somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গণজাগরণ ও নটী বিনোদিনীর আর্তি “ভালোবেসে ভাগ্য ফিরে না গো”

২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৪ সকাল ১০:২৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমরা কোথায় ঠকিনি?! ডাক্তার- বেশী ফি ,পুলিশ- ঘুষ, বিদ্যুৎ - ঘুষ, ট্যাক্স- ঘুষ, মন্ত্রী- ঘুষ, হাসপাতালের সিস্টার- খারাপ ব্যাবহার, সিএনজি/যানবাহন- বেশী ভাড়া, সিটি কর্পোরেশন - মশা, ময়লা । ঠকতে ঠকতে হারতে হারতে আমারা যে কবে আত্নসম্মান বোধটাইযে হারিয়ে ফেলেছি আমরা জানিনি । আমাদের পরিচয় হারিয়ে ফেলেছি । আমাদের এ অবস্থার জন্য আমরা আনন্দ চিত্তে অন্যকে দোষ দিতে পারি । দোষ দিতে পারি অনেকেরই । কিন্তু আসলেই কি তা?

৫ ই ফেব্রুয়ারী ২০১৩-থেকে আসলে যত না বিক্ষোভ, ক্ষোভ জানাতে মানুষ এসেছিল তারচেয়ে অনেক বেশী মানুষ এসেছিল তাদের ভিতরকার পরিচয় খোচাখুচি করার জন্য । বর্জুয়া, মুক্তবাজার অর্থনিতী, মোনো সেক্স মাছ, ইউক্যালিপটাস গাছের বাতাসে বাতাসে কিছু মানুষিক শিক্ষা বহু বছর ধরেই আমাদের ভিতর বপন করে দিয়েছিল বিদেশী শক্তির দেশী ডিস্ট্রিবিউটরা । প্রায় ফ্যাশেনের পর্যায়ে চলে গিয়েছিল “ আই হ্যাট পলিটিক্স” । যে পেটের ক্ষুধা বোঝে, যে যৌনতা বুঝে, যে ফ্যাশন বুঝে সে কি ভাবে ঐ বাক্যটি উচ্চারণ করে ?! আমাদের বুঝতে দেওয়া হয়নি । বাতাসের সাথে মগজের ভিতর ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছিল এ সব তত্ব । সুবিধাভোগী বিদেশ ও দেশীও রাজনিতীবিদের জন্য ।
৫ ফেব্রুয়ারী থেকে মানুষের ঘুম ভাঙ্গা শুরু হয়েছিল ।
“আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি” বাক্যটি মূখের আগায় থাকলেও বাংলাদেশীরা এর অর্থই জানতো না । ৫ তারিখ জেনেছিল বাঙ্গালীরা, বাংলাদেশীরা ইউক্যালিপ্টাস বৃক্ষ আসলে বৃক্ষ নয় , দৈত্য ।
কাদের মোল্লার “ভি-সাইন”-এর দুই আঙ্গুলের সাথে রাবার বেন্ধে ঘুমিয়ে পড়া, অলস, বাকপটু বাংলাদেশীররা ভি-কে গুলতি বানিয়ে আবার কাদের মোল্লার দিকে ছুড়ে দিয়েছিল । যুদ্ধ চলেছে ।
গণজাগরণ মানুষকে তার আত্ন সম্মান বোধ ফিরিয়ে দিয়েছিল । মানুষ স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিল সুবুদ্ধি শিক্ষার ।
জ্ঞান পরিপক্ক না । আস্তে আস্তে আবার জায়গা নিতে থাকে সেই পুরানো শেয়ালেরা, শকুনেরা ।
কেউ কেউ সিজোফ্রেনিয়ায় আক্রন্ত হয়ে নিজের লোকজন দিয়ে নিজেকে বঙ্গবন্ধু সমকক্ষ্য হিসাবে প্রচার করতে থাকে । জুটে যায় মোসাহেব । এনজিও নেতারা শাহবাগে সরব ।
আন্দোলন শুরু হওয়ার পর তাকে সু-সংহত করার জন, এগিয়ে নেওয়ার জন্য সবার পক্ষ থেকে নির্বাচিত, নির্দিষ্ট সভার বক্তব্য প্রকাশের ( অনেকে বলেন কূট কৈৗশলে) একজন প্রেজেন্টার/মূখপাত্র ঠিক করা হয় । নেটে, টিভিতে, জ্যামে পড়া মানুষের মূখে মূখে ছড়াতে ছড়াতে ৬ ফেব্রুয়ারী ২০১৩ থেকে শাহবাগ লোকেলোকারণ্য । সেই আন্দোলনকে এখন কেউ কেউ দাবী করে থাকে তার ডাকেই সবাই শাহবাগ এসেছে । জিয়াকে স্বাধীণতার ঘোষক আর গণজাগরনের ঘোষক দাবী করার মধ্যে আমি কোন পার্থক্য দেখি না ।
একটা প্রশ্ন আসা স্বাভাবিক সবার প্রিয় আম্মা, আপা ড. সেলিনা মওলা কই ? দেশের ব্যাপারে, স্বাধীনতার পক্ষের উগ্র কন্ঠধারী ড. সেলিনা আজ আর শাহবাগে আসেন না । কেন? তিনিইতো প্রথম শ্লোগান ধরেছিলেন । সরকারী চাকরী হারানোর পাত্তা না দিয়ে এ চিকিৎসক চলে এসেছিলেন শাহবাগে । তিনি কোথায়? কোথায় তারা?
আমাদের কথা ছিল রাজাকারের সর্বচ্চ বিচার । এর ভিতর রাজাকারের বিচারের চেয়ে বেশী উচ্চারিত হতে থাকে সরকার বিরোধী কথাবার্তা । জামাত-বিএনপ ‘র মত সিপিবি আর গণ জাগরণ মঞ্চ (একাংশ, ইমরাণ/আরিফ জেববতিক গ্রুপ) শুরু করে সরকারের পিছে লাগা । সরকারকে টেনে হিচড়ে নামানো হবে ।
তা নামিয়ে কারে বসাবে সেই সম্বদ্ধে তারা কোন বক্তব্য দিক নির্দেশনা দেয়নি । নির্বাচন প্রতিহত করা হবে । কেন?! আমরাতো আপনাদের চিনি যুদ্ধপরাধ বিচারের ইস্যুতে । নির্বাচন প্রতিহত করে কাকে বসাতে চেয়েছিলেন? জামাত-বিএনপি করবে যুদ্ধপরাধীদের বিচার? ইংলিশ ছাগু ডেভিড বার্গম্যানের শ্বশুড়রা করবে যুদ্ধপরাধীদের বিচার?! নাকি এ যুগের জিয়ার মতন স্বাধীনতা ঘোষকরা করবে যুদ্ধপরাধীদের বিচার?
উত্তরই নাই ।
“গণজাগরণ” পরে নিজেদের সুবিধার জন্য কয়েকজন গণজাগরণ শব্দটির সাথে “মঞ্চ” লাগিয়ে নিজের একটি ক্লাব করে নেয় । সেই ক্লাবের মূখপাত্র রাজনৈতিক বক্তৃতা দেওয়া শুরু করলেন ।
কিছু দিন আগে তিনি মির্জা ফখরুলের মতই বক্তব্য দিয়েছিলেন “মানুষের আশা-আকাঙ্খা দাবী আদায়ের জন্য “গণ-জাগরণ মঞ্চ” শুরু হয়েছিল । তার ক্লাব তিনি কেন শুরু করেছেন তিনি তা জনেন । নিস:ন্দেহে গণ-জাগরণ আর গণজাগরণ মঞ্চ িএক নয় । কিন্তু আমাদের জ্ঞানের অভাবকে কাজে লাগিয়ে বঙ্গবন্ধু সমকক্ষ্য দাবীকারী গ্রুপটি দুইটাকেই এক করার চেষ্টা চালালে অনেকেই সে ফাদে পা দেন এবং দিয়ে আছেন ।
আমি সাধারণ একটা প্রশ্ন করি ৭১-এর বিখ্যাত ক্র্যাক প্লাটুণের দুর্ধষ যোদ্ধা যুদ্ধপরাধীদের বিচারের সাক্ষী বিচ্ছু জালাল, শহীদ বুদ্ধিজিবীর সন্তান যুদ্ধপরাধী বিচারের সাক্ষী সাংবাদিক শাহীণ রেজা নূর কেন ঐ মূখপাত্র গ্রুপে যান না?! তাদের সততা নিয়ে তাদের শত্রুরাও প্রশ্ন তোলেনা । কেন মূখপাত্র গ্রুপে যান না কর্ণেল তাহেরের ভাই মুক্তিযোদ্ধা .ড. আনোয়ার হোসেন ? কেন স্বাধীণ বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী যান না মূখপাত্র গ্রুপে ? ইমরানের এবং আরও অনেকের প্রিয় কানিজ আপা কেন যোগ দেননা মূখপাত্র গ্রুপে?
তারা কি শাহবাগে আসেন না?! তারা আসেন,নিয়মিতই আসেন? তারা এসে কখনও কামাল পাশা চৌধূরীর নেতৃত্বাধীন গণ-জাগরণ মঞ্চের আরেকাংশের সাথে, কেউ কেউ যুক্ত হন “শাহবাগ” আন্দোলনের সাথে ।
তাহলে? ঘোষক-১৩ এর সাথে আছে ছাত্রদলের নেতা আরিফ জেবতিক ।
গণজাগরণের প্রথম থেকেই ছাগু,বিনগুরা বিভিন্ন অপ্রচার চালাতে থাকে, ফটো এডিট করে বিভ্রন্ত করার চেষ্টা করতে থাকে । বাহ কালরাতে দেখলাম ইমরান, আরিফ জেবতিকের শিষ্যরাও একই কাজ করছে । তারা বিচ্ছু জালালের ছবি নিয়া মিথ্যা প্রচার শুরু করেছে । বাশ হাতে মুক্তিযোদ্ধা বিচ্ছু জালালের হাতের বাশটি কেন? তিনি কোন দিকে যাচ্ছেন বাশ হাতে? বিস্তারিত পোষ্ট : (Click This Link) । তিনি যাচ্ছিলেন কামাল পাশা চৌধুরীদের অস্থায়ী মঞ্চের দিকে । সেখানে কিছুক্ষণ আগেই তিনি বক্তব্য দিচ্ছিলেন এবং মারামরি শেষ হলে তিনি আবার ঐ মঞ্চেই বক্তব্য প্রদান করেন । তিনি বাশটি কেড়ে নিয়েছিলেন ইমরাণ, আরিফ জেবতিকদের কাছ থেকে । তারা েএ বাশ নিয়ে আক্রমন করতে আসছিল কামাল পাশা চৌধূরীদের অংশকে । এর ভিতর ইমরান, আরিফ জেবতিকদের পক্ষ থেকে বিচ্ছু জালালের দিকে বোতল , কাঠের টুকরা ইত্যাদি ছোড়া হতে থাকে । বাশ কেড়ে নেওয়ার সময় কয়েকজন তেড়ে আসছিল বিচ্ছু জালালকে মারা জন্য্!!!



আমরা যারা কোন দল করি না, কোন রাজনৈতিক দল করিনা তারা তাকিয়ে থাকি প্রজম্ম চত্বরের বিভিন্ন কর্মসূচীর জন্য । আমরা যারা দলাদলি বুঝিনা , বুঝিনি নিজেদের পরিচয়, আড়ালে চাপা আত্ন সম্মান যাদের ভিতরে বাক্স খুলে গিয়েছিল তারা ভেবেছিলাম এই আমি! এইতো আমার বাংলাদেশ ! নগর পুড়িলে কি দেবালয় রক্ষা পায়?! আমাদের ভিতর গণ জাগরণ ( মঞ্চ নয়) । আমরা তাকিয়ে থাকি শাহবাগের দিকে । আমি ব্যাক্তিগত ভাবে কোন রাজণৈতিক দলের সাথে কখনও যুক্ত ছিলাম না । কখনও মিছিল করিনি । গণ জাগরণ শুরু হওয়ার পর “মুষ্টিব্ধ দুই হাত” ।
আমাদের দেশ প্রেমের কখনও কমতি ছিলনা । তার প্রমাণ প্রজম্ম চত্বর/গণজাগরণ/শাহবাগ । কাদের মোল্লার রায় আমাদের ভিতরের ছাই চাপা আগুন বের হয়ে গিয়েছিল তাতে নিজেরা আজও পুড়ছি ।
গণ জাগরণের ঘোষক দাবীদার অথবা অন্যতম সংগঠক দাবীদার কেউই আমাদের ভালোবাসার মূল্য দিতে পারেনি । যেমন গত ৪৪ বছরের কেউই দেয়নি ।
আমরা কি অবশেষে সবাই নটী বিনোদীনির মত বলব “ভালোবেসে ভাগ্য ফিরে না” ? গত ১৭/১৮ মাসে ঢাকার প্রজম্ম চত্বরের কমতো মরেনি, আক্রান্তও হয়নি কম। এভাবেই কি শেষ হবে?
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৪ সকাল ১০:৫৩
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

হাসিনা-বিভ্রাট: এটা ট্রল নয়, কূটনৈতিক সতর্কসংকেত

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:৫৮


হাসিনা-বিভ্রাট: এটা ট্রল নয়, কূটনৈতিক সতর্কসংকেত

জাপানের এক প্রভাবশালী সংসদ সদস্যের একটি পোস্ট নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে হাসাহাসি চলছে। আমার মনে হয়, হাসির আড়ালে আসল প্রশ্নটা চাপা পড়ে যাচ্ছে।

ঘটনাটা কী
প্রধানমন্ত্রী... ...বাকিটুকু পড়ুন

দায়বদ্ধতা: আমরা সবাই ইনসাফের লোক—যতক্ষণ না নিজের স্বার্থ ছাড়ার প্রশ্ন আসে!

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

একজন মানুষ অসুস্থ বোধ করছেন। ভিড়ের মধ্যে দাঁড়িয়ে কাতর কণ্ঠে বলছেন, একটু বসতে দেবেন? শরীরটা ভালো লাগছে না। আশপাশে মানুষ আছে, আসন আছে, চলমান ট্রেন আছে—শুধু তাঁর জন্য একটু জায়গা... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইসরাইলের সাধারণ নির্বাচন।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:২৯


এখন পর্যন্ত প্রকাশিত এক্সিট পোল অনুযায়ী, কোনো পক্ষই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় আসন ৬১টি নিশ্চিত করতে পারেনি।
নেতানিয়াহুর ডানপন্থী জোট, প্রায় ৫১–৫২ আসন।
গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট: প্রায় ৪৯–৫১ আসন... ...বাকিটুকু পড়ুন

এক সেকেন্ডের নেই ভরসা

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৩


সংসারের শত দায়িত্ব কাঁধে। ধাপে ধাপে সব পালন করতে হবে। মোটরসাইকেল নিয়ে ভালো মনে রাস্তায় নামলেন রাইড শেয়ার করবেন বলে। হঠাৎ একটা প্রাইভেট কারের সাথে ধাক্কা লাগল। আপনি রাস্তায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

অসমাপ্ত নীহারিকা - কেয়া ।

লিখেছেন দানবিক রাক্ষস, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৭



বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাকে দেখলে মানুষের প্রথম যে কথাটা মনে হতো, তা হলো—ছেলেটার নিশ্চয়ই কোনো সমস্যা আছে।
কালো জিনস। কালো টি-শার্ট। টি-শার্টে কখনো Behemoth, কখনো Slayer, কখনো Cannibal Corpse। কানে হেডফোন। চোখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×