১৯৮২ সালের ৩ জানুয়ারি থেকে ২০১২ সালের শেষার্ধ। দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে বেগম খালেদা জিয়া নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন জিয়াউর রহমানের প্রতিষ্ঠিত দল বিএনপির। ১৯৮১ সালের ৩০শে মে ব্যর্থ সেনা অভ্যুত্থানে জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর থেকে বেগম জিয়া একই সঙ্গে সামলে আসছেন সংসার আর রাজনীতির মাঠ। বড় ছেলে তারেক রহমান ২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর থেকেই স্বপরিবার যুক্তরাজ্যে রয়েছেন। সেখানে নিজের চিকিৎসার পাশাপাশি ব্যারিষ্টারি পড়ছেন তিনি। সম্প্রতি পেয়েছেন যুক্তরাজ্যে রাজনৈতিক আশ্রয়ও। আর ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোও অসুস্থ। তিনিও বিদেশে। আর বর্ণাঢ্য ৬৭ বছরের পথ পেরুনো বেগম জিয়াও এখন আর আগের মত শারীরিকভাবে সুস্থ নন। এমন বাস্তবতায় দেশের চলমান রাজনীতির প্রেক্ষাপটে অনেকগুলো চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি বিএনপির আগামী দিনের কান্ডারি হতে কে আসছেন জিয়া পরিবার থেকে? এমন প্রশ্ন এখন বিএনপির তৃনমূল নেতাকর্মীদের মুখে মুখে।
বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের এক নেতা গতকাল এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে নাম না প্রকাশের শর্তে বলেন, তারেক রহমান এখনও অসুস্থ। এছাড়া গত ওয়ান ইলেভেনের সরকার ও তাদের দোসররা পরিকল্পিতভাবেই জিয়া পরিবার এবং বিশেষত তারেক রহমানের ইমেজ ধংস করতে পরিকল্পিতভাবেই মাঠে নেমেছিল। তাকে এবং জিয়া পরিবারকে বিতর্কিত করতে নানা চক্রান্ত তখনও এবং এখনও চলছে। তারেক রহমানের বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা দিয়ে দেশের রাজনীতিতে তার ফেরার পথ রুদ্ধ করতে সরকার তৎপর। তারেক রহমান যাতে আগামী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দিতা করতে না পারেন সেজন্যও চক্রান্ত চলছে। এমন পরিস্থিতিতে ঘটনার ঘনঘটায় ক্রমেই অনিবার্য হয়ে উঠছে ডা. জোবাইদা রহমানের প্রকাশ্য অভিষেক।
জানা গেছে, জিয়া পরিবারের জেষ্ঠ্য পুত্রবধু, তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমানকে সরাসরি রাজনীতির মাঠে নামাতে বিএনপির ভেতরে-বাইরে এমনকি লন্ডনেও চলছে নানামুখি তৎপরতা।
তবে ডা. জোবাইদা এখনই সরাসরি রাজনীতিতে নামতে ব্যাক্তিগতভাবে ততটা আগ্রহী না হলেও বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের বৃহৎ অংশই ডা. জোবাইদাকে লন্ডন থেকে দেশে ফিরিয়ে মাঠে নামাতে তৎপর। তারা মনে করছেন, সেক্ষেত্রে তারেক রহমান জোবাইদা রহমানকে নেপথ্যে থেকেই নির্দেশনা দেবেন। তারা বলছেন,আগামী নির্বাচনের আগমূহুর্তেই দেশে ফিরে ডা. জোবাইদা শাশুড়ি খালেদা জিয়ার পাশে থেকে দলের হাল ধরবেন।
জানা গেছে, ডা. জোবাইদার প্রকাশ্যে রাজনীতির ময়দানে অভিষেক ঘটতে পারে আগামী নির্বাচনের আগমুহুর্তেই। ভোটার না হতে পারা সংক্রান্ত জটিলতায় আগামি নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ অনিশ্চিত হলেও আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির পক্ষে মাঠে নামতে পারেন তিনি। ২০০১ সালের নির্বাচনে তারেক রহমানও নেপথ্যে থেকে বিএনপির নির্বাচনী ষ্ট্রাটেজি নির্ধারণে গুরুত্বপুর্ন ভুমিকা রেখে আলোচিত হন জাতীয় রাজনীতিতে। তবে দলের নেতৃত্বের একটি অংশ অবশ্য জোবাইদা রহমানের রাজনীতিতে আসার বিষয়টি গতানুগতিক বিষয় হিসাবেই দেখছেন।
এদিকে ডা: জোবাইদা রহমানের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রকাশ্য রাজনীতিতে আসার ব্যাপারে শাশুড়ির সিদ্বান্তই মেনে নেবেন ডা. জোবাইদা। তারেক-জোবাইদা দম্পত্তির দুই সন্তান এখন লন্ডনে লেখাপড়া করছে। একসময়ের সরকারি কর্মকর্তা ডা. জোবাইদা লন্ডনে এখন সংসার আর স্বামীর চিকিৎসা নিয়েই ব্যস্ত।
এদিকে সম্প্রতি, ডা. জোবাইদা রহমানের পক্ষে জনমত সৃষ্টি করতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও খোলা হয়েছে একটি আলাদা পেইজও। (িি.িভধপবনড়ড়শ.পড়স/তঁনধরফধজধযসধহ) ডা. জোবাইদা রহমানের নামে খোলা ঐ পেইজটিতে তার সম্পর্কে পরিচয়ের স্থানে লেখা হয়েছে রাজনীতিবিদ। গত কয়েকদিনে পেইজটিতে ’লাইক’ করেছেন কয়েক হাজার মানুষ। এ পেইজটিতে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের সঙ্গে ডা: জোবাইদা রহমানের অসংখ্য ছবি স্থান পেয়েছে। আর ডা. জোবাইদার শুভার্থীরাও তার সমর্থনে নানা মন্তব্যও করছেন এখানে।
উপমহাদেশের রাজনীতিতে উত্তরাধিকারের রাজনীতির ঘনঘটার প্রেক্ষাপটে ডা. জোবাইদার রাজনীতিতে আসার বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরেই দেশের রাজনীতিতে আলোচিত হচ্ছে। খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা, তারেক রহমান ও আরাফাত রহমান কোকোর অসুস্থতার প্রেক্ষিতে পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে ক্লিন ইমেজের ডা. জোবাইদার নামটিই এখন ঘুরে ফিরে আলোচিত হচ্ছে সর্বত্র। আর সিলেটের দক্ষিণ সুরমার সন্তান সিলেটী কন্যা ডা. জোবাইদার উজ্জল পরিচিতি রয়েছে তার পিতার পরিচয়েও।
ডা. জোবাইদার পিতা প্রয়াত নৌবাহিনী প্রধান রিয়ার এডমিরাল মাহবুব আলী খান। মাহবুব আলী খান এরশাদ আমলে ১৯৮৪ সালের ৬ আগষ্ট মৃত্যুর আগ পর্যন্ত যোগাযোগ ও কৃষি মন্ত্রনালয়ের দায়িত্ব পালন করেন। মন্ত্রী থাকাকালে সিলেট বিভাগে ব্যাপক উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডের কারণে মাহবুব আলী খানের রয়েছে আলাদা ইমেজ। মাহবুব আলী খানের ছোট মেয়ে ডা. জোবাইদা দেশের রাজনীতিতে পরিচিত মুখ না হলেও সবসময়েই বিতর্কের বাইরে থাকা নিভৃতচারী হিসাবে সর্বমহলেই রয়েছে পরিচ্ছন্ন ইমেজ। ১/১১’র প্রেক্ষাপটে তারেক রহমান, কোকো ও খালেদা জিয়া কারান্তরীণ হলে জিয়া পরিবারের দেখভাল করতে গিয়ে প্রকাশ্যে আসেন ডা. জোবাইদা।সূত্র

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



