somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আ:লীগের রাজনীতিতে জলিলের চাহিদা ফুরিয়ে যাচ্ছে

১৩ ই অক্টোবর, ২০১২ রাত ১২:৪১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

নানা কারণে বহুল আলোচিত-সমালোচিত আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও নবগঠিত উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য মো. আবদুল জলিল এমপির ভাগ্য বিপর্যয় প্রায় নিশ্চিত। তবে এ মুহূর্তে তিনি আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কৃত হচ্ছেন কি না সেটা এখনো সুস্পষ্ট না হলেও দলনেত্রী শেখ হাসিনা যে তার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন সেটা স্পষ্ট হয়ে গেছে। এ অবস্থায় শেখ হাসিনা তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নিলেও আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে তিনি একঘরে হয়ে পড়বেন� এটা নিশ্চিত। দলের প্রভাবশালী শীর্ষনেতারাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃত্ব আবদুল জলিলের ওপর ক্ষুব্ধ। তারা তাকে ছেড়ে কথা বলতে রাজি নন। আওয়ামী লীগের এমপিদের অধিকাংশই আবদুল জলিলের বক্তব্য সম্পর্কে প্রকাশ্যে কট্টর মন্তব্য না করলেও বিষয়টিকে ভালো চোখে দেখছেন না। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বার্মিং-হামে জলিলের লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনার ধারাবাহি-কতায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশে থাকা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের শাখা কমিটি থেকে তাকে দল থেকে বহিষ্কারের দাবি জোরালো হচ্ছে। আগামী ৩ অক্টোবর আওয়ামী লীগের নবগঠিত কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের প্রথম সভায় এ বিষয়ে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বইবে� এমনটি নিশ্চিত। সে আলোচনা কতোটা গতি পাবে সেটা নির্ভর করছে দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনার ওপর। এরই মধ্যে ২৭ সেপ্টেম্বর রাতে নিউইয়র্কের হোটেল গ্র্যান্ড হায়াতে এক সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনা আবদুল জলিল প্রসঙ্গে বলেছেন, �উনি নিজেও যে নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন সে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করে বক্তব্য দেয়ার আগে তার পদত্যাগ করা উচিত ছিল।� তিনি আরো বলেছেন, �উনি এর আগেও অনেক আবোল-তাবোল কথা বলেছেন। এটা নতুন কিছু নয়।� জলিল সম্পর্কে এর আগে কোনো মন্তব্য না করলেও শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক এ বক্তব্যের পরে আওয়ামী লীগ নেতারা মনে করছেন, দলীয় সভানেত্রী দেশে ফিরে আবদুল জলিলের ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।
আবদুল জলিলকে দল থেকে বহিষ্কার করা হলে তিনি সংসদ সদস্য পদসহ বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির পদ ও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যপদ হারাবেন। তা না করে কারণ দর্শাও নোটিশ এবং তার জবাবের ভিত্তিতে তাকে ক্ষমা করে দেয়া হলেও তিনি একঘরে হয়ে যাবেন। তাদের ধারণা, আওয়ামী রাজনীতিতে জলিলের দিন শেষ! তাদের বক্তব্য, কেন তিনি বারবার এ ধরনের বক্তব্য দিচ্ছেন এবং তার এ ধরনের আচরণের পেছনে কোনো বিশেষ উদ্দেশ্য আছে কি না তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। সে জন্য তাকে প্রথমত কারণ দর্শাও নোটিশ দিয়ে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু বিষয়ের ওপর তার বক্তব্য জানতে চাওয়া উচিত। সে বক্তব্য সঠিক বলে মনে না হলে তার বিরুদ্ধে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত, মানে দল থেকে বহিষ্কার করা উচিত।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও এলজিআরডি মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এমপি সোমবার সকালে শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন মিলনায়তনে যুবলীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় জলিলের বক্তব্যের নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, দলের সভানেত্রী শেখ হাসিনাকে আপসকামী বলে তার মর্যাদা ক্ষুণ� করা হয়েছে।
আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম এমপিও বলেছেন, আবদুল জলিল এ ধরনের বক্তব্য দিয়ে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেছেন। কেন তিনি এ ধরনের বক্তব্য দিচ্ছেন তা তিনি দেশে ফিরলে অবশ্যই তার কাছে জানতে চাওয়া হবে। আর শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে জলিল বিষয়ে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হবে।
আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর নবনির্বাচিত সদস্য অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুনও জানান, আবদুল জলিলের বক্তব্য স্ববিরোধী। তিনি নিজে যে নির্বাচনের বেনিফিশিয়ারি সে নির্বাচন সম্পর্কে প্রশ্ন তোলেন কিভাবে সেটা বোধগম্য নয়। তিনি বলেন, সংগঠনবিরোধী বক্তব্যের জন্য আবদুল জলিলকে শোকজ (কারণ দর্শাও নোটিশ) করা উচিত এবং তার বক্তব্য যাচাই-বাছাই হওয়া প্রয়োজন।
মোটকথা, এতোদিন সরকার, আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনা সম্পর্কে নানা কথা বলে কোনো চ্যালেঞ্জের মুখে না পড়লেও এবার সত্যিই বেকায়দায় পড়েছেন আবদুল জলিল। দলের নেতাকর্মী, সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী, মন্ত্রী-এমপিদের অধিকাংশই প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে তার এ ধরনের বক্তব্যের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। সর্ব ইউরোপীয় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের শাখাগুলো থেকে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে জলিলকে বহিষ্কারের দাবি জানানো হয়েছে। খুব অল্পসংখ্যক নেতাকর্মী, মন্ত্রী-এমপি ভেতরে ভেতরে জলিলের বক্তব্যের সমর্থক হলেও প্রকাশ্যে তাদের কোনো কথা নেই। সূত্র
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ব্যাংকিং ব্যবস্থা ও অর্থনৈতিক বাস্তবতা....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০১ লা জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:০০

ব্যাংকিং ব্যবস্থা ও অর্থনৈতিক বাস্তবতা....

বাংলাদেশের অর্থনীতি আজ যে কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি, তা একদিনে সৃষ্টি হয়নি। দীর্ঘ দুই দশকের দুর্নীতি, লুটপাট, অর্থপাচার এবং রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত আর্থিক অব্যবস্থাপনার ফল আজ রাষ্ট্রকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

"টেকসই অর্থনীতির: সহজ সমাধান"

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০১ লা জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:০৭



দেশ এখন অর্থনৈতিক সংকটে বিপর্যস্ত। ব্যাংকে তারল্য সংকট, টাকার অবমূল্যায়ন, অর্থ পাচারসহ নানা বহুমুখী সমস্যার সম্মুখীন। ইউনূস সরকার দেশীয় ব্যাংকগুলো থেকে ঋণ নিয়ে কোনোভাবে জোড়াতালি দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার... ...বাকিটুকু পড়ুন

দু-দণ্ড শান্তির পরেও যে তৃষ্ণা থাকে : বনলতা সেন - সিনেমা [স্পয়লার এলার্ট]

লিখেছেন জাহিদ অনিক, ০১ লা জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪


সিনেমা হলের আলো নিভলে একটা চুক্তি হয়। পরিচালক বলেন; আমাকে বিশ্বাস করো, আমি তোমাকে কোথাও নিয়ে যাব। দর্শক রাজি হয়ে চোখ মেলে বসে থাকেন। মাসুদ হাসান উজ্জ্বলের বনলতা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনি অন্যায় করছেন, ওমর খাইয়াম!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০১ লা জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৩৪

আপনি সামুতে দীর্ঘদিন ধরে লিখছেন। এই ব্লগে আপনার অনেক অবদান। সেই অধিকারে, যে কোন ব্লগারের লেখাকে আপনি সমালোচনা করতেই পারেন। কিন্তু, কারো নাম নিয়ে কটাক্ষ করার অধিকার আপনাকে কে দিয়েছে?... ...বাকিটুকু পড়ুন

এমপির কাজ কি মানববন্ধন করা ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০২ রা জুন, ২০২৬ রাত ২:২০


ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় একটা সিনেমা দেখানো হবে। পারিবারিক সিনেমা। সেন্সর বোর্ড থেকে পাস করা। নাম "বনলতা এক্সপ্রেস।" ব্রাহ্মণবাড়িয়া ফিল্ম সোসাইটি ঈদের আনন্দে মানুষকে একটু সিনেমা দেখাতে চাইল। এতটুকুই ছিল ঘটনা ।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×