ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় গত এক সপ্তাহে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি চরম অবনতি ঘটেছে। জেলায় ঈদের ছুটি ও ঈদের পর ১০টি খুন ও প্রায় আড়াই শতাধিক লোক আহত হয়েছেন। এছাড়াও ভাঙচুর-লুটপাটের শিকার হয়েছে শতাধিক বাড়িঘরে। এসব ঘটনার সাথে জড়িত থাকার দায়ে গ্রেফতার হয়েছে ৭জন।
খুনের ঘটনা গুলো হল-
জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে কসবা উপজেলার নেয়ামতপুর গ্রামের রফিক মিয়া ও খোরশেদ মিয়ার মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। এর জের ধরে গত(১.১১.২০১২) বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে উভয় পরে লোকজন দেশীয় অস্ত্র শস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। সংঘর্ষে ইমাম হোসেন(৫০) আহত হয়। আশংকাজনক অবস্থায় তাকে জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময় পথিমধ্যে সে মারা যায়। একই ঘটনায় ২দিন পর(০৪.১১.২০১২) রোববার চিকিৎসাধীন অবস্থায় সমরাজ মিয়া(৪০) ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে বিকেল ৩টায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকায় মারা যায়।
গত(০১.১১.২০১২)বৃহস্পতিবার কসবা উপজেলার আকসিনা কোল্লাবাড়ি গ্রামে মাল্টিলেভেল মার্কেটিং কোম্পানি ডেসটিনি-২০০০ লিমিটেডের টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে প্রতিপরে হামলায় গাছের ডালের আঘাতে গুরুতর আহত হয় আবু তাহের মিয়া । তাকে প্রথমে কসবা পরে আশংকাজনক অবস্থায় ঢাকা নেয়ার পথে সে মারা যায়।
গত(২৯.১০.২০১২)সোমবার সন্ধ্যায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার তালতলা নামক স্থানে জমি বিরোধ নিয়ে এক শালিস সভায় প্রতিপরে হামলায় জসীম উদ্দিন (৫২)নামক এক ব্যক্তি নিহত হয়েছে।
গত(০১.১১.২০১২)বৃহষ্পতিবার রাত প্রায় ৮টায় রুবেল রিাতলা গ্রাম থেকে দাওয়াত খেয়ে আসার পথে মেয়ে সংকান্ত ঘটনায় মুধর বাড়ির ধন মিয়ার নেতৃত্বে কয়েকজন তাকে তুলে নিয়ে বেধড়ক পিটিয়ে গুরুতর আহত করে বাড়ির কাছে ফেলে যায়। পরে তাকে উদ্ধার করে জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হলে রাত দেড়টায় তার মৃত্যু হয়।
গত(৩০.১০.২০১২)মঙ্গলবার সরাইল উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের বাড়িউড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকার জমি থেকে পুলিশ অজ্ঞাতনামা মহিলার (৩৫) লাশ উদ্ধার করেছে। পুলিশ বলছে ঘাতকরা শ্বাসরোধ করে ওই মহিলাকে হত্যা শেষে লাশ জমিতে ফেলে রাখে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সরাইল উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের আইরল (কাটানিসার) গ্রামের আব্দুর রহমানের পুত্র প্রবাস ফেরত হাবিবুর রহমানের সাথে তার চাচাত ভাই দুলাল ও হেলালের বাড়ির জায়গা নিয়ে বিরোধের জেরে ঈদের পরদিন(২৮.১০.২০১২)রোববার সন্ধ্যায় সংঘর্ষে হাবিবুর রহমান খুন হয়।
সদর উপজেলার সাদেকপুরে ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বর্তমান চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন ও সাবেক চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আব্দুল হাইয়ের মধ্যে বিরোধের জেরে সংঘর্ষে আব্দুল হাইয়ের পরে নাসির মিয়া গুরুতর আহত হন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা নেয়ার পর শুক্রবার (২৬.১০.২০১২)সকালে নাসির মারা যায়।
জেলার নাসিরনগর উপজেলার সাইয়াউক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি পদের প্রার্থীতা নিয়ে দুপরে মধ্যে বিরোধের জের ধরে সংর্ঘষের ঘটনা কেন্দ্র করে তুচ্ছ ঘটনায় মঙ্গলবার (৩০.১০.২০১২) সকাল ১১টায় উভয়পরে লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংর্ঘষে লিপ্ত হয়। প্রায় তিন ঘন্টা ব্যাপী সংর্ঘষে সাইয়াউক গ্রামের খেলুর মিয়ার পুত্র বাচ্চু মিয়া প্রতিপরে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে ঘটনাস্থলেই মারা যায়।
জেলার নাসিরনগর উপজেলার গুনিয়াউক ইউনিয়ন পরিষদের সামনে এক দোকান থেকে বৃহষ্পতিবার (২৫.১০.২০১২) গভীর রাতে হুরন আলী (৫৫)নামে এক ব্যক্তি লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
খুনের ঘটনা গুলো ছাড়াও বিভিন্ন কারনে পৃথক অনেক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। তার মাঝে সর্বাধিক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে সরাইল ও কসবা উপজেলায়। তাছাড়া বিজয়নগর,নাসিরনগর ও সদর উপজেলায় একাধিক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষের ঘটনা গুলোতে খুন ছাড়াও প্রায় আড়াই শতাধিক লোক আহত হয়েছেন। এসব সংঘর্ষের ঘটনায় শতাধিক বাড়ি-ঘরে হামলা,ভাংচুর ও লুটের ঘটনা ঘটেছে। সূত্র

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



