somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মোবাইল,কবিগুরু আর একজন বর্ষীয়ান প্রেমিকের উপাখ্যান

২২ শে মে, ২০১২ রাত ১০:০৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মানুষ মাত্রই ভুল হয় - “Man is mortal :| ”। কিন্তু সেই mortal মানুষ ভুল একবার করলে নাকি সেটা ভুল,দুইবার করলে বোকামী আর বারবার করলে হয় পাপ। সেই হিসাবে আমি পাপী। আমার পাপ-আমি হারিয়ে ফেলি।হারানোর ক্ষেত্রটা আমার রুমের চাবি, মানিব্যাগ, অ্যাডমিট কার্ড,মোবাইল,গামছা,ঘড়ি,কলম,খাতা থেকে শুরু করে- কথা বার্তায় প্রাসঙ্গিকতা এমনকি সুন্দরী ললনা দর্শনে হিতাহিত জ্ঞান- পর্যন্ত বিস্তৃত। কিন্তু,এগুলোর কোনটাই আমাকে ততোটা ভোগায়নি যতটা ভুগিয়েছে মোবাইল হারানো।

হয়ত ভাবছেন আজ পর্যন্ত আমার কত মোবাইল হারিয়েছে তার হিসাব করতে বসলে পাগল হবার দশা হবে। আসলে তা নাহ, উত্তর হইলো- সবগুলো। হ্যা,আজ পর্যন্ত যতগুলো মোবাইল কিনলাম,সব ই কোন না কোন ভাবে হারায় । কবিগুরু বুঝেছিলেন আমার কষ্ট,তাই হয়তো লিখেছিলেন-

ক্ষুদ্র আশা নিয়ে,রয়েছে বাঁচিয়ে সদা এ ভাবনা
যা কিছু পায়,হারায়ে যায়
না মানে সান্তনা।”




মোবাইল হারানোটা এক বড় হ্যাপা,তবে প্রেমিকের জন্য মোবাইল হারানোর প্রতিক্রিয়া অভিজ্ঞতাভেদে ভিন্ন। নব্য প্রেমিকের তো,জানের পানি শুকায় সাহারা হইয়া যায় । দিনে শ’খানে মিসকল,তিন কুড়ি মেসেজ আর ঘন্টা পাচেক কথা বলাটাকে যেখানে অতি সাধারণ মনে হয়,সেখানে মোবাইল ছাড়া জীবনটাকেই অনর্থক মনে হয়। আর, আমার মত বর্ষীয়ান প্রেমিকের কাছে এ যেন হঠাৎ অ্যাডভেঞ্চার ( মুখে আঙ্গুল দিয়া অন্য কাউকে না বলার ইমো হইবে) । কোথায় জানি পড়েছিলাম- “দুর্ভাগার হারায় গরু আর ভাগ্যবানের হারায় বউ ;) ;) ।” এইটাকে একটু এডিট করে বলেই দেয়া যায় হয়ত-“ দুর্ভাগা প্রেমিকের(বর্ষীয়ান) হারায় ল্যাপটপ আর ভাগ্যবানের হারায় মোবাইল :P :P :P ।”

এইসব ভাবতে ভাবতে পিসিটা অন করলাম। আজ সারা রাত মুভি দেখবো,গেম খেল্বো,এমনকি চাইলে ভলিউম কমায় দিয়া আদিরস আস্বাদনেও বাধা নেই ;)-ভাবতেই এক পৈশাচিক আনন্দ খেলে গেলো সারা শরীরে। বিগ ব্যাং থিওরী এর লেটেস্ট এপিসোড টা দিয়াই শুরু করি।

কতক্ষন কাটলো জানিনা,হঠাৎ ভাইব্রেশনে উঠে বস্লাম।বালিশের তলায় হাত দিয়ে অতি পরিচিত ভঙ্গিতে হাত দিয়ে পরিচিত ধাতব স্পর্শটা না পেতেই মনে পড়ে- আজ আমি ভাগ্যবান,মোবাইল নাই। কিন্তু নিজের ভাগ্যটাকে কেন জানি উপভোগ্য মনে হল নাহ। দুর,কুত্তার পেটে ঘি সহ্য হয়না,এই বলে নিজেকে গালি দিয়ে আবার দেখা শুরু করলাম আরেক এপিসোড।কিন্তু একটু পরেই বুঝলাম,আজ কেন জানি জুৎ হইতেছে নাহ। অখন্ড অবসর আছে,আছে খোরাক –সব থেকেও কি জানি নেই। কোথায় জানি তাল কেটে যাচ্ছে।


আজ সারাদিনের কথা মাথায় ঘুরঘুর করতেছে, তেমন কিছুই তো করলাম নাহ,সিগ্নালের বোরিং ক্লাস লেকচারগুলো আজকেও সেইরকম অখাদ্য ছিল,ভ্যাপ্সা গরমে আজও অতীষ্ট ছিলাম,বলদ ছাত্রী আজও আমার ধৈর্যের সীমার চরমতম পরীক্ষা নিছে, এমনকি রাতে ডাইনিং এর মুরগীর পিসটাও ভালো পড়ে নাই-এই সবই তো প্রতিদিন হয়,সে ও জানে,তাও হাজার বার বলা এই কথাগুলো আজ বলতে ইচ্ছা করছে।

আমি শিওর,আজ ওর দিনও আর দশটা দিনের মতই ছিল-সেই প্রেজেন্টেশন, আইবিএ-সিসি,মীটিং, জিএমসি এর পেইন,দুপুরে ক্যান্টিনে জয়নাল ভাই,বাবু ভাইকে খাবার নিয়ে ঘ্যানঘ্যান,বাসায় ফিরে বিড়াল নিয়ে এক গাদা আদিখ্যেতা আর পড়াশোনা বাদ দিয়ে ড্যান-ব্রাউনের বইয়ে ডুবে থাকা- এইতো,এর বাইরে কিছু নাহ, সব ই জানি।তবুও কেন জানি ওর মুখ থেকেই জানা কথা গুলো শুনতে ইচ্ছা করছে।

প্রত্যেকদিন রাতেই বলি-আমার কথা শেষ,আর কোনো কথা নেই ।ও চুপ করে থাকে,কিছু বলে নাহ।তারপর নিজেই কথা আগে বাড়ায়,কথাগুলো মানুষ,জীবন,বাস্তবতা ছাড়িয়ে কখন যে আহ্লাদে চলে যায়,খেয়াল থাকে নাহ। আমি নিস্পৃহভাবে শুনি, যতটা পারি প্রতিক্রিয়া দেখাই তারপর একসময় সকালে ওর ক্লাস আছে এই দোহাই দিয়ে বিদায় করি। পাগলীটা একান্ত বাধ্যগতের মত রেখে দেয়। জানি ওর খারাপ লাগে, বুঝতেও পারি,কিন্তু আমার যে কোন গল্প নেই,নেই আদ্র-আহ্লাদ, আবদার নেই,দিন দিন কেমন জানি হয়ে যাচ্ছি,রোবট-রোবট।

চোখে ভাসে ওর নিষ্পাপ মুখটা,কখন যে দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে আসলো খেয়াল নাই । নাহ নাহ, চোখের কোণ আদ্র হয় ঠিকই, ভিজে ওঠে নাহ,ওটা ছেলেদের উঠতে নেই। এই রুক্ষতাই আমার বর্ম,এই মৌনতাই আমার প্রকাশ ঠিক যেমন গ্রীষ্মের খরতাপ ই তার অশ্রুহীন রোদন।

জানালা দিয়ে বাইরে তাকাতেই দেখি,পাশের রুমের জুনিয়র নব্য প্রেমিক দেখি তাল্গাছের মত ঠায় দাঁড়িয়ে এয়ারটেলের ব্যবসা বাড়াচ্ছে। তার নাকি একটা ব্যাকাপ ফোন ও আছে,পাছে আমার মত মোবাইল হারায় ফ্যালে।বিছানা ছেড়ে উঠতে উঠতে ভাবি, দুরো বাল এখনও বর্ষীয়ান প্রেমিক হতে পারলাম না.........শালার প্রেমের আব্বুকে আম্মু ......


ডিসক্লেইমারঃ
বাস্তবের সাথে মিল খুজিয়া নিজে লজ্জা পাইবেন নাহ আর আমাকেও লজ্জা দিবেন নাহ। আর যাহারা ইয়ার-বন্ধু রহিয়াছো,তাহারা নিজ দায়িত্বে সব চাপিয়া যাইবে নতুবা আমার জান-মাল এর নিরাপত্তা লইয়া টানাটানি পড়িয়া যাইবে।ধন্যবাদ।
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে মে, ২০১২ রাত ১০:০৮
১১টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আল্লাহ তাআলার অনুপম উপমা: কুরআনে প্রকৃতি ও প্রাণের অপূর্ব ছবি

লিখেছেন নতুন নকিব, ২১ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১২:৩০

আল্লাহ তাআলার অনুপম উপমা: কুরআনে প্রকৃতি ও প্রাণের অপূর্ব ছবি

অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

যখন আরব জাতির সাহিত্যিক প্রতিভা তার চরম শিখরে পৌঁছেছিল, যখন কবিতা ছিল তাদের হৃদয়ের স্পন্দন, আবেগের প্রকাশ এবং... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঈদের দিন লেখা একটি বিষন্ন কবিতা

লিখেছেন সামিয়া, ২১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪




বিষন্ন বিকেলে একা বসে থাকি রোজ,
ঈদের হুলস্থুল পাশ দিয়ে চলে যায়।
সুখের কাছে যেতে চাওয়া মন
কোনো রাস্তা খোলা নেই।

মুখে বলিনি প্রতিদিন কত কথা,
কিন্তু চোখে তাকালেতো কেউ বুঝতে,
এই ছোট্ট... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রসঙ্গ - বহুল আলোচিত-সমালোচিত পর্নো-তারকা ইউএনও আলাউদ্দিন

লিখেছেন এমএলজি, ২১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১০:৪১

প্রসঙ্গ - বহুল আলোচিত-সমালোচিত পর্নো-তারকা ইউএনও আলাউদ্দিন ।

ভেবেছিলাম বিষয়টা নিয়ে আর কিছু লিখবো না; কিন্তু, সোশ্যাল মিডিয়ায় কিছু বিতর্কিত কন্টেন্ট দেখে কিছু কথা না বলে স্বস্তি পাচ্ছিনা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পরকালে আল্লাহর বন্ধু, দাস নাকি কয়েদী হবেন?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২২ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ৭:১৪




সূরাঃ ৫১ যারিয়াত, ৫৬ নং আয়াতের অনুবাদ-
৫৬। আমি জিন ও মানুষকে এ জন্য সৃষ্টি করেছি যে, তারা আমারই ইবাদত করবে।

সূরাঃ ২ বাকারা, ২৫৫ নং আয়াতের অনুবাদ-
২৫৫। আল্লাহ,... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঈদের আগের রাতে দুই মোল্লার কথোপকথন ( (কাল্পনিক)

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২২ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১২:২১


এশার নামাজ শেষ হয়েছে বেশিক্ষণ হয়নি। মসজিদের ভেতর রফিকুল্লাহ সাহেব একা বসে আছেন। বয়স বাষট্টি। হাতের তসবিটা নাড়ছেন, কিন্তু গোনা হচ্ছে না আসলে। চোখ গেছে দূরে—বাজারে আলো জ্বলছে, রিকশার ভিড়,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×