
গৌরী প্রসন্ন মজুমদার। কে? জানিনা অথবা নামটা শোনা শোনা লাগছে। অথচ কফি হাউস বললেই মান্না দে, মান্না দের কফি হাউজ। বিখ্যাত কফি হাউজ গানটা গৌরী প্রসন্ন মজুমদারের লেখা। কফি হাউজ আদতে কলকাতায় হলেও, এই কফি হাউজ গানটি শোনার পর জীবনের একটি নির্দিষ্ট ধাপে পা রেখে , সকলের জীবনেই একটা কফি হাউজের স্মৃতি জীবন্ত হয়। হতে পারে সেটা আদৌ কোন কফি হাউজ না, হয়তো সেটা সাধারণ একটা বাংলা চায়ের দোকান। যেখানে কোন টেবিল চেয়ার নেই, হয়তো আছে একটা মরিচাধরা লোহার টুল, একটা পায়া ভাঙা কাঠের বেঞ্চি,যেটাতে পায়ার proxy দিচ্ছে থান ইট। বাকিতে লাল চা,কখনো আদা মেলে তো কখনো মেলেনা, পকেটে পয়সা থাকলে কদাচিৎ শখ করে দুধ চা। ঠিক কফি না হলেও ধূমায়িত স্মৃতিগুলি এখনো কড়া। গানের কথা ছ'টি সুনির্দিষ্ট চরিত্রের ছবি আঁকলেও, সবাই নিজেকে, নিজের বন্ধুদের ওই ছবিগুলির সাথে মিলিয়ে নেয়। রঙ দেয় নিজের ইচ্ছে মত। আহা পুরো ৬ মিনিট ২০ সেকেন্ড স্মৃতিবেদনায় কাটে। কার ঠোঁটে কখন কি জ্বলত, আর কি নিয়েই বা তর্কটা চলতো সেটা বলা মুশকিল। কিন্তু রোদ, ঝড়,বৃষ্টি, শীত সব আড্ডার কথাই মনে আছে সবার। গানে মোট চরিত্র ছ'জন, গীতিকারকে ধরে সাত জন। “অমলটা ধুঁকছে দুরন্ত ক্যান্সারে জীবন করেনি তাকে ক্ষমা হায়।” এই লাইনের শেষের যে “হায়!” শব্দটা গীতিকার লিখেছেন, এই একটি “ হায়!”র মধ্যে লুকিয়ে আছে হাজার হাজার অমলের অসহায়তা,অক্ষমতা এবং নিরব আত্মসমর্পণ। যাঁরা আজ ধুঁকছে , জীবন যাঁদেরকে সত্যিই ক্ষমা করেনি। একজন অমল অসহায়,একজন ডিসুজা কবরে । কিন্তু বাকি পাঁচ জনের জীবন তো থেমে নেই, লড়াই চলছে। এই চলার পথে যখন সাত জনের একজনও দেখতে পায়, সাতটা পেয়ালা আজও খালি নেই, তখন ভারি বুকটার কোথাও যেন একটু ঈর্ষা জমা হয়, মুছে যাওয়া দিনগুলি ফিরে না পেয়ে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।
