আখাউড়া রেলওয়ে স্টেশনে ঢুকলেই চোখে পড়বে কিছু দাপুড়ে মানুষের। পড়নে লুঙ্গি আর শার্টের পকেটে কলম গোজা। তারা আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনী গুলোর নামে প্রকাশ্যে মাদক পাচারের টোকেন দেয় । টোকেন ছাড়া মাদক পেলেই বহনকারীকে দেখায় পুলিশ, বিজিবি দিয়ে ধরিয়ে দেওয়ার ভয়। ভয়ে কাজ না হলে অনেক সময় আবার তাদের সহযোগিতায় এগিয়ে আসেন রেলওয়ে পুলিশ সদস্যরা। মাদক পাচারের ট্রানজিট রোড হিসেবে পরিচিত আখাউড়া উপজেলার। সীমান্তের বিভিন্ন স্থান দিয়ে আসা মাদক ট্রেনে পাচার করা হয় দেশের বিভিন্ন স্থানে। আর এ কাজ নির্বিঘে� সমাধা করে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনী গুলোর নামে নিয়োজিত শতাধিক �লাইনম্যান�। একেক বাহিনীর নামে রয়েছে একেক ধরনের টোকেন। টোকেন থাকলে কোন বাঁধা ছাড়াই মাদক পৌছে যায় যথাস্থানে। উপজেলার নূরপুর, নারায়নপুর, বাউতলা, মনিয়ন্ধ, পাথারটেক, সেনারবাদী, আজমপুর, মসজিদ পাড়া, রেলওয়ে কলোনীসহ কমপক্ষে অর্ধশত স্পটে প্রকাশ্যে বিক্রি হয় মাদক।
অনুসন্ধানে জানা গেছে গত ১ এপ্রিল ভোরে আখাউড়ার দক্ষিণ ইউপির নূরপুর গ্রামে মাদক উদ্ধারে গিয়ে হামলার শিকার হন র্যাব-৯ এর একটি দল। মুখে একধরনের বিশেষ শব্দ করে তাদের উপর হামলে পড়ে মাদক ব্যবসায়ীরা। তাদের হামলায় র্যাব-৯-এর সদস্যরা আহত হয়। পরে র্যাব বেশ কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। বছর খানেক আগে আখাউড়া থানার তৎকালীন এস.আই মোঃ বেলাল উপজেলার মনিয়ন্ধে মাদক উদ্ধারে গেলে তাকে কুপিয়ে মারাত্মক আহত করে মাদক ব্যবসায়ীরা। তাকে বহনকারী অটোরিক্সাটি ভেঙ্গে পানিতে ফেলে দেয় তারা। এর আগে একই স্থানে মাদক উদ্ধারে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছিলেন র্যাব সদস্যরাও। এ ছাড়া তাদের হাতে জনপ্রতিনিধি থেকে শুরু করে স্থানীয় জনগন একাধিকবার নাজেহাল হয়েছেন।
কসবা উপজেলার অর্ধশতাধিক স্পট দিয়ে আসছে নিষিদ্ধ মাদক ইয়াবা, ফেন্সিডিল, গাঁজা, ইয়াবা, বিভিন্ন নেশা জাতীয় ইনজেকশন। গ্রামবাসীর অভিযোগ বিএসএফ�র সহযোগিতায় কাটা তারের বেড়ার গেইট দিয়ে মাদক প্রবেশ করানো হয়। এরমধ্যে একটি ১০ নম্বর বায়েক ইউনিয়নের মাদলা গ্রাম। এ গ্রামের অন্তত্য ৭-৮ টি গেইট দিয়ে বিএসএফ�র সহযোগিতায় মাদক ঢুকার অভিযোগ করেছে গ্রামবাসী। মাদক ব্যবসায়ীদের ভয়ে তটস্ত এ গ্রামের সবাই। এই গ্রামের আব্দুল জলিল-(৩৮) বলেন, মাদক ব্যবসায় বাঁধা দেওয়ায় তার বড় ভাই আবু তাহেরকে ২০০৬ সালের ৮ মার্চ বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে জাকির হোসেন, জামালসহ অন্য মাদক ব্যবসায়ীরা। মাদক দিয়ে পুলিশে ধরিয়ে দেওয়া হয় আব্দুল জলিলকেও। পরে এলাকার চেয়ারম্যান, মেম্বাররা তাকে থানা থেকে ছাড়িয়ে আনেন। ৫ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ সভাপতি আলফু মিয়া, ইউপি সদস্য শাহআলম, আব্দুল বারেক জানান, প্রশাসনের সহযোগিতায় প্রতিমাসে কোটি টাকার মাদক এই এলাকা দিয়ে দেশে প্রবেশ করে। কয়েক বছরে এলাকায় বেশ কয়েকটি অজ্ঞাত লাশ পাওয়া গেছে। তাদের ধারণা মাদক সংক্রান্ত ঘটনাকে কেন্দ্র করেই খুনের পর ফেলে রাখা হয় তাদের।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



