somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

রাতের শব্দসন্ত্রাস বন্ধ হবে কবে ?

২১ শে জানুয়ারি, ২০১৮ রাত ১:৩১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

গত বছরের জানুয়ারীর কোন এক রাতে আমাদের মহল্লার সরকারী দলের স্হানীয় নেতার ছোট ভাইর বিয়ের গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান বেশ জমকালো রাত বারার সাথে সাথে পাল্লা দিয়েই রারছিল গান আর বাদ্যযন্ত্রের শব্দ । নানান রোগে আক্রান্ত আমার বয়ো:বৃদ্ধ মা সেই সাথে ছোট ভাইয়ের দুই বছরের ছোট্ট ছেলে গান আর বাদ্যযন্ত্রের শব্দে একেবারেই কাবু হয়ে গিয়েছিলেন। গান আর বাদ্যযন্ত্রের শব্দ কিছুটা কামানোর অনুরোধের জন্য অনেকটা সাহস করেই ঘড় থেকে বের হয়ে গেলেও অনুষ্ঠানের পরিবেশ দেখে টু শব্দ না করেই বাসায় ফিরতে হয়েছিল । এর পর কোন উপায়ন্ত না পেয়ে স্হানীয় থানায় বিনয়ের সুরে ই সমস্যার কথা বলি । থানাতে কর্তব্যরত যিনি ফোন ধরেছিলেন তিনি আমার বিনীত অনুরোধে ঐ নেতার বাড়ীর গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানের শব্দ সন্ত্রাস যত তাড়া তাড়ি সম্ভব বন্ধ করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়ে ত্রিশ মিনিটের মধ্যে গান আর বাদ্যযন্ত্রের ঐ শব্দ সন্ত্রাস থেকে আমার পরিবারে ভুক্তভোগীদের সহ আশেপাশের সবাই কে মুক্তি দিতে পেরেছিলেন । ঐ রাতে আমার মহল্লার নিরীহ মানুষেরা কোন অঘট ছাড়াই মুক্তি পেয়ে ছিল ঐ শব্দ সন্ত্রাসের হাত থেকে ।

তবে রাজধানীর আর কে মিশন রোডের অবসর প্রাপ্ত সরাকারী কর্মকর্তা নাজমুল হককে জীবন দিতে হলো তেমনই একটি অনুষ্ঠানের শব্দ সন্ত্রাসের প্রতিবাদ করায় । তিনি যে বাসায় থাকতেন সেটির ছাদে ফ্ল্যাট মালিকদের কমিউনিটি হলে বৃহস্পতিবার (১৮ জানুয়ারি ২০১৮) রাতে গায়েহলুদের এক অনুষ্ঠানে উচ্চ শব্দে গান বাজনা চলছিল। এতে সদ্য ওপনে হার্ড সার্জারীর রোগী নাজমুল হকের সমস্যা হচ্ছিল। তিনি নিচে গিয়ে কেয়ারটেকারকে সমস্যার কথা জানালে ফ্ল্যাট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আলতাফ হোসেনের সঙ্গে তাঁর বাগবিতন্ড হয়। পরে আলতাফ হোসেন যদিও উচ্চ শব্দের গান বাজনা বন্ধ করেন কিন্তু তার মনের ক্ষোপ কোন ভবেই কমে নি । পরের দিন সকাল এগারোটার দিকে কেয়ারটেকারকে দিয়ে নাজমুল হকের ছেলে নাসিমুল হককে নিচে ডেকে পাঠান ছেলের সাথে বাবা নাজমুল হক সহ পরিবারের অন্যরাও নীচে নেমে আসেন । ক্ষিপ্ত আলতাফ হোসেন ও তার পরিবারের সদস্যরা নাসিমুল নীচে আসা মাত্রই আর্তকিত হামলা চালা নাসিমুলের উপর ছেলের জীবন রক্ষায় অসুস্হ্য বাবা এগিয়ে এলে তাঁকেও মারধর করা হয়। এতে তিনি পড়ে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান নাজমুল হক ।

বিয়ে, গায়েহলুদ, জন্মদিন, ৩১ ডিসেম্বর, বিবাহ বার্ষিকী এমনকি সুন্নতে খাতনার অনুষ্ঠানে ও গভীর রাত এমন কি শেষ রাত পর্যন্ত উচ্চ শব্দে গান ও বাদ্য যন্ত্রে যন্ত্রনার মুখোমুখি হতে হয় প্রায় প্রতিটি নগর বাসীকে । কখনো প্রতিবাদ করলে হিতে বিপরীদ হওয়াটাই আমাদের সমাজ তথা রাষ্ট্রের নীতি হয়ে দাড়িয়েছে । আর তাই প্রতিটি সময় ই এধরনের নির্যাতন মেনে নিতে হয় আমাদের নিরীহ নগর বাসীকে । স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন আসে এই ধনের শব্দ সন্ত্রাসের জন্য আমাদের দেশে কি কোন আইন নেই ? অবশ্যই আমাদের দেশে শব্দ নিয়ন্ত্রণে আইন এবং আইন প্রয়োগের জন্য কর্তৃপক্ষ ও আছে শুধু নাই তাদের কোন কার্যক্রম । শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা ২০০৬ এ বিভিন্ন এলাকায় শব্দের মানমাত্রা উল্লেখ আছে। বিধিমালা অনুযায়ী, আবাসিক এলাকায় ৫৫ ডেসিবেল এবং রাতের বেলায় সর্বোচ্চ ৪৫ ডেসিবেল শব্দের মানমাত্রা নির্ধারণ করা আছে। ওই বিধিমালা অনুযায়ী, খোলা জায়গায়, বিয়ে বা কোনো সামাজিক অনুষ্ঠান, ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, কনসার্ট, রাজনৈতিক বিভিন্ন অনুষ্ঠান, যাত্রানুষ্ঠানে শব্দের মানমাত্রা অতিক্রম করতে পারে। তবে এসব অনুষ্ঠান কোনো আবাসিক এলাকায় করা যাবে না। এসব অনুষ্ঠান করতে গেলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছে থেকে অনুমতি নিতে হবে। এসব অনুষ্ঠানে শব্দের মানমাত্রা অতিক্রম করা যন্ত্রপাতি ব্যবহার করলে অনুষ্ঠানগুলো অবশ্যই রাত ১০টার মধ্যে শেষ করতে হবে। অথচ রাতে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের নামে যে উচ্চ শব্দে গানবাজনা হয় তা ৮০ ডেসিবেলের নিচে কখনোই নয়। যে যার ইচ্ছামতো মাত্রায় এসব যতক্ষন খুশি গান ও বাদ্য যন্ত্র বাজিয়ে ই যাচ্ছে। আমাদের পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্তাব্যক্তিদের দাবি ঘড়ে ঘড়ে আজ এই ধরনের অনুষ্ঠান আর তাদের যে লোক বল তা দিয়ে এধরনের অনুষ্ঠান নিয়ন্ত্রন করা সম্ভব নয় । আমি ও তাদের দাবির সাথে এক মত । আমারা আমাদের নানান পারিবারিক ও সামাজিক অনুষ্ঠানে আনন্দ অবশ্যই করবো তবে সেই আনন্দ হতে হবে নির্মল বিনোদন । আমার আনন্দ অন্যের জন্য বিরক্তের বা ক্ষতির কারন হবে এটা করোই করা উচিত নয় এমন কি কারো কাম্য ও নয় । কিন্তু আজ কেন জানি আমরা বড়ই স্বার্থপর হয়েগেছি । আমাদের নিজেদের প্রয়োজনের কাছে অন্যের ন্যায় সঙ্গত প্রয়োজন ও অর্থহীন । নাজমুল হক সাহেবে মৃত্যু আমাদের সমাজের জন্য আমাদের বিবেকের জন্য অবশ্যই লজ্জাজনক । আমরা চাইবোনা এই ধরনের উচ্ছৃখলার প্রতিবাদ আর কোন নাজমুল হককে করতে হয় আর কোন নাজমুল হককে যেন আর এ ভাবে জীবন দিতে না হয় ।


সর্বশেষ এডিট : ২১ শে জানুয়ারি, ২০১৮ রাত ১:৩১
৬টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

যে বিলের কোনো রসিদ নেই

লিখেছেন রাজসোহান, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:২৪



ঢাকার পাইপলাইন গ্রাহকদের একটা বড় অংশ এই জুলাইয়ে জানিয়েছেন, দিনে এক থেকে দুই ঘণ্টার বেশি গ্যাস তাঁরা পান না। সেই এক-দুই ঘণ্টাও আসে গভীর রাতে কিংবা ভোরের আগে। ফলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ অবস্থার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৪ ঠা আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:৩২


বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ: মধ্যপ্রাচ্যনির্ভর রেমিট্যান্স কৃষিভিত্তিক শিল্পায়ন ও টেকসই উন্নয়নের বিকল্প কৌশল
একটি অর্থনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক ফিজিবিলিটি স্টাডি।

একটি ধারাবাহিক গবেষনামুলক পোস্ট : পর্ব- ১

ভুমিকা
১.১ গবেষণার পটভূমি
একবিংশ শতাব্দীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছাত্রদলকে সামলাতে না পারলে ক্যাম্পাসগুলো সহিংসতায় পূর্ণ হবে।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৪ ঠা আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:০৮


রাতে রংপুর, সকালে জগন্নাথ। আজকে জগন্নাথে ছাত্রদলের হামলার শিকার একযোগে সব বিরোধী দল। এসব কি ছাত্রদলের কাজ? নাকি ছাত্রদলের ভেতর ছাত্রলীগ প্রবেশ করেছে? জকসু জিএসের জীবন আশংকাজনক। দেশে যখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার প্রিয় ২৬টি পোস্ট; যেগুলো আপনারও ভালো লাগতে পারে

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ০৪ ঠা আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৪:১৭

গ্যাস নিয়ে গ্যাসলাইটিং: কোনটা আসল সংকট, কোনটা কৃত্রিম?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৪ ঠা আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:২১


বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে বড় সমস্যা কী, এই প্রশ্ন করলে সবাই একবাক্যে বলবেন গ্যাস সংকটের কথা। বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে গেছে, ফলে লোডশেডিং বেড়েছে বহুগুণ। কলকারখানা হোক বা বাসাবাড়ি, মানুষ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×