অর্ধেকও যদি অন্য যে কোন ধর্ম বা আদর্শের ক্ষেত্রে করা হয় তাহলে সে ধর্ম বা আদর্শের প্রসারও হবে অনেক বর্তমানের চেয়ে অনেক বেশি।
আপনার প্রশ্ন:
[আপনার এ প্রশ্নটি অনেক বড়, যার সার কথা হল ভিন্ন ধর্মের লোকেরা ইসলাম গ্রহণ করে ইসলামের আদর্শে মুগ্ধ হয়ে আর মুসলমানেরা অমুসলিম হয় আত্মস্বার্থে]
আমার জবাব:
আজ যদি শিয়া ও সুন্নি বা জামায়াতে ইসলামী ও তাবলীগের মধ্যে বিতর্কো করতে দেয়া হয় এ বিষেয়ে যে কার দলে লোক বেশি আসে বা কম আসে, তা কেন? তাহলে দেখবেন প্রত্যেকেই তার নিজ পক্ষে বহু পয়েন্ট সংগ্রহ করে নিয়ে আসবে- আর এমন বিতর্ক শেষ হবার নয়।সুতরাং কার দলে কত লোক গেল বা বের হল সেটা বিতর্কের কোন মৌলিক বিষয় নয়, এমন বিষয়ে বহু কথা বলা যায়। বুদ্ধিমান লোকেরা মৌলিক ও দ্ব্যর্থহীণ বিষয় নিয়ে কথা বলে থাকে। আর আমার যে পোষ্টের সমালোচনা আপনি করেছেন সে পোষ্টের বিষয়বস্তু এক কথায় বললে নিম্নরুপ হয়-
’মুসলমানেরা মিথ্যা দাবী করে যে কেউ ইসলাম ত্যগ করে অন্য ধর্ম গ্রহণ করে না, অথচ বাস্তবে অন্য ধর্ম ত্যগ করে যেমন কিছু মানুষ মুসলমান হয় তেমনি মুসলমানেরাও অন্য ধর্ম গ্রহণ করে থাকে।’
অপনার যুক্তি সম্পর্কে শুধু এতটুকু বলবো যে ধর্ম ত্যগ করলে পরিবার কখনও গ্রহণ করে না সে যে ধর্মেরই হোক না কেন। তবে মুসলমান থেকে কেউ অমুসলিম হলে শুধু মাত্র উক্ত মুসলিমের পরিবারই তাকে ত্যগ করে না বরং তাকে পুরো মুসলিম জাতি ’মুরতাদকে হত্যা করে’ ফতোয়া দিয়ে হত্যা করতে চায়।
আপনার প্রশ্ন ও আমার জবাব:
আপনার পঞ্চম প্রশ্নটি চরিত্র হনন নিয়ে।চরিত্র হনন বলতে বুঝিয়েছি যে কারো ইমেজকে খাটো করা। আর কারো ইমেজকে খাটো করতে গেলে মানুষ সত্য ও মিথ্য উভয়টি মিলিয়েই বলে থাকে।মনে করুন বি, এন, পি যখন আওয়ামিলিগের সমালোচনা করে থাকে তখন নিশ্চয়ই বি, এন, পি যা বলে তার ১০০% মিথ্যা নয়, একইভাবে আওয়ামিলিগের সমালোচনা বি, এন, পি সম্পর্কে যা হয় তার ১০০% মিথ্যা নয়। এখানে সত্য-মিথ্যার মিশ্রন থাকে।
এরপর আপনি কিছু বক্তব্যে বোঝাতে চেয়েছেন যে খ্রিষ্টান ধর্ম আগে আসায় তারা সংখ্যাগরিষ্ঠ না হলে মুসলমানেরাই সংখ্যাগরিষ্ঠ হত। তবে এতদিনে মুসলমানেরা সংখ্যাগরিষ্ঠ হতে ব্যর্থ হলেও এবার 2070 সালের মধ্যে মুসলমানেরা সংখ্যাগরিষ্ঠ হয়ে যাবে।
এ কথা বলার পর যখন দেখলেন কথাটিই হয়ত পুরোপুরি খাপ খায় না, তাই পরিশেষে নিজের কথার বিপরীতে গিয়ে সত্য স্বীকার করলেন এভাবে ‘এত কিছুর পরও সর্বশেষ বলতে চাই সংখ্যাগরিষ্ঠতা বা ধর্মত্যাগ কোনটাই ধর্মের সত্যতার মানদণ্ড নয়।’
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে অক্টোবর, ২০১৬ রাত ১:৫১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



