somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কেন করলাম কলমকে সঙ্গী

১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৬ সকাল ৯:২৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


কবি, কাব্য, কাব্যিকতা - এগুলোর সংজ্ঞা কি, আমি জানিনা। ছন্দরীতি, কাব্যনীতি, কবিনীতি - এগুলোর সুত্র কি, আমি বুঝিনা। কবি কে, কাব্য কি, কাব্যিকতা কোন জিনিস, সে বিষয়েও আমি কিছু জানিনা। সাহিত্য সৃষ্টির উপাদান সম্পর্কেও আমি অনভিজ্ঞ। এমনকি, ছোটকাল থেকে শোনা “সাহিত্য’’ শব্দটির “সা’’ সম্পর্কেও আমি অজ্ঞ।

তবে, আমি শুনেছি, মানুষের উপকারী কবিতা, ছড়া, গল্প, উপন্যাস ইত্যাদিকেই বলা হয় সাহিত্য। আমি বুঝেছি, সাহিত্য নির্ভর করে - কবি, উপন্যাসিক, গল্পকার, ছড়াকার তথা লেখকদের লেখনী বা সৃষ্ঠির উপর। আমি জেনেছি, সাহিত্য সৃষ্ঠি হয় - ছন্দরীতি, কাব্যরীতি, গল্পরীতি, উপন্যাসরীতি, ছড়ারীতি, কবিনীতি, উপন্যাসিকনীতি, ছড়াকারনীতি তথা লেখকনীতির আলোকে। সাহিত্য সৃষ্ঠির উক্ত রীতিনীতি সমূহের আলোকেই সৃষ্ঠি হয় তাবৎ কবিতা, গল্প, ছড়া, উপন্যাস, প্রবন্ধ ইত্যাদি। এমনকি সৃষ্ঠি হয় মানবোপকারী এক একটা বিরল দূর্লভ কীর্তি।

আমি কবি নই যে, কাব্যের রূপসাগরে ঝাঁপ দিয়ে শব্দকে মুক্তো বানাবো। আমি উপন্যাসিক - গল্পকার নই যে, উপন্যাস - গল্পের ফুলঝুড়িতে নিজেকে ভরবো। আমি ছড়াকার নই যে, সূর ও ছন্দে ছড়ার মালা গাঁথবো।

তবে, আমি লিখি। লেখা দিয়ে সাধনা করি। জীবনের মনোভাব পরিস্ফুটনে লিখে চলি অবিরত। হোক না তা, ডাস্টবিনের ফেলনা আবর্জনা। তাতে কি আসে যায় ? আমার জীবন তাতে ক্ষণিকের জন্য হলেও তো আনন্দ পায়।

সাহিত্য স্রষ্টাদের সৃষ্টিকর্মের উপর তীক্ষ্ন দৃষ্টি দিয়ে আহরিত জ্ঞানের উপর ভিত্তি করে সেটি দিয়ে কিছু কিছু কলমধারী ব্যক্তিবিশেষ মনের অজান্তে কিছু না কিছু লিখে চলেন।

কবি - সাহিত্যিকগণ যেমন, ভাবনার জগত থেকে সৃষ্টি করেন - কবিতা, গল্প, উপন্যাস ইত্যাদি। তেমনি, কিছু লোক আপন ভাবনায় লিখে চলেন তাঁদের মনের সাজানো কথা। লিখে যান জীবনের আনন্দ - খুশি - উচ্ছলতা - আশা - ভালোবাসার বিবিধ কথন, যেগুলোকে তাঁরা বলতে পারেন না - কবিতা, গল্প, উপনাস, ছড়া ইত্যাদি।

অনেকেই লিখেন ; অপেশাদার লেখক যাঁরা, তাঁরা মনের ভাবনাগুলো লিখে রাখেন কাগজের পীঠে। প্রকাশ করেন না। কারন, তাঁরা নিজেদের লেখাগুলো নিজেরা মূল্যায়ন করতে পারেন না। কিংবা তাঁরা নিজেদর লেখাকে পরিচিতি দিতে পারেন না। তাঁরা ভাবেন - কবিতা হিসাবে পরিচয় দিলে যদি তাঁদের লেখা মানমত না হয়। উপন্যাস হিসাবে পরিচয় দিলে যদি উপন্যাসের মানমত না হয়। গল্প হিাবে দাঁড় করালে যদি গল্পের হিসাব মত না হয়। ছড়া হিসাবে পরিচয় দিলে যদি ছড়ার মানে না হয় - এ ভয়েই তাঁরা তাঁদের লেখাগুলোকে জনসম্মুখে প্রকাশ করেন না। তবে, তাঁরা লিখে যান নিরন্তর। মনের ভাবনাগুলো প্রকাশ করেন কলমের ডগা দিয়ে কাগজের পীঠে।

অপেশাদার লেখকরা নিরন্তর লেখার সাধনা করেন। কিন্তু তাঁরা নিজেদের লেখার পরিচয় তুলে ধরতে পারেনা মানব সমাজে। তাই, তাঁরা পরিচিতি পান না - কবি - সাহিত্যিক রূপে। যাঁরা পরিচয় তুলে ধরতে ভয় পান বা লজ্জা পান, তাঁদের লেখাগুলো পড়ে থাকে তাঁদের ঘরের টেবিলে। নিজেদের লেখা তাঁরা নিজেরাই পড়ে পড়ে আনন্দ পান। অথচ, তাঁদের কিছু কিছু লেখা এমন ও হয়, যেগুলো পেশাদার কবি - সাহিত্যিক - লেখকদের ও হার মানাতো। যদি স্বীকৃতি পেতো সাহিত্যজগতে তাঁদের লেখা, হয়তো পেতেন তাঁরা কবি - সাহিত্যিক - লেখকদের স্বীকৃতি।

এভাবেই অপেশাদার লেখকরা তাঁদের মূল্যবান লেখাগুলো পরিচয় করাতে না পেরে তাঁরা কোনটাসা হয়ে বসে থাকেন ঘরে। মানব সমাজের উপকারী কিছুটা লেখা পর্দার অন্তরালে লুকিয়ে থাকে। মানব সমাজ বিবিধ উপকার প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হয়।

আর কবি - সাহিত্যিক - লেখকগণ তাঁদের মনের ভাবনাগুলো লিখেন নির্ভয়ে। সেগুলোর পরিচিতি প্রদানে এগিয়ে যান। পেশাদার লেখক হিসাবে দাঁড় করান নিজেদের সাহিত্যজগতে।

সাহিত্যজগতে মূল্যায়নের জন্য তাঁদের লেখাগুলো প্রকাশ করেন। স্বীকৃতি মেলে তাঁদের লেখার। মূল্যায়ন হয় তাঁদের ভাবনাগুলোর। স্বীকৃতি পান কবি - সাহিত্যিক - গল্পকার - ছড়াকার - প্রবন্ধকার ইত্যাদি রূপে। মানব সমাজ উপকৃত হয় তাঁদের লেখায়।

এই যে আমি, অপেশাদার লেখক হিসাবেই লিখে যাই মনের ভাবনাগুলো। নিতান্তই মনোৎসাহে লিখে চলি অনবরত। কাগজ অপচয় করি, আঙ্গুলের ডগা ক্ষয় করি, কলমের কালি নষ্ট করি, সময়ের অবমূল্যায়ন করি, ব্রেইনকে করি অহেতুক জ্বালাতন - এভাবেই, লেখনী জগতে করি আমি বিচরণ।

নাহ্, আমি কবি নই, নই কোন গল্পকার, নই উপন্যাসিক, নই কোন ছড়াকার। না আমি প্রবন্ধকার, না আমি লেখক। কোনই পরিচিতি নেই সাহিত্যজগতে আমার। তাতে নেই কোন আক্ষেপ, নেই কষ্ট। না আছে তাতে কিছু প্রাপ্তির আশা, না আসে লেখায় কখনো হতাশা। তবুও লিখি। সেই ছোট বেলা থেকেই আমার লেখার অভ্যাস। সবাই বলতো - আার হাতের লেখা সুন্দর। তাই সোৎসাহে লিখতাম। লিখে চলতাম অবিরত। সেই লেখনীর পথ ধরে চলেছি আজও আমার জীবন চলার পথে।

যান্ত্রিক জীবনের ক্ষণিক সময় লেখালেখির মাধ্যমে প্রবাসের অশান্ত মনকে শান্তনা দানের একটি উপায় -
আমার লেখালেখি
==============


সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৬ সকাল ৯:২৯
৩টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ওরা জিডিপি আর সেমিকন্ডাক্টরে ব্যস্ত , আমরা ব্যস্ত গোরুর জিয়াফত নিয়ে ....।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৩৫


গতকাল মামার ফোন এল দুবাই থেকে, রাতের বেলা। বললেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে গরু জবাই করে জিয়াফত খাওয়ার খবর এখান পর্যন্ত পৌঁছে গেছে, ব্যাপার কী? আমি বললাম, মামা, ওরা গরুর মাংস... ...বাকিটুকু পড়ুন

মীর জাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ঐতিহাসিক চুক্তি! যে চুক্তির জন্য বাংলার স্বাধীনতার সূর্য ২০০ বছরের জন্য অস্তমিত হয়েছিল!

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৪২


আমরা পলাশী যুদ্ধের কথা জানি। কিন্তু এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে যে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি হয়েছিল মীরজাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্ণধার লর্ড ক্লাইভের এর সাথে সেটা সম্পর্কে খুব কমই... ...বাকিটুকু পড়ুন

তাবলিগে গিয়ে যা শিখলাম না

লিখেছেন মুনতাসির, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৮:৫৯

আমি যখন ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ি, তখন আমার কয়েকজন বন্ধু তাবলিগ করত। তাবলিগের প্রতি আমার কখনোই আগ্রহ ছিল না। তবে ওরা নিজেরা রান্না করত, আর আমি রান্না করতে পছন্দ করি। তাই একদিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:১০


যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

“ধর্ম যার যার, উৎসব সবার”- শুনতে চমৎকার, জনপ্রিয়ও বটে। কিন্তু কথাটি কি ধর্মীয় বিশ্বাসের বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি সংগতিপূর্ণ?
আমার কাছে তা নয়। এধরণের বাণী... ...বাকিটুকু পড়ুন

সৌদি আরবে নারীসহ দুই বাংলাদেশির শিরশ্ছেদ: প্রতিমন্ত্রী, নাকি পাপেট?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:৫০


গত বুধবার সৌদি আরবের শরিয়া আদালত একজন নারীসহ দুই বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিকের শিরশ্ছেদ কার্যকর করেছে। এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ যে বিবৃতিটি দিয়েছেন, সেটা পড়ে বোঝা গেল যে, পররাষ্ট্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

×