somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ল্যাম্পপোস্ট, অবহেলিত ছায়া আর লেঞ্জের সূত্র সংক্রান্ত প্রলাপ

১৭ ই আগস্ট, ২০১১ রাত ১:৩২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

এই পিচ্চি,তোর নাম কী জানি? খালি ভুলে যাই ”- চায়ের দোকানের বাচ্চা ছেলেটাকে প্রশ্ন করলাম আলাপ জমানোর ভঙ্গিতে ।
মোঃ আরিফুল ইসলাম আরিফ ”- অতি দ্রুত চায়ের কাপে চামচ চালানোর মতই সপ্রতিভ উত্তর । “ভাই আফনের নাম কী?” আমায় প্রশ্ন করে সে ।বুঝাই যাচ্ছে,সে ও আজ আলাপ জমানোর মুডে আছে।
সময়টাই এমন। রোজার সময়কার রাত ১১টা। ভার্সিটি এলাকায় চায়ের টং দোকান । এমনিতেই এই সময় লোকজন একটু কম আসে ।আর একটু রাত হলেই দলে দলে আসা শুরু করে নিশাচর-চা খেকো-আড্ডাবাজ জ্ঞানপাপীদের দল।
“সামি”-উত্তর দেই আমি।
আছছা, আমরা সবসময় ছোট নামটা বলি কেন? আমি নিশ্চিত, আপনাকেও নাম জিজ্ঞাসা করলে আপনি আপনার পুরো নামটা বলবেন নাহ । এটা কেন ? ছোট বেলায় মা যখন বলতো –“বাবা, আংকেল কে বলো তোমার নাম কী” – তখন বলতাম- “সামিউর রহমান সামি”। তারপর ধীরে ধীরে সামিউর রহমান সামি থেকে শুধু সামি এবং অতপর হালের স্যাম । এর কারণ কী? যতই বড় হয়েছি, শিক্ষিত হয়েছি ততোই নামের প্রতি,নিজের প্রতি বিতৃষ্ণা জন্মাচ্ছে। নামের মত নিজ সত্তাকেও গুটিয়ে নিচ্ছি ।
এই লন আফনের চা, দুধ-চিনি ডাবল ”। আরিফের কথায় আমার আগা-পাছ-তলা বিহীন ভাবনায় ছেদ পড়লো । হাত বাড়িয়ে নিলাম ধুমায়িত চায়ের কাপ । আরামের চুমুক দিলাম ।অতি পরিচিত সেই স্বাদ।
ভালোই লাগছে, রাস্তায় লোকজন আছে বেশ, আবিরাম ছুটে চলা রিক্সা আর তাতে সওয়ার লোকজন আর তাদের গাদা খানেক ঈদের শপিং । হায়রে আদম সন্তান, সংযমের মাসে একমাত্র সংযম করাতেই তার যত সংযম, আর কোনকিছুতেই তার সংযম নাই ।

কানে হেডফোনে বাজছে অঞ্জন দত্তের গান-
Its been a hard days night and
I have been running like a dog..
Its been a hard days night and
I should be sleeping like a log

আসলেই আমার অবস্থা এমন যাচ্ছে। সেই ইফতার গিলে নাকে মুখে দৌড়। তারপর ভর্তি পরীক্ষার চোরাবালিতে হারিয়ে যেতে বসা কতিপয় দুর্ভাগার সামনে বসে কিছু ভাবের কথা আর উপদেশ দেবার ফাকে ফাকে একটা দুটা অংক করানো । তারপর, আবার দে ছুট আরেকজনের কাছে। তারপর তার সাম্নেও সেই একই- সব জানার ভাব করা । এক বুয়েট ভর্তি পরীক্ষার সৌভাগ্য ভাঙ্গিয়ে আর কতদিন যে খাবো কে জানে? যার জানার সে জানুক ,আমার কী? আমি তো দিব্যি খেয়ে যাচ্ছি,যাব............।

বহুদিন পর সময় পাওয়া গেল, সময় পাওয়া গেল নিজের জন্য , নিজের দুঃখগুলোকে সময় দেবার জন্য । চার মাস পর সময় পেলাম সময় বের করার । সময়ের বড়ই অভাব ।আসলে অভাব সময়ের নাহ, অভাব টা আসলে অভাববোধের। সময়ের যে অভাব,এই অভাবটাই এতদিন বোধ করিনি। আজ করছি ।বহুদিন ডুব দেয়া হয় না আমার দুঃখ-বিলাসের জগতে,যেখানে শুধু আমি আর আমার কুসুম-কুসুম প্রেম জনিত হৃদয় ব্যাথাই এক্মাত্র সত্য। আর সবই মূল্যহীন,সবই ফ্যাকাসে ।


ল্যাম্প পোস্টের আলোয় নিজের ছায়া দেখে হঠাৎ চমকে উঠি। ক্ষণিকের অসাবধানতায় চা ছল্কে পড়ে ।নিজেকে সাম্লে নিয়ে আবার মন দেই আমার ছায়ায় । অনেকদিন ছায়া দেখিনা , নিজের ছায়া । মানুষ দেখতে দেখতে আর ছায়া দেখা হয়ে ওঠে নাহ । সূর্য্যের আলোর চেয়ে চাদের আলোয় ছায়া অনেক বেশী উপভোগ্য ,এক অজানা রহস্যময়তায় নিজেকে মুড়ে রাখে নিজেকে । ল্যাম্পপোস্টের আলোতে ছায়ারা অত রহস্যময় না ,এই ছায়াগুলো ল্যাম্পপোস্টের নিচের মানুষগুলোর মতি জটিল ,দ্বিধাগ্রস্ত আর বহুধা-বিভক্ত।

লেঞ্জের সূত্র মনে পড়ে – “ in a closed circuit, the direction of the current is such that it opposes the flux that created it .”
আচ্ছা,মানুষের ভালোবাসা ও কী লেঞ্জের সূত্র মেনে চলে? ভালোবাসা যত গভীর , প্রত্যাশা ততো বেশী, কষ্ট ও ততো বেশী । এই কষ্ট আবার ভালোবাসার লাগাম টেনে ধরে। ভালোবাসায় ভাটা ধরলে আবার প্রত্যাশাও কমে যায়,কমে যায় কষ্ট । ফলে, আবার দু-কূল ছাপিয়ে জোয়ার আসে ভালোবাসার গাঙ্গে । নেগেটিভ ফীডব্যাকের অতি উৎকৃষ্ট উদাহরণ । ইস, শুধু যদি টার্ম ফাইনাল পরীক্ষার আগে এই জিনিসগুলা এভাবে বুঝতাম।

এইসব কথা ভাবতে ভাবতে আমি উঠে দাড়াই। অতি ব্যস্ত ভাবে পা বাড়াই হলের দিকে। ব্যস্ত রাস্তার দুইদিকের ট্রাক, গাড়ি আর রিক্সার অস্তিত্ব কে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে রাস্তার ঠিক মাঝখান দিয়ে হেটে চলে নিজেকে হারিয়ে ফেলা এক ক্লান্ত যুবক। আর তার পিছনে ল্যাম্প পোস্টের আলোয় হেটে চলে যুবকের অবহেলিত ছায়া ।
বিঃ দ্রঃ অনেকদিন পর লিখলাম। দুঃখবোধ ই বোধহয় আমার লেখার চালিকা শক্তি । তাই, এই দুঃখবোধের জন্য ধন্যবাদ আমার আজীবন দুঃখবোধের চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত-লী কে। তোকে ঘিরে দুঃখ পেতেই যে আমার সব সুখ, তা কী তুই জানিস না?
২৫টি মন্তব্য ১৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

যোগেন্দ্রনাথ মন্ডলঃযাঁর হাত ধরে পাকিস্তানের জন্ম

লিখেছেন কিরকুট, ৩০ শে জানুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৭



দক্ষিণ এশিয়ার ইতিহাসে কিছু মানুষ আছেন, যাঁদের ভূমিকা একদিকে যুগান্তকারী, অন্যদিকে গভীরভাবে বিতর্কিত। যোগেন্দ্রনাথ মন্ডল সেই বিরল ব্যক্তিত্বদের একজন। পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্মপ্রক্রিয়ায় তিনি ছিলেন একেবারে কেন্দ্রীয় চরিত্র। অথচ কয়েক... ...বাকিটুকু পড়ুন

একটি অসভ্য জাতির রাজনীতি!

লিখেছেন শেরজা তপন, ৩০ শে জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ৮:২১


সাল ২০০৮। ব্লগারদের দারুণ সমাগম আর চরম জোশ। ব্লগে ঝড় তুলে দুনিয়া পাল্টে দেওয়ার স্বপ্ন তখন সবার।
বিএনপি আর জামায়াত জোট তখন ভীষণ কোণঠাসা। কেউ একজন মুখ ফসকে ওদের পক্ষে... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিঃস্বঙ্গ এক গাংচিল এর জীবনাবসান

লিখেছেন নীল-দর্পণ, ৩১ শে জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:৪৯

বিয়ের পর পর যখন সৌদি আরব গিয়েছিলাম নতুন বউ হিসেবে দারুন ওয়েলকাম পেয়েছিলাম যা কল্পনার বাইরে। ১০ দিনে মক্কা-মদিনা-তায়েফ-মক্কা জিয়ারাহ, ঘোরাফেরা এবং টুকটাক শপিং শেষে মক্কা থেকে জেদ্দা গাড়ীতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

নির্বাচন, গণভোট ও রাজনীতির বিভ্রম: বাংলাদেশের বাস্তবতা

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ৩১ শে জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ২:০৭


আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং বিদ্যমান রাজনৈতিক দলগুলো প্রাণপণ চেষ্টা করছে ভোটার উদ্দীপনা সৃষ্টি করতে, কিন্তু জনমনে কাঙ্ক্ষিত উচ্ছ্বাস যেন অনুপস্থিত। এই উদাসীনতার কারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝগড়াটে মেটা এআই.....বেটা এআই X#(

লিখেছেন অপ্‌সরা, ৩১ শে জানুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৩


আমি তখন প্রায় সারাদিনই শুয়ে শুয়ে দিন কাটাতে বাধ্য হয়েছি। হঠাৎ করে এমন অপ্রত্যাশিত থমকে যাওয়া মেনে নেওয়া তো দূরের কথা আমাকে যারা একটু আধটুও চেনে তারাও মানতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×