somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

জহিরুলহকবাপি
কবিতা,উপন্যাস,দর্শন,সিনেমা ও অন্যান্য

দুনিয়া ডট কম. . . .

১৮ ই জুন, ২০১৪ রাত ১১:৫০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সানজিদা জানালার পাশে বসে আছে । তীব্র রোদে রাস্তা ঘাট পুড়ে যাচ্ছে । তিন তলার উপর থেকে সানজিদা মানুষের মূখের ঘাম স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছে । রোদের তাপ সানজিদার মূখে লাগার কথা কিন্তু লাগছে না । সানজিদার রাগের উত্তাপের কাছে এ রোদের উত্তাপ কিছুই না । তার রাগারই কথা । বিয়ে হয়েছে আজ ১০ বছর । শফিক তাকে কখনও খুব দামী শাড়ী কিনে দিতে পারে নি । ভালো একটা এলাকায় রাখতে পারেনি । এ এলাকটা মধ্যম শ্রেণীর মধ্য বিত্তরা থাকে । খুব একটা পস না । এই সব নিয়ে সানজিদার খুব একটা আক্ষেপ নেই । সে সারা জীবনে শফিকের কাছে মাত্র একটা জিনিষ চেয়েছিল , দিতে পারে নি । এমন অপদার্থের হাতে তার বাপ তাকে তুলে দিল ! সানজিদার রাগে ক্ষোভে মরে যেতে ইচ্ছে করছে । আবার বলে বড় অফিসার । এখন অনেক অফিসের পিয়নও অফিসের গাড়ীতে অফিসে যায় । হম । ভালো চাকরী করে নাকি! বাল করে । মাত্র ২০ লাখ টাকা খরচ করতে পারলো না?! মাত্র ২০ লাখ ! মাত্র ২০ লাখ । অপদার্থ, অর্কমার ঢেকি । সানজিদা নিজের মনে মনে যত বেশী গালা গাল দিচ্ছে তার মেজাজ ততই চড়ছে ।

শফিক কি করবে ঠিক বুঝতে পারছে না । লজ্জায় তার আত্নহত্যা করতে ইচ্ছা করছে । ছি: ছি: , সসানজিদা সারা জীভন তার কাছে বাড়তি কিছু চায় নি , মাত্র একটা জিনিষ চেয়েছে তাও সে দিতে পারলো না । সে ২০ লাখ টাকা যোগাড় করতে পারেনি । করতে পারলে সানজিদা একটু অহংকার করার রসদ পেত । মেয়েদের এমন কিছু থাকেই । তারও অহংকার হতো । সাথে আর্থিক লাভতো হতোই । শফিকের সব রাগ গিয়ে পড়লো প্রত্যয়ের উপর । প্রত্যয় জম্মের সময় বেশী সুস্থ হয়ে জম্মেছে । প্রত্যয় আর রাকিবের ছেলে একই সাথে জম্মেছে । রাকিবের ছেলেটার জম্ম থেকেই বাম কানের দিকে টিউমারের মত ছিল । ছেলেটা কয়েক বছর কষ্ট পেয়েছে, মাথার কাছে বলে সরাসরি অপরেশন করা যাচ্ছিল না, বয়সের দরকার । ঐ টুকু কষ্টেই কেল্লা ফতে । সরকারতো চিকিৎসা করিয়েছেই তার সাথে ২০ লাখ টাকার মধ্যে মাত্র ৬ লাখ টাকা রাকিবের দিতে হবে । প্রত্যয়ও যদি এমন একটা সমস্যা নিয়ে জম্মাতো! না হয় কয়েখ বছর কষ্ট করতোই । সে আর সানজিদা এমন যত্ন নিত যে শারিরীক কষ্ট বুঝতইনা । তেমন হলে বৌয়েল কাছে আজ তার এত লজ্জায় পড়তে হতো না । শুয়রের বাচ্চা । শফিক কাকে গালি দিয়েছে সে নিজেও জানে না । হতে পারে তার ছেলে প্রত্যয়কে, হতে পারে নিজেকে, হতে পারে যে কাউকেই ।

সানজিদা ভাবছে এমন অপদার্থ লোকের ঘর করবে না । মাত্র একটা জিনিষ চাইছিল । আর চাইতে হবে কেন? এইটা এখন এডুকেটেড মাত্রই করে । যাদের টাকা আছে তারাই ১০ বছর বয়সের পর পরই ছেলে মেয়ের জেনেটিক কোড বের করে অষুধ দিয়ে ছেলে মেয়েদের বড় করে ফেলে । ১০ বছর বয়সে প্রথম, ১১ তে দ্বিতীয়, ১৩ তে যেয়ে শেষ ডোজদিলে ১৫ বছর বয়সে সে ২৫ বছর বয়সের মতন শারিরীক, মানসিক গঠন পায় । ১১ বছরে বয়সেই েহায়ার এডুকেশনে ভর্তি করিয়ে দেওয়া যায় । ১৬ তে অর্ণাস শেষ করে চাকরী বাকরী । সানজিদা চেয়েছিল প্রত্যয়কে ট্রিটমেন্টটা দিতে । লোপা তার খালাতো বোন । কাছাকাছি বয়সেরই । লোপার ছেলে আর প্রত্যয় একই বয়সী । লোপার ছেলেকে ট্রিটমেন্ট দেওয়া শুরু করেছে । কিন্তু প্রত্যয়েল টাকা যোগাড় করতে পারেনি অপদার্থটা । লোপার ছেলে তাড়া তাড়ি ডাক্তার/ইন্জিনীয়ার কিছু হবে । তাদের আর্থিক অবস্থা আরও ভালো হবে । কিন্তু তার নিজের. . . . . । প্রত্যয়ের ১০ চলছে । ট্রিটমেন্ট শুরু করলে আর ২৩ দিনের ভিতর করতে হবে , তা না হলে ১৬ বছর বয়সে যেয়ে করতে পারবে আবার । সানজিদা কি করবে বুঝতে পারছে না । তার কান্নাও পাচ্ছে না । চোখ শুকিয়ে গেছে । সে মানসিক ভাবে কত কি ভেবে রেখেছিল । এ ট্রিটমেন্টে েসময় প্রতি ৩ শ জনে একজন মারা যায় । কোন ব্যাপারই না । বাচ্চাদের গ্যাসট্রিক, বুক ধরপড়ানি, মাথা ঘুরা ইত্যাদি সমস্যা দেখা দেয় । সে প্রত্যয়ের যত্ন নেওয়ার জন্য বই কিনে নিজে নিজে সেবার নিম শিখেছে পর্যন্ত । তাড়াতাড়ি বড় হলে তাদের চেয়েও প্রত্যয়ের লাভ বেশী । একটু শারিরীক সমস্যা সারা জীবন বয়ে বেড়াতে হবে তাতে কি? গ্যাসট্রিকতো এমনিতেও হয় । সানজিদা সব শিখে নিয়ে ছিল । ছেলেটা হয়থ ডাক্তার হতো । জীব বিজ্ঞানে ভালো । কিন্তু অপদার্থটা শেষ মুহূর্তে জানিয়েছে টাকা যোগাড় করতে পারে নি । এখন সানজিদার সব কিছুই হবে দেরীতে ।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কোয়ান্টাম হৃদয়ে বিগ ব্যাং : স্পেস-টাইমের প্রেমকাব্য (আধুনিক ও রোমান্টিক)

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২০

কোয়ান্টাম হৃদয়ে বিগ ব্যাং : স্পেস-টাইমের প্রেমকাব্য (আধুনিক ও রোমান্টিক)
.................................................................................................................



কক্ষপথে ঘোরে আমার একলা মনের ইলেকট্রন,
নেগেটিভ চার্জে মেঘ জমেছে, খুঁজছে আজি কার্বন মাখা অন্যমন।
তুমি যখন পজিটিভ এনার্জিতে, এ... ...বাকিটুকু পড়ুন

পোড়ামাটি নীতি (Scorched Earth Policy).....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:৫৮



পোড়ামাটি নীতি (Scorched Earth Policy).....

একটি একটি সামরিক কৌশল। কোনো সামরিক বাহিনী যখন পিছু হটে বা শত্রুর আক্রমণ প্রতিহত করতে চায়, তখন তারা নিজেদেরই ফেলে যাওয়া এলাকার সমস্ত ফসল,... ...বাকিটুকু পড়ুন

জনগণের দীর্ঘমেয়াদি কল্যাণের পরিকল্পনাটা কোথায় ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:১০


ডা. জাহেদ উর রহমান। জুলাই আন্দোলনে শেখ হাসিনা বিরোধী ছিলেন এবং তাঁকে চেনেন না, এমন মানুষের সংখ্যা খুবই কম। মানুষটি অ্যাক্টিভিজম ছেড়ে নতুন সরকারের মুখপাত্র হয়েছেন। এতে আমার মতো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনাদের আমরা পরিষ্কার করে বলি, ভয় ভেঙে রাজপথে নেমে আসুন

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:২৫

[মানুষ এতো দুষ্ট কেন? পুরনো কথা ভিডিও সহ ফেসবুকে এভাবে না ছাড়লে হয় না। ]

“আপনাদের আমরা পরিষ্কার করে বলি, ভয় ভেঙে রাজপথে নেমে আসুন"

২৫ হাজার টাকার মজুরি আন্দোলন আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝাল্লাগে- ভাল্লাগে!

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৭


আমাদের ঝাল খাওয়ার ইতিহাস হাজার বছরের নয়, তবুও কেন আমরা ঝাল পাগল জাতি হলাম এইটা নিঃসন্দেহে গবেষনার বিষয়। পর্তুগীজেরা না আসলে আমরা হয়তো কাঁচা লঙ্কা বা শুকনো লঙ্কা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×