somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মনবিকতার বাংলাদেশ , দানবিকতা কেন ?

০১ লা অক্টোবর, ২০১৭ রাত ১১:৪৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বাংলাদেশ আজ বিশ্বদরবারে এক নতুন রুপে পরিচয় পেয়েছে । কিছুদিন আগে ও বিশ্বদরবারে বাংলাদেশের পরিচয় মিলত বন্যা, ঘুর্নিঝড়,দুর্নীতি ইত্যদি বিষয়ে । মানব পাচারের দেশ হিসেবে ও পরিচয় মিললো বাংলাদেশের যখন কিনা থাইল্যান্ড মালয়েশিয়ায় পাচার হওয়া হাজারো হতভাগা মানুষের গনকবরের সন্ধান মিললো । ইসলামিক উগ্রবাদীদের দ্বারা একের পর এক ব্লগার লেখক প্রকাশ হত্যা সেই সাথে ভিন্ন ধর্মাবলম্বী ভিন্ন মতার্দশ ও ভিনদেশী নাগরিকদের হত্যায় বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশ পরিচয় মিলতে থাকে ইসলামিক উগ্রবাদীদের নিরাপদ ভূমি হিসেবে । সব কিছু ছাপিয়ে এবার বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের পরিচয় মিলেছে মানবিকতার দেশ হিসেবে ।মিয়ানমার সরকারের সেনাবাহিনী সেই সাথে সে দেশের বৌদ্ধ উগ্র মৌলবাদীদের জাতিগত নিধনের কৌশল হিসেবে গনহত্যার শিকার সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের জীবন রক্ষায় নিবেদিত প্রান হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে বাংলাদেশের সরকার ও সাধারন মানুষ । আজ পর্যন্ত পাঁচ লাখের ও অধিক রোহিঙ্গা জীবন বাঁচাতে আশ্রয় নিয়েছে বাংলাদেশে । রোহিঙ্গাদের জীবন বাঁচাতে বাংলাদেশের সরকার ও সাধারন মানুষের ভুমিকার প্রশংসায় পঞ্চমুখ বিশ্বমিডিয়া ও রাজনীতি।

এত মানবিকতা এত সহনশীলতার মাঝে ও আমাদের দেশের ভিতর মানুষ রুপী কিছু দানবের আবির্ভাব হয় ।জীবন বাঁচাতে রোহিঙ্গারা যে যেদিক দিয়ে যে ভাবেই পারছে বাংলাদেশের আসছে । তাদের একটি অংশ সমুদ্র পথে নৌকায় পারিজমাচ্ছে বাংলাদেশের দিকে । ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি নৌকাডুবির ঘটনায় জীবন দিতে হয়েছে প্রায় শ' খানেক রোহিঙ্গা নারী পুরুষ আর শিশুকে । বিভিন্ন অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে এসব নৌকা ডুবির ভংকর কাহিনী । প্রায় সব কটি নৌকাডুবির ঘটনাই ইচ্ছাকৃত । রোহিঙ্গাদের নাফ নদী পার পারের বানিজ্যে লিপ্ত টেকনাফের স্হানীয় কিছু দালাল চক্র এই চক্রে নৌকার মাঝি থেকে শুরু করে স্হানীয় জনপ্রতিনিধি পর্যন্ত জড়িত । এই দালাল চক্র নদী পারাপারের নাম করে অসহায় রোহিঙ্গাদের জিম্মি করে মোটা অংকের টাকা আদায় করছে । রোহিঙ্গারা দালালদের চাহিদা মত টাকা দিতে ব্যর্থ হলেই ঘটছে নৌকা ডুবির ঘটনা । এতে জীবন দিতে হচ্ছে অনেক শিশু ও নারীদের । এ ছাড়া ও একশ্রেনীর স্হানীয় দালাল সরকারী জমি কিংবা পাহাড়ে বোহিঙ্গাদের অস্হায়ী ভাবে ঘড় তুলে দেয়ার কথা বলে আদায় করছে টাকা এমন কি কোন কোন দালাল চক্র রোহিঙ্গাদের দেশের বিভিন্ন স্হানে পালিয়ে যেতে ও বিদেশ পাঠানোর নাম করে আদায় করে নিচ্ছে মোটা অংকের টাকা । আর গুটি কয়েক দালালের এহন কর্মকান্ড ম্লান করেতে বসেছে আমাদের সরকার ও সাধারন মানুষের সমস্ত অর্জন । এতো গেল রোহিঙ্গাদের নিয়ে আমাদের দেশের কিছু দানবের কথা ।

আমাদের ভিতর আরো কিছু দানব আছে যারা বারা বার প্রশ্নের মুখে ফেলছে আমাদের মানবতাকে আমাদের উদারতাকে আমাদের সভ্যতাকে । সাম্প্রতিক সময়ে এসব দানবদের হাতে বিশেষ শিকার হচ্ছে নারী ও শিশুরা । একদিকে এসব দানবেরা যেমন নারী ও শিশুদের ধর্ষনের উল্লাসে মেতে উঠেছে অন্য দিকে জনসম্মুখে শিশুদের পিটিয়ে বা পায়ু পথে বাতাস ঠুকিয়ে মধ্যযুগীয় বর্বর কায়দায় হত্যা করছে । সিলেটের রাজন খুলনার রাকিব বরগুনার রবিউল লক্ষ্মীপুরের আলাউদ্দিন রংপুরের আতিক এমন অনেক শিশুর ই জীবন কেড়ে নিয়েছে আমাদের সমাজে থাকা ঐ সব দানবেরা । ২০১৫ সালের ৮ জুলাই মোবাইল ফোন চুরি করেছে এমন সন্দেহে সিলেটের শেখপাড়ায় কিশোর রাজনকে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। ওই বছরের ৩ আগস্ট খুলনায় গ্যারেজ থেকে চাকরি ছাড়ার অপরাধে শিশুশ্রমিক রাকিবকে পায়ুপথে বাতাস ঢুকিয়ে হত্যা করা হয়। একই বছর বরগুনার তালতলীতে মাছ চুরির অভিযোগ এনে রবিউল নামের এক শিশুকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। ২০১৬ সালে লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জে ঘুম থেকে দেরি করে ওঠার অপরাধে বেকারি কারখানার শিশুশ্রমিক আলাউদ্দিনকে পিটিয়ে হত্যা করে বেকারির মালিকসহ আরও কয়েকজন। এ বছরের জানুয়ারি মাসে রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলায় টাকা চুরির অপবাদ দিয়ে আতিক নামের এক শিশুকে পিটিয়ে হত্যা করে তার চাচা।

সম্প্রতি এমন ই নৃশংস খুনের তালিকায় যোগ হয়েছে ময়মনসিংহে সাগর ও বগুড়ার রাসেলের নাম । ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলায় চোর সন্দেহে সাগর নামের ষোল বছর বয়সী দরিদ্র ফেরিওয়ালা বাবার সন্তান সাগরকে পানি তোলার কাজের মোটর চুরির অভিযোগ এনে আক্কাস নামের এক হ্যাচারি মালিক ও তার সহযোগীরা খুঁটির সঙ্গে বেঁধে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করে। নির্যাতনকারীরা সাগরকে হত্যার পর তার লাশ একটি কাশবনের মধ্যে রেখে পালিয়ে যায়। বগুড়ায় কম্প্রেসার মেশিন দিয়ে পায়ুপথে বাতাস ঢুকিয়ে রাসেল মিয়া নামে উনিশ বছরের এক যুবককে হত্যা করেছে তারই সহকর্মী ।বগুড়ার কাহালু উপজেলার বীরকেদার এলাকায় এবিসি টাইলস নামে একটি সিরামিক কারখানার শ্রমিক রুবেল হোসেন নামের সহকর্মী রাসেল মিয়ার পায়ুপথে জোরপূর্বক বাতাস ঢুকিয়ে দেয়। এতে রাসেল অসুস্থ হয়ে পড়লে কারখানার লোকজন তাকে হাসপাতালে নেয়ার পর মৃত্যুর কোলে ঢলে পরে রাসেল । যদিও পুলিশ সাগর ও রাসেলের খুনিদের খুব তাড়াতাড়িই গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে ।

রাজন ও রাকিব হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দেশ বিদেশে থাকা সকল বাংলাদেশীর ভিতরেই যন্ত্রনা দিয়েছিল । এ ই নিয়ে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হওয়ায় রাজনের মূল হত্যাকারীকে সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করতে বাধ্য হয় সরকার । রাজন হত্যা মামলায় প্রধান আসামিসহ চার জনকে মৃত্যুদণ্ড ও সাতজনকে সাত বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। রাকিব হত্যা মামলায় দুজনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। পরে যদিও উচ্চআদালত রাকিবের দুই হত্যাকারীর সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন করেছে কিন্তু রাজন হত্যাকারী চার জনের মৃত্যুদণ্ড আজও কার্যকর হয়নি। আসহায় রোহিঙ্গাদের নৌকাডুবিয়ে হত্যা ছোট্ট শিশুটিকে সামান্য চুরির অপবাদ এনে পিটিয়ে কিংবা কাজ ছেড়ে দেয়ার জন্য পায়ুপথে বাতাস ঢুকিয়ে হত্যা এটা কোন সভ্য সমাজ মেনে নিতে পারে না বা মেনে নেয়ার ও কথা না । তাই আজ যারা আসহায় রোহিঙ্গাদের জিম্মিকরে নৌকাডুবিয়ে মারছে কিংবা সমান্য অযুহাতে নানা ভাবে শিশুদের হত্যাকরছে তাদের অবশ্যই আইনের আওতায় এনে বিচারের মুখোমুখি করে উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে । তানা হলে বিশ্বদরবারে বাংলাদেশ যে মানবিক দেশ হিসেবে পরিচয় মিলেছে সেই পরিচয় ধরে রাখা সম্ভব হবে না ।

সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই অক্টোবর, ২০১৭ রাত ১২:১২
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

"আনফোল্ডিং দ্য ট্রুথঃ দ্য আয়নাঘর ফাইলস"..

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১০ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১২:৪৯

"আনফোল্ডিং দ্য ট্রুথঃ দ্য আয়নাঘর ফাইলস"
-একজন গুমের শিকার মানুষের চোখে একটি ভয়াবহ সত্যের দলিল।

“আনফোল্ডিং দ্য ট্রুথ: দ্য আয়নাঘর ফাইলস”- নামটি যতটা আকর্ষণীয়, বইটির ভেতরের সত্য তার চেয়েও বেশি নির্মম, বেদনাদায়ক... ...বাকিটুকু পড়ুন

মানুষের অহংকার ও বুদ্ধিমত্তার ভ্রান্ত ধারণা

লিখেছেন শেরজা তপন, ১০ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৫২


উৎসর্গঃ ব্লগার রাজীব নুর( ঈশ্বর বিশ্বাসের কোল ঘেঁষে যাওয়া কোন লেখা এলেই যিনি লেখককে ভীষন সন্দেহের চোখে দেখেন- ভাবেন; কি অদ্ভুত কথা- ইনি দেখি ঈশ্বর বিশ্বাসী!!))
ধর্ম ও বিজ্ঞান: সংঘর্ষ না... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনার মত তারেক জিয়াও কি ভারতে ইলিশ পাচার করছে?

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ১০ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:২৬



চলছে ইলিশের ভরা মৌসুম কিন্তু বাজারে কোন ইলিশ নেই.... ইলিশ নেই বললে ভুল হবে ইলিশ আছে কিন্তু উহা সাধারণ মানুষের ধরা ছোঁয়ার বাইরে। আওয়ামীলীগ আমলের ১৭ টি বছর... ...বাকিটুকু পড়ুন

~~~সংশয়~~~

লিখেছেন জটিল ভাই, ১১ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:০৩

♦أَعُوْذُ بِاللهِ مِنَ الشِّيْطَانِ الرَّجِيْمِ (বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহ্'র নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি)
♦بِسْمِ ٱللَّٰهِ ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ (পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহ্'র নামে)
♦ٱلسَّلَامُ عَلَيْكُمْ (আপনার উপর শান্তি বর্ষিত হোক)


(ছবি নেট হতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে “উপজাতি” নাকি “আদিবাসী”? আন্তর্জাতিক আইন ও ইতিহাসের নির্ভেজাল সত্য!​

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১১ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:২৭


সূচনা ও প্রেক্ষাপট:
লেখক পার্বত্য চট্টগ্রামে ২০০১ সালে তিনি যখন সেখানে দায়িত্ব পালন করেন, তখন পাহাড়ি জনগোষ্ঠীকে 'উপজাতীয়' (Tribal) হিসেবে ডাকা হতো। কিন্তু ২০১৫-১৬ সালের দিকে সেখানে পুনরায় পোস্টিং পাওয়ার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×