প্রথম ধার করে এনে পড়া বই "ময়ূরাক্ষী"।এর অনেক দিন বাদে, মা'র হাতে নেয়া প্রকল্প 'প্রতি মাসে একটি বই', শুরু হল : হাতে খড়ি হিমু দিয়ে, বছর ঘুরে তৈরি হল মিসির আলী আর হিমুর সাম্প্রতিকতম সংগ্রহ। প্রিয় লেখক কে? এক কথায় উত্তর: হুমায়ুন আহমেদ! শুনে জ্ঞানী ব্যাক্তি,ভদ্রলোকেরা ছি: ছি: করতেন আর বিষেশন জুড়ে দিতেন বাজারী লেখক, মুড়ি চানাচুর লেখক, সস্তা সাহিত্যিক,বিজ্ঞানের ছাত্র, লম্পট, মাতাল ইত্যাদি।
একবার মাথায় ভুত চাপল, হিমু হব, কটকটে হলুদ পাঞ্জাবি জোগাড় করা ছিল কঠিন ব্যাপার! শেষমেশ হল হলুদ ফোতুয়া, কিন্তু খালি পায়ে না হাটতে পারায় প্রকল্প বাতিল, হিমু হওয়া আর হল না! এর অনেকদিন পর, তখন কেবল কলেজ পড়ছি, চোখে রঙিন চশমা, বাড়ি থেকে কড়াকড়ি ভাবে হাত খরচ বন্ধ। সিগারেট,চা আর প্রেমিকার খরচ মেটাতে টাকার দরকার, ঝোঁকের মাথায় আমার বিশাল 'হুমায়ুন সংগ্রহ' পুরাতন বইয়ের দোকানে বিক্রি করে দিলাম,টাকা কয়টা হাতে নিয়ে রিক্সায় উঠলাম।ছোট শহর আমার বৃষ্টিতে ভিজতে শুরু করেছে, সন্ধ্যার আবছা আলো, রাস্তার বাতি জ্বলতে শুরু করেছে এক এক করে, ঝুম বৃষ্টি! হঠাত করে মনের ভেতর থেকে বেরিয়ে এল হিমু, রিক্সা থামিয়ে, হাতের টাকা কয়টা রিক্সাওয়ালাকে দিয়ে দিলাম,বৃষ্টিতে ভিজে মনটা হলুদ হয়ে গেল আর স্যান্ডেল জোড়া রাস্তায় ফেলে রেখে, হাটতে শুরু করে দিলাম উদ্দেশহীন ভাবে।
এরপর মেঘে মেঘে অনেক বেলা হল, বিয়ের বাজার করছি পাত্রী পক্ষের সাথে। হ্যা, হু,খুব সুন্দর বলেও পরিস্থিতি সামাল দেয়া যাচ্ছেনা, মাঝে মাঝে মুরুব্বীদের ধমকও খেতে হচ্ছে। এর মাঝে হাতের মুঠোতে খবর পেলাম , হুমায়ুন আহমেদ আর নেই!
মনখারাপ হলনা, কান্না পেল না, শুধু বিশাল একটা শুন্যতাময় হাহাকার ভেতরটা চেপে ধরল। রাতে খাবার টেবিলে বসে একজন কাছের লোক বললেন, হুমায়ুন আহমেদের লেখার গভীরতা কম, তাই বেশি দিন তাকে কেউ মনে রাখবে না, বড় জোড় এক যুগ, উনি কালজয়ী কোন লেখক নন।
গতকাল ১৯শে জুলাই ছিল হুমায়ুন আহমেদ এর মৃত্যু বার্ষিকী, আমার মনে ছিল না, আমি ভুলে গেছি। মনেরাখার দরকার দেখি না, তিনি আমার ভেতরের অনেকাংশে ছড়িয়ে আছেন,মাঝেমাঝে একলা বসে নাড়াচাড়া করি। 'গল্পের জাদুকর' যেখানেই থাকুন, ভাল থাকবেন।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

