somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভূত নিয়ে ভূতানি (আমার ভূতবেলা) - ৫

০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১:০৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

জীবনদা ডাক দেওয়ার সাথে সাথেই চারদিকে শব্দ হতে শুরু হলো। পোড়া মানুষের গন্ধে বমি উদ্বেগ হলো। অনেক কষ্টে নিজেকে সামলে নিয়েই সামনে তাকাতেই দেখি সর্বশরীর পোড়া একটি মানুষ দাঁড়িয়ে আছে। ভয়ে পিছনের দিকে সরে আসতেই কার সাথে যেনো ধাক্কা লাগলো। তাকিয়েই চিৎকার করে উঠলাম। দেখি গলার উপর থেকে পুরা মুখটা জলসে গেছে। বাকি সবকিছু ঠিক আছে। চিৎকার করে আমি দৌড়ানোর চেষ্টা করছি। কিন্তু চারদিকেই দেখি অর্ধপুড়া মৃত মানুষের ভীর আমাকে ঘিরে দাঁড়িয়ে আছে। বুঝতে পারলাম জীবনের শেষ প্রান্তে এসে দাঁড়িয়ে আছি। নিজেকে আর ধরে রাখতে পারছিলামনা। এমন সময় জীবনদার ডাকে সম্বিত ফিরে ফেলাম।
তাকিয়ে আৎকে উঠলাম। জীবনদার চেহাড়াও দেখি অর্ধপুড়া। কন্ঠ না বুঝলে হয়তো জীবনদাকে চিনতেই পারতামনা। জীবনদা বলতে শুরু করলো - এইখানে যাদেরকে তুমি দেখছো সবাই মারা গেছে। অনেককেই তুমি চিনতে। এ হলো গোপাল...... ও হলো.........।
আমার চোখ কপালে উঠলো।
জীবনদা আবার বলতে শুরু করলো। এখানে যারা এসেছে তাদের কারো সৎকারই ঠিক মতো হয়নি। তাই তাদের আত্নার এ বিদ্রোহ।

গোপাল জীবনদার কথা কেড়ে নিলো। বললো- আমি যেদিন মারা গেলাম সেদিন ছিলো অমাবস্যা। বিকেল থেকেই গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি হচ্ছিলো। সন্ধার ঠিক আগ মুহুর্ত্তে হঠাৎ করে বুকে প্রচন্ড চাপ দিলো। কেউ কিছু বুঝে উঠার আগেই নাক-মুখ দিয়ে রক্ত আসা শুরু হলো। সবাই সন্তস্ত ভাবে দৌড়াতে শুরু করলো। আমি বুঝতে পারলাম প্রাণ বায়ুটা চলে যাবে। সবার দিকে ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে থাকতে থাকতেই একসময় মারা গেলাম। শুরু হলো কান্নাকাটি। কান্নার সাথে সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়তে লাগলো শো শো ঝড় আর বৃষ্টি। এর মাঝে কেউ কেউ আমার সৎকার নিয়ে ব্যস্থ হয়ে গেলো। খড়ি, ঘি, ঠাকুর সবাই রেডি। ঝড়-বৃষ্টিটা একটু কমতেই আমাকে শশানে নিয়ে যাওয়া হলো। আমার মুখে আগুন দেওয়া হলো। দাউ দাউ করে জ্বলে উঠতেই যেনো আর প্রকৃতির সহ্য হলোনা এই দাহন করার ক্ষমতা। আবার শুরু হলো তুমুল ঝড়-বৃষ্টি। ঠাকুরের ইশারায় আমাকে আমার আত্নীয়রা সৎকার শেষ না করেই নদীতে ছুঁড়ে ফেললো। কি দোষ ছিলো আমার? আমার মৃত শরীরের? আমার আত্নীয়রা কি পারতোনা আরেকটু অপেক্ষা করতে?

বৃদ্ধ কে যেনো একজন খুক খুক করে কেশে উঠলো। বলতে লাগলো আমি যেদিন মারা গেলাম সেদিন ছিলো পূর্ণিমা। প্রচন্ড গরম। আমাকে চিতায় শুয়ে যখন মুখে আগুন দিয়ে দিলো অল্পতেই আমার সারা শরীর পুরে গেলো। বৃদ্ধ মানুষ শরীরে মাংসই বা কি আছে? কিন্তু হাড়গুলো যেনো কিছুতেই পুড়ছিলোনা। শেষে আমাকেও না পুড়িয়ে ফেলা দিলো নদীতে।

আরেকজন কি যেনো বলতে চাইলো? জীবনদা থামিয়ে দিয়ে বললো তুমি চলে যাও। আমাদের মিশন শেষ হয়েছে। আর কখনও ফিরে আসবোনা...........................

ভূত নিয়ে ভূতানি (আমার ভূতবেলা) - ১
ভূত নিয়ে ভূতানি (আমার ভূতবেলা) - ২
ভূত নিয়ে ভূতানি (আমার ভূতবেলা) - ৩
ভূত নিয়ে ভূতানি (আমার ভূতবেলা) - ৪
৭টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমাদের হ্যালোইন উদযাপন

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০১ লা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৩


আজ ছিল হ্যালোইন। এই উৎসব ফসল কাটার মৌসুমের শেষ ও শীতের শুরু - এই উপলক্ষে হলেও বছরের এ সময়ে কানাডায় ঠান্ডা পড়ে যায়। তবে আজ আবহাওয়া ছিল ভালো। সারাদিন রোদ... ...বাকিটুকু পড়ুন

সেই মেয়েটিকে খোঁজ....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০১ লা নভেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৩৫



সেই মেয়েটিকে খোঁজ....

ফরাসি ভাষায় বহুল প্রচলিত একটি বাক্য- Cherchez la femme। অর্থাৎ, ‘সেই মেয়েটিকে খোঁজ’।

ফরাসি লেখক আলেকজান্ডার ডুমা (Alexandre Dumas) ১৮৫৪ সালে তাঁর উপন্যাস Les Mohicans de Paris-এ... ...বাকিটুকু পড়ুন

তাহসিফের মৃত্যু: খাতা আর টাওয়ার খুললেই যেসব প্রশ্নের উত্তর মেলে

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০১ লা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:২৩



তাহসিফের মৃত্যু: খাতা আর টাওয়ার খুললেই যেসব প্রশ্নের উত্তর মেলে-

বিমান বাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির মৃত্যু এখন রহস্যের আরেক নাম। ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় জুনিয়র বন্ধু... ...বাকিটুকু পড়ুন

দারিদ্র্য কি মানুষকে মহান করে তোলে?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০২ রা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:৪৬


হুমায়ূন আহমেদ। বাংলাদেশের শেষ জনপ্রিয় লেখক। তিনি ছিলেন একাধারে একজন গুণী লেখক ও নাট্যনির্মাতা। হুমায়ূন আহমেদ সমুদ্রবিলাস নামে একটি নাটক নির্মাণ করেছিলেন। সেখানে একজন শিক্ষক ছিলেন, নাম চ্যালেঞ্জার। তাঁর... ...বাকিটুকু পড়ুন

DNA — ঈশ্বর এবং প্রশ্ন ?

লিখেছেন দানবিক রাক্ষস, ০২ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:১২



১. ক্ষুধা
পৃথিবীর জনসংখ্যা বাড়ছিল, বাড়ছিল মানুষের খাদ্যচাহিদা; কিন্তু সীমিত জমিতে প্রচলিত পদ্ধতিতে সেই চাহিদা পূরণ করা কঠিন হয়ে উঠছিল।
মানুষ নির্বাচিত প্রজনন ও বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণার মাধ্যমে এমন ব্রয়লার মুরগির জাত তৈরি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×