আবদুল জলিলকে দল থেকে বহিষ্কার করা হলে তিনি সংসদ সদস্য পদসহ বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির পদ ও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যপদ হারাবেন। তা না করে কারণ দর্শাও নোটিশ এবং তার জবাবের ভিত্তিতে তাকে ক্ষমা করে দেয়া হলেও তিনি একঘরে হয়ে যাবেন। তাদের ধারণা, আওয়ামী রাজনীতিতে জলিলের দিন শেষ! তাদের বক্তব্য, কেন তিনি বারবার এ ধরনের বক্তব্য দিচ্ছেন এবং তার এ ধরনের আচরণের পেছনে কোনো বিশেষ উদ্দেশ্য আছে কি না তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। সে জন্য তাকে প্রথমত কারণ দর্শাও নোটিশ দিয়ে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু বিষয়ের ওপর তার বক্তব্য জানতে চাওয়া উচিত। সে বক্তব্য সঠিক বলে মনে না হলে তার বিরুদ্ধে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত, মানে দল থেকে বহিষ্কার করা উচিত।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও এলজিআরডি মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এমপি সোমবার সকালে শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন মিলনায়তনে যুবলীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় জলিলের বক্তব্যের নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, দলের সভানেত্রী শেখ হাসিনাকে আপসকামী বলে তার মর্যাদা ক্ষুণ� করা হয়েছে।
আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম এমপিও বলেছেন, আবদুল জলিল এ ধরনের বক্তব্য দিয়ে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেছেন। কেন তিনি এ ধরনের বক্তব্য দিচ্ছেন তা তিনি দেশে ফিরলে অবশ্যই তার কাছে জানতে চাওয়া হবে। আর শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে জলিল বিষয়ে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হবে।
আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর নবনির্বাচিত সদস্য অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুনও জানান, আবদুল জলিলের বক্তব্য স্ববিরোধী। তিনি নিজে যে নির্বাচনের বেনিফিশিয়ারি সে নির্বাচন সম্পর্কে প্রশ্ন তোলেন কিভাবে সেটা বোধগম্য নয়। তিনি বলেন, সংগঠনবিরোধী বক্তব্যের জন্য আবদুল জলিলকে শোকজ (কারণ দর্শাও নোটিশ) করা উচিত এবং তার বক্তব্য যাচাই-বাছাই হওয়া প্রয়োজন।
মোটকথা, এতোদিন সরকার, আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনা সম্পর্কে নানা কথা বলে কোনো চ্যালেঞ্জের মুখে না পড়লেও এবার সত্যিই বেকায়দায় পড়েছেন আবদুল জলিল। দলের নেতাকর্মী, সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী, মন্ত্রী-এমপিদের অধিকাংশই প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে তার এ ধরনের বক্তব্যের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। সর্ব ইউরোপীয় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের শাখাগুলো থেকে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে জলিলকে বহিষ্কারের দাবি জানানো হয়েছে। খুব অল্পসংখ্যক নেতাকর্মী, মন্ত্রী-এমপি ভেতরে ভেতরে জলিলের বক্তব্যের সমর্থক হলেও প্রকাশ্যে তাদের কোনো কথা নেই। সূত্র

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



