চব্বিশের রক্তাক্ত ও অভূতপূর্ব ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ দেড় দশকের আওয়ামী ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান মাধ্যমে তৎকালীন স্বৈরশাসক শেখ হাসিনা ও তার ঘনিষ্ঠ সহযোগীরা দেশ থেকে পলায়নের পর দলটির সহযোগী ও ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয় পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের সকল রাজনৈতিক কার্যক্রম আইনগত নিষিদ্ধ করে সংসদে আইন পাশ হয়। কিন্তু ক্ষমতার এই ঐতিহাসিক পরিবর্তনের পরও দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় নতুন এক উদ্বেগজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ইতিহাসের সবচেয়ে বিতর্কিত অধ্যায়ের ইতর চরিত্র গুলি আবারও রাজপথে ফেরার চেষ্টায় মরিয়া। গত ৫ জুন নোয়াখালী সদর উপজেলার নোয়ান্নই ইউনিয়নের বাঁধেরহাট এলাকায় নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের উদ্যোগে একটি বড় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, ৫ আগস্টের পর এটি নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগপন্থী সবচেয়ে বড় প্রকাশ্য জমায়েতগুলোর একটি। সেখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি থাকা সত্ত্বেও অংশগ্রহণকারীদের বিপুল উপস্থিতির কারণে পুলিশ কার্যত প্রতিরোধ করতে ব্যর্থ হয়। এই ঘটনার পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কাছে কি এমন একটি সুসংগঠিত কর্মসূচির আগাম তথ্য ছিল না, নাকি এর পেছনে আরও গভীর কোনো রাজনৈতিক বাস্তবতা কাজ করছে? ঘটনার পরদিন, ৬ জুন এই ঘটনার প্রতিবাদে স্থানীয় ছাত্রদল, যুবদল ও বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা মিছিল ও সমাবেশ করেন। কর্মসূচি শেষে বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের স্হানীয় নেতাকর্মীরা ফেরার পথে নোয়াখালীর কালাদরাপ ইউনিয়নের নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগপন্থী নেতাকর্মীরা মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে
হামলার তাদের উপর। এই হামলায় স্হানীয় ছাত্রদল ও শ্রমিক দলের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে আছেন । ঘটনাটি নতুন করে সেই প্রশ্নই সামনে এনেছে ফ্যাসিবাদী শক্তিকে যদি পুনরায় সংগঠিত হওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়, তবে তার রাজনৈতিক মূল্য কে দেবে? অন্যদিকে, বর্তমানে বিএনপি ও দলটির অভ্যন্তরে থাকা একশ্রেণির সুযোগসন্ধানী নেতাকর্মীর রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও নানা প্রশ্ন উঠছে। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম অংশীজন জামায়াত ও এনসিপির সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়ে পড়া, তাদের সভা-সমাবেশে বাধা দেওয়া কিংবা রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ফলে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনগুলো মাঠে পুনর্গঠনের সুযোগ পাচ্ছেন। জামায়াত, এনসিপি ও বিএনপির মধ্যকার দূরত্ব এবং পারস্পরিক বিরোধ আওয়ামী লীগের জন্য একটি নতুন রাজনৈতিক সুযোগ তৈরি করেছে।
ফ্যাসিবাদী সরকারের পতনের পর মানুষ একটি সুশাসিত, দখলমুক্ত ও চাঁদাবাজিমুক্ত বাংলাদেশের প্রত্যাশা করেছিল। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনকভাবে ৫ আগস্টের পর থেকেই দেশের বিভিন্ন স্থানে দখলদারিত্ব ও চাঁদাবাজির অসংখ্য অভিযোগ সামনে আসতে শুরু করে। আওয়ামী লীগের নিয়ন্ত্রিত বিভিন্ন অর্থনৈতিক ও সামাজিক বলয়ের জায়গা দখল করে নেয় বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের একাংশ। হাট-বাজার, বাস টার্মিনাল, ফুটপাত, খেয়াঘাট, কাঁচাবাজার, ঝুট ব্যবসা এবং বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে আধিপত্য বিস্তারের প্রতিযোগিতা শুরু হয়। রাজধানী থেকে শুরু করে জেলা-উপজেলা পর্যন্ত এই প্রবণতা জনমনে হতাশা সৃষ্টি করে। এর ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বৃদ্ধি পায় এবং গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে যে স্বস্তি ও পরিবর্তনের আশা তৈরি হয়েছিল, তা দ্রুতই ম্লান হতে থাকে। আইনশৃঙ্খলার অবনতি, ক্ষমতার কেন্দ্র পরিবর্তন হলেও রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন না হওয়া এবং স্থানীয় পর্যায়ে দখল-চাঁদাবাজির বিস্তারের কারণে বিএনপি ধীরে ধীরে জনসমর্থনের একটি অংশ হারাতে শুরু করে। এই পরিস্থিতিকেই আওয়ামী লীগ তাদের পুনর্গঠনের সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করে যাচ্ছে।
১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন ধরনের তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকা কিংবা নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়া অনেক নেতাকর্মী এখন ঝটিকা মিছিল, সংক্ষিপ্ত সমাবেশ কিংবা প্রতীকী কর্মসূচির মাধ্যমে নিজেদের উপস্থিতি জানান দিচ্ছেন। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের দৃশ্যমান অনুপস্থিতি সত্ত্বেও তৃণমূলের এই সক্রিয়তা ইঙ্গিত দেয় যে দলটির সাংগঠনিক যোগাযোগ এখনো সক্রিয় । একই সময়ে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা কৌশলগত ভুলও আওয়ামী লীগের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করেছে। নির্বাচনের আগে ও পরে বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগপন্থী ব্যক্তিদের সঙ্গে বিএনপির স্থানীয় নেতাদের যোগাযোগ, রাজনৈতিক সমঝোতা কিংবা নির্বাচনী সুবিধাবাদ নিয়ে নানা আলোচনা হচ্ছে । এসব ঘটনার প্রেক্ষিতে জনমনে একটি ধারণা তৈরি হয়েছে যে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে মোকাবিলা করতে গিয়ে অনেকেই নীতিগত অবস্থান থেকে সরে এসেছেন। আর এই ধারণাই আওয়ামী লীগের জন্য রাজনৈতিকভাবে লাভজনক হয়ে উঠছে। রাষ্ট্রক্ষমতায় আসার পর বিএনপির সাংগঠনিক স্থবিরতা নিয়েও সমালোচনা রয়েছে। রাজপথে দৃশ্যমান রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড কমে যাওয়ার ফলে আওয়ামী লীগের জন্য কিছু এলাকায় পুনর্গঠনের সুযোগ তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আওয়ামী লীগ বা ছাত্রলীগের ব্যানারে ঝটিকা মিছিল এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেসব কর্মসূচির প্রচার এই বাস্তবতাকেই সামনে আনছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান ও গ্রেপ্তার সত্ত্বেও এই তৎপরতা পুরোপুরি থামানো যাচ্ছে না। আওয়ামী লীগ এখন গ্রেপ্তার এড়াতে নতুন নতুন কৌশলও অবলম্বন করছে। কর্মসূচির প্রকৃত স্থান গোপন রাখা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো কিংবা এক এলাকায় কর্মসূচি করে অন্য এলাকার নামে প্রচার চালানোর মতো কৌশল ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব কর্মকাণ্ড ইঙ্গিত দেয় যে দলটির সাংগঠনিক কাঠামোর ভেতরে এখনো পরিকল্পনাকারী ও সমন্বয়কারীদের একটি সক্রিয় অংশ কাজ করছে। একই সাথে লক্ষ্যণীয় বিষয় হলো, সাম্প্রতিক সময়ে কারাগার থেকে আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী নেতার মুক্তি ও জামিন পাওয়া। জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী এবং নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন। সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনিও নির্দিষ্ট কিছু মামলায় জামিন পেয়েছেন। জুলাই হত্যাকাণ্ডের মতো গুরুতর অপরাধের সাথে যুক্ত থাকার পরও জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের অনেক নেতাকর্মী জামিনে বেরিয়ে আসছেন। রাজনীতি পর্যবেক্ষকদের মতে, এই গণ-কারামুক্তি এবং তৃণমূলের ঝটিকা মিছিলগুলো কেবল বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয় এটি হয়তো বিএনপির সাথে পর্দার অন্তরালের কোনো সমঝোতার অংশ হতে পারে। ‘জুলাই সনদ’সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ইস্যুতে সরকার ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর মুখোমুখি অবস্থান এবং পারস্পরিক কাদা ছোঁড়াছুঁড়িই মূলত আওয়ামী লীগকে ধীরে ধীরে রাজনীতিতে ফেরার স্পেস তৈরি করে দিচ্ছে।
সবচেয়ে বিতর্কিত আলোচনাগুলোর একটি হলো বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের অবস্থান। কেউ কেউ মনে করেন, দেশে রাজনৈতিক ভারসাম্য রক্ষার নামে আওয়ামী লীগের জন্য একটি সীমিত রাজনৈতিক পরিসর রেখে দেওয়ার চিন্তা বিএনপির ভেতরে থাকতে পারে। বিএনপি মহাসচিব তথা বর্তমান স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের
সাম্প্রতিক বক্তব্য যেখানে তিনি সব রাজনৈতিক দলের জন্য সহনশীল ও উদার রাজনৈতিক পরিবেশ নিশ্চিত করার কথা বলে সেই বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে।এমনকি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ও তিনি তার নিজ নির্বাচনী এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণার সময় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মামলাসহ নানাভাবে পুনর্বাসনের আশ্বাস দিয়ে বক্তব্য দিয়েছিলেন। শুধু তিনিই নন, জামায়াত ও এনসিপি জোটকে নির্বাচনে প্রতিহত করতে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিএনপির সংসদ সদস্য প্রার্থীরা এবং স্থানীয় নেতাকর্মীরা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে নির্বাচনের মাঠে বিভিন্ন কার্যক্রম চালিয়েছেন। এটি রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে তাদের সাময়িক স্বস্তি দিলেও নীতিগতভাবে এটি একটি বড় নৈতিক পরাজয় । ফ্যাসিবাদী শক্তিকে শুধুমাত্র নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার জন্য কিংবা অন্য কোনো রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমনের জন্য মিত্র হিসেবে গ্রহণ করা চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের চেতনার সাথে এক চরম বিশ্বাসঘাতকতা ছাড়া আর কিছু নয়। নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের তৃণমূলের নেতাকর্মীরা স্পষ্টভাবেই জানাচ্ছেন যে, নির্বাচনের আগে সমর্থন পাওয়ার আশায় বিএনপির স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় অনেক নেতাই তাদের সাথে গোপনে যোগাযোগ করেছিলেন এবং নির্বাচনের পর তাদের স্বাভাবিক চলাফেরা ও রাজনৈতিক কার্যক্রমের ব্যাপারে অভয় দিয়েছিলেন। রাষ্ট্রক্ষমতায় আসার পর বিএনপি এখন এক ধরনের আত্মতুষ্টিতে ভুগছে। ক্ষমতার চাদর গায়ে জড়িয়ে রাজপথে দলটির সাংগঠনিক উপস্থিতি নেই বললেই চলে। তাদের এই সাংগঠনিক উদাসীনতা এবং স্থবিরতার সুযোগ নিয়ে আওয়ামী লীগ আবার মাথাচাড়া দিচ্ছে। আরও ভয়ের বিষয় হলো, বর্তমান সরকারের অনেক স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং মন্ত্রীদের আশ্রয়ে-প্রশ্রয়ে থেকে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সুসংগঠিত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। দল বাঁচাতে এবং নিজেদের অস্তিত্ব টেকাতে তৃণমূলের পক্ষ থেকে শীর্ষ নেতাদের দ্রুত মাঠে নামার জন্য ক্রমাগত চাপ দেওয়া হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত কয়েক মাসে ঢাকা, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, যশোর, কিশোরগঞ্জ, শরীয়তপুরসহ দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের ব্যানারে ঝটিকা মিছিল হয়েছে। যদিও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এই সময়ে সহস্রাধিক নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে তবুও এই মিছিলগুলোর পুনরাবৃত্তি থামানো যাচ্ছে না। গ্রেপ্তার ও আইনি ঝামেলা এড়াতে আওয়ামী লীগ এখন নতুন নতুন চতুর কৌশল অবলম্বন করছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া তাদের ঝটিকা মিছিলগুলোর স্থান ও কাল নিয়ে তারা এক ধরনের বিভ্রান্তি তৈরি করছে। যেমন, সম্প্রতি কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে দেবিদ্বার উপজেলার ইউসুফপুরে কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কে একটি মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু কৌশলগত কারণে আওয়ামী লীগের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এটিকে মুরাদনগরের মিছিল বলে প্রচার করা হয়। পুলিশ যখন তথ্য পেয়ে মুরাদনগরে অভিযান চালায়, তখন দেখা যায় মূল ঘটনাস্থল মুরাদনগর থেকে দুই কিলোমিটার দূরে দেবিদ্বার অংশে। বিএনপির সাংগঠনিকভাবে দুর্বল ও স্থবির এলাকাগুলোকে বেছে নিয়ে আওয়ামী লীগ এই ধরনের কৌশলগত কর্মসূচি সফল করছে, যা প্রমাণ করে তাদের পেছনে এখনো কোনো দক্ষ ও ধূর্ত মস্তিস্ক কাজ করছে।
চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান ছিল কেবল সরকার পরিবর্তনের আন্দোলন নয় এটি ছিল একটি রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে জনতার ঐতিহাসিক রায়। সেই ম্যান্ডেটকে উপেক্ষা করে যদি স্বল্পমেয়াদি রাজনৈতিক সুবিধার জন্য কোনো ধরনের আপস, সমঝোতা বা পুনর্বাসনের রাজনীতি করা হয়, তাহলে তা দেশের জন্য নতুন সংকট ডেকে আনবে। নোয়াখালীর সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো কেবল বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয় বরং এগুলো ভবিষ্যতের সম্ভাব্য রাজনৈতিক অস্থিরতার সতর্ক সংকেত হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে। গোয়েন্দা তৎপরতার ঘাটতি, মাঠপর্যায়ের দখল-চাঁদাবাজি এবং রাজনৈতিক দূরদর্শিতার অভাব যদি দূর করা না যায়, তবে গণঅভ্যুত্থানের অর্জন ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। ইতিহাসের শিক্ষা হলো ফ্যাসিবাদকে অবহেলা করলে তা আবার ফিরে আসার পথ খুঁজে নেয়। তাই গণতন্ত্র, জবাবদিহি ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার সংগ্রামকে অব্যাহত রাখাই আজ সময়ের দাবি।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।
