ভিড় ঢেলে অনেক কষ্টে মার্কেট থেকে বের হয় জাহিদ। অন্য সময় কনুই দিয়ে গুতো মেরে খুব সহজেই সামনে এগিয়ে যাওয়া যেতো। ভিড়ের চাপে ভর্তা হয়ে মেজাজ হয়ে যেতো তিরিক্ষি আর খিস্তিখেওড় করতে করতে হয়তো বাসায় ফিরতো। কিন্তু আজ সাথে তার ছেলে আছে। ছেলে বেশ কিছুদিন ধরে ঘ্যানঘ্যান প্যানপ্যান করছিলো। তার নাকি চেনওয়ালা জ্যাকেট লাগবে, যেগুলোর হাত খোলা যায়। হঠাত জ্যাকেট কেন বাবা? তোর আগের জ্যাকেট খানা কোথায় গেলো? এ জিজ্ঞাসার সাথে সাথেই মিলি ছেলের আগের জ্যাকেটখানা তার সামনে মেলে ধরে। বউয়ের হাতে ধরা জ্যাকেটখানার দিকে তাকিয়ে বেশ লজ্জ্বাই পেয়ে যায় জাহিদ। অঙ্কন এবারে ক্লাস সিক্সে উঠবে। তার গায়ে মনেহয় একটু ছোটই হবে জ্যাকেটখানা। তার উপরে দুটো বোতাম নেই। যেগুলো আছে সেগুলোও কোনমতে ঢিলেঢালাভাবে আটকে আছে। বোতামের ঘরগুলোর অবস্থাও বেশ খানিকটা জরাজীর্ন। সরকারী ব্যাংকের ছাপোষা চাকুরীখানা নিয়ে জাহিদের টানাটানির মধ্যবিত্ত সংসার হলেও, ছেলের মুখের দিকে তাকিয়ে তখনই সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলে, পরের শুক্রবারে হবে মিশন চেনওয়ালা জ্যাকেট। তো আজ মিশন সাকসেসফুল। ছেলের হাতে চেনওয়ালা নতুন জ্যাকেট। চোখেমুখে রাজ্যের আনন্দ। জাহিদের পকেট থেকে পুরো সাতশো টাকা বেরিয়ে গিয়েছে এর জন্যে। একটা জ্যাকেটের দাম এতো হয় কিভাবে ভেবে পায়না জাহিদ। তাও আবার বাচ্চার মাপের। বড়দের হলেও কথা ছিলো। ছেলেকে নিয়ে অনেক ঘোরাঘুরি আর দামাদামির পরে অবশেষে হাতে পাওয়া গেলো চেনওয়ালা জ্যাকেট। হয়তো এ মাসের শেষের দিকে এই খরচের জন্যে একটু টানাটানিও হতে পারে। কিন্তু এতো চিন্তার মাঝেও ছেলের আনন্দিত চেহারার দিকে তাকিয়ে সব ভুলে যায় জাহিদ।
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই নভেম্বর, ২০১৬ রাত ১১:০৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




