somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ফলাফল সমাচার

১৯ শে ডিসেম্বর, ২০১৬ রাত ২:০০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমি যদি পারতাম, আমি এক লাইনেই আমার সব দুঃখ প্রকাশ করে ফেলতাম।
আমার বয়স এখন উনিশ বছর বারো দিন। অথবা দুইশো আটাশ মাস বারো দিন, অথবা নয়শো তিরানব্বুই সপ্তাহ। বিষয়টা আরো জটিল করা যায় কিন্তু এর কোন মানে নেই। আজ থেকে এক বছর আগে আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার্থী ছিলাম। এই সমাজে আমাকে একজন ভাল ছাত্র বলা যেতে পারে কারন আমার ssc রেসাল্ট গোল্ডেন প্লাস, hsc রেসাল্ট ও তাই। স্কুলের পড়ার সময় আমাদের প্রশ্ন পত্র ফাঁস হবার ঘটনা ঘটেনি। কলেজের ক্ষেত্রে অবশ্য ভিন্ন কথা, আমরা ২০১৪ ব্যাচ। ( এই পর্যন্ত লেখার পর আমার মা টেবিলের সামনে এসে দাঁড়িয়ে বলেছে কি কর? আমি বলেছি ঘাস কাটি। পাঁচ মিনিট বকাঝকা করে সে চলে গেল।) যাইহোক, ভাল ছাত্র হবার দরুন আমাকে নিয়ে সবার আকাঙ্খা হলো ভয়াবহ, সবাই আশা শুরু করলো আমি একই সাথে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার আর বিসিএস ক্যাডার হতে যাচ্ছি। আমার ইচ্ছা আমি কম্পিউটার নিয়ে পড়বো অথবা মনোবিজ্ঞান নিয়ে পড়বো। আমি ভর্তি পরীক্ষা দিলাম। আমার তেমন কোথাও হলো না। যেখানে যেখানে হলো সব ঢাকার বাইরে। আমার মন সায় দেয় কিন্তু ক্ষানিকবাদে পরিবারের সবাই কেঁদে ওঠে। আমার প্রিয় বন্ধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ক ইউনিটে চান্স পেল। সেদিন আমার এক আপন জন আমাকে ফোন দিয়ে অনেক বকাঝকা করলো। এর পরের দিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডি ইউনিটের রেসাল্ট হলো, আমি চান্স পেলাম। গতকাল ঠিক একই সময়ে যে আমাকে ধিক্কার দিয়েছে আজ সে আমাকে আব্বু বলে ফোনে আদর করছে। খুব স্বাভাবিক। এটাই নিয়ম। আমি মেনে নিলাম। আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যে বিষয়ে ভর্তি হলাম তা একদমই নতুন বিষয়, পপুলেশন সাইন্সেস। খুবই সম্ভাবনাময় একটি বিষয় আমাদের দেশের পরিপ্রেক্ষিতে।কিন্তু কেউই এটা সহজভাবে নিতে পারলো না। সবার ধারনা এটি অতি জঘন্য বিষয়। সোস্যাল সাইন্সের এই বিষয়টা পড়া আমার অপরাধ না, এটাতে চান্স পাওয়াই অপরাধ। আমি অনেক ভেবে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে এক সেমিস্টারের খরচ দিয়ে সিএসই তে ভর্তি হলাম। মাত্র দুইদিন ক্লাস করার পর আমি আর সেখানে পড়তে যাই নি। কারন সেখান থেকে আমার ইচ্ছামতো কম্পিউটার জানা প্রায় অসম্ভবই মনে হয়েছে। এখন এক বছর যাবত আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পপুলেশন সাইন্সেস পড়ছি। বুয়েটে চান্স না হবার জন্য আমা আফসোস নেই,আমারা আফসোস আমি সিলেটে সিএসই পড়তে পারি নি। সেসময়ে আর তেমন কোন বকা শূনতে হয় নি কারন আমার আশেপাশের কেউ মেডিকেল বুয়েটে চান্স পায় নি।

ঘটনাটা শুরু হলো কিছুদিন যাবত। মেডিকেলের রেসাল্ট হবার পর দেখা গেল আমাদের এক ক্লাস মেট দ্বিতীয়বার পরীক্ষা দিয়ে সলিমুল্লাহতে চান্স পেয়েছে অথচ সে কোন মুল্লাতেই চান্স পাবার কথা না। পুরোটাই প্রশ্ন পত্র ফাঁসের কল্যান। আমার কিছু আসলো গেল না। কিন্তু আমার পরিবারের সবাই খুবই উত্তেজিত হয়ে গেল! তারা সারাদিন আমাকে বকা শুরু করলো যে আমি কি ঘাস কাটলাম। আমার কিছু বলার নেই। ঘটনা এর থেকেও সাংঘাতিক হয়ে গেল যখন আরেকজন ( আমার ক্লাসমেট না, এক বছরের জুনিয়র প্রিয় বন্ধু বুয়েটে টিকে গেল।) সেদিন থেকে আজ এখন অব্দি আমাকে কথা শুনতে হয় এবং ভবিষ্যতেও কথা শুনতে হবে ইনশাল্লাহ। বিষয়টা এতোই সাংঘাতিক হয়ে যাচ্ছে আমার বাড়িতে থাকাই কস্টকর। সারাদিন বোধকরি কেউই একটানা বকাঝকা শুনতে পারবে না দিনের পর দিন। আমি আর কি লিখবো ঠিক বুঝতে পারছি না কিন্তু একটি সমীকরণ মাথায় ঘুরছে, আমি যদি বুয়েটে চান্স পেতামও তবে এমনও হাজার অভাগা না থাকলেও শত অভাগা আছে যাদের অবস্থা এইরকম খারাপ হতো। সিট সংখ্যা কে আমি উসিলা বানাচ্ছি না। আমি উসিলা বানালেও কেউ তা শুনবে না। আমার এই কথা ফেইসবুকে কয়েকজন পড়বে তাও এই লাইন অব্দি পড়বে কিনা জানি না। শেষ করে ফেলি। আরেক বন্ধুর একটি স্ট্যাটাস কপি করেই শেষ করে ফেলছি।
“ প্রতিটা সন্তানের কাছেই তার বাবা-মা পৃথিবীর
শ্রেষ্ঠ বাবা-মা।আর প্রত্যেক সন্তানই বাবামায়ের
কাছে জীবনের শেষ কথা। কিন্তু কিছু কিছু সময়
তাদের এপ্রোছটা ঠিক থাকেনা। বিশেষ করে
ভার্সিটি এডমিশন টেস্টের সময়। "পাছে লোকে
কিছু বলে" নামক এক অদৃশ্য অপমান বোধ তাদের
তাড়া করে বেড়ায়।
অন্য আটদশ জনের মত আমিও গর্বিত আমার বাবামা
কে নিয়ে। অন্তত এই জীবনে তারা আমাকে
রেজাল্ট মেশিন হিসেবে দেখেনি।
একটা ছোট্ট ঘটনা বলি, আমাদের ব্যাচের ভার্সিটি
এডমিশন শুরু হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিয়ে।পজিশন খারাপ
আসে আমার।হতাশায় ভেঙ্গে পড়ি। এমন সময় বাবা
একটি কথাই বলেছিল" সবাই জানবে আমার ছেলে
৫০০০ জনের পরে, আমি জানি আমার ছেলে ৭৫
হাজার জনের আগে" ঠিক এই সাপোর্টটুকুই
এডমিশন টেস্টের সময় ছেলেমেয়ে
গুলোর দরকার হয়,আর কিছু না।
তার পর আমাকে আর পিছু তাকাতে হয়নি। পরপর
রুয়েট,রাবি,কুয়েট,চুয়েট সব খানেই ভর্তির
যোগ্যতা পাই।
আর শেষ হয় বুয়েটের ব্যর্থতা দিয়ে, তাতে
কি?? বাবা মায়ের কাছে সেটা ব্যর্থতা ছিলো না।
হাসিমুখেই বুকে টেনে নিয়েছে।
জীবনটাকে আমরা বারবার বেঁধে ফেলি
NDC,BUET এসবের ফ্রেমে!!! জীবন মানে
প্রতিষ্ঠান না, জীবন মানে বেঁচে থাকা, জীবন
মানে ছোট্ট পরিবারে এক চিলতে হাসি জিইয়ে রাখা।“
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে ডিসেম্বর, ২০১৬ রাত ২:০০
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিকাশ নূরা এবং হিরো আলমকে যারা প্রধানমন্ত্রী ভাবতেন ;)

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৩২



একজন মানুষের জ্ঞান-বুদ্ধি, শিক্ষা-দীক্ষা থাকার চাইতেও জরুরী বিষয় হচ্ছে তার অন্তর্দৃষ্টি থাকা। অন্তর্দৃষ্টি, অন্তরচক্ষু বা জ্ঞানচক্ষু সম্পন্ন একজন ব্যক্তিকে কখনোই ধোঁকা দেওয়া বা ধোঁকায় ফেলানো সম্ভব নয় কারণ এরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঙ্গালী কেন মুসলমান হতে পারে না?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৫

অনারব টার্কিশ, কুর্দি আর ইরানিয়ানরা তাদের নিজ নিজ ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষন করে ও তা ধারন করেও তারা মুসলিম, পাকিস্তানের পাঞ্জাবীরাও যখন নিজেদের পাঞ্জাবী জাতি হিসেবে অহংকার করে, তখনও তারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ মোহাম্মদপুরে কখনও বিচ্ছেদ হয় না

লিখেছেন রাজসোহান, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৪





আমার দোকানের নাম নিউ শাপলা কম্পিউটার ও ফটোস্ট্যাট। সাইনবোর্ডের শাপলা ফুলটা এঁকে দিয়েছিলো তাজমহল রোডের এক সাইনম্যান, দেখতে হয়েছিলো কচুরিপানার মতো। চৌদ্দ বছর ধরে ঝুলে আছে। রোদে রঙ উঠে... ...বাকিটুকু পড়ুন

২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা তার সাথে কিছু রুঢ় সত্য যা বদলে দিয়েছিলো দেশের রাজনীতি।

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৩৪





২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা সম্পর্কে আমরা সবাই মোটামুটি জানি। এই হামলায় কারা জড়িত ছিল সেটাও আজকের দিনে অজানা নয় একমাত্র নিতান্ত দলকানা ছাড়া। তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময়... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধানমন্ডি ৩২ যারা ভেঙেছিল, আর যারা বিচার চাওয়ার পথ বন্ধ করে দিল- তারা কি একই?

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:৪৪



ধানমন্ডি ৩২ যারা ভেঙেছিল, আর যারা বিচার চাওয়ার পথ বন্ধ করে দিল- তারা কি একই?

ধানমন্ডি ৩২ ভাঙা হয়েছিল- কে দেখেনি, কে জানে না, এটা অস্বীকার করার উপায় নেই।,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×