নৌপরিবহণ মন্ত্রী শজাহান খান তার বক্তব্যের শুরুতে ইসলামের বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেন। এক পর্যায়ে তিনি ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিয়ে কথা বলা শুরু করেন।তিনি বলেন, “ইসলামে ধর্মভিত্তিক রাজনীতির কোনো স্থান নেই। কুরআনে এ সম্পর্কে কোনো আয়াত নেই। হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ধর্ম ভিত্তিক রাজনীতি পছন্দ করতে না। তিনি এই কাজটি কখনো করেননি।” .১০০% সঠিক কথা বলেছেন । ধর্ম ব্যবসায়ী জামাত-শিবির তথা বাতিল ফিরকা যারা ইসলামকে পুজি করে রাজনিতি করে তাদের জন্য একটি শিক্ষা এই কারনে যে মন্ত্রি মাদ্রাসায় না পড়েও সঠিক ধর্মের কথা বলেছেন ।
যারা ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করে তারা সৃষ্টির নিকৃষ্ট জীব ।
হাদীছ শরীফ-এ রয়েছে “ধর্মব্যবসায়ীরা সৃষ্টির মধ্যে নিকৃষ্ট জীব।“ ইসলামের নামে অথবা দোহাই দিয়ে যারা ভোট চায় তরা মিথ্যাবাদী দাজ্জালের চেলা তথা সৃষ্টির নিকৃষ্ট জীব।
সাধারণ রাজনীতিকরা নির্বাচন করে বা ভোট চায় ইসলামের নামে নয়। তারা বলেনা যে, তাদের দলকে ভোট দিলে কেউ জান্নাতে যাবে অথবা না দিলে জাহান্নামে যাবে। কিন্তু যারা ইসলামের নামে ভোট চাচ্ছে তারা ইসলামকে তাদের রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করছে। অর্থাৎ ধর্মব্যবসায়ীরা প্রচার করে যে, তাদের দলকে ভোট দিলে জান্নাতে যাওয়া যাবে এবং ভোট না দিলে জাহান্নামে যেতে হবে। (নাঊযুবিল্লাহ) এসব কথা সম্পূর্ণরূপেই ধর্মব্যবসা।
কুরআন-সুন্নাহর দৃষ্টিতে অর্থাৎ ইসলামের নামে ভোট দেয়া ওয়াজিব তো নয়ই বরং কেউ যদি বলে ইসলামের নামে ভোট দেয়া ওয়াজিব তবে সেটা কুফরী হবে। কারণ শরীয়তের দৃষ্টিতে অর্থাৎ ইসলামে ভোট আমানত, সাক্ষ্য, সুপারিশ এবং উকিল নিয়োগের মাধ্যম নয়।
ভোট ওয়াজিব হওয়ার কারণ হিসেবে এর সমর্থনকারীরা ভোটকে আমানত, সাক্ষ্য, সুপারিশ ও উকিল নিয়োগের মাধ্যম বলে যে দলীল পেশ করে থাকে তা সম্পূর্ণ অশুদ্ধ।
আল্লাহ পাক ইসলামকে কামিল বা পরিপূর্ণ করে নাযিল করেছেন এবং তার মধ্যে আল্লাহ পাক-এর পূর্ণ সন্তুষ্টি রয়েছে বলে “সূরা মায়েদার” ৩ নম্বর আয়াত শরীফ-এ ঘোষণা করেছেন, “আজ আমি তোমাদের দ্বীনকে (দ্বীন ইসলামকে) কামিল বা পরিপূর্ণ করে দিলাম, তোমাদের প্রতি আমার নিয়ামত তা’মাম বা পূর্ণ করে দিলাম এবং আমি তোমাদের দ্বীন ইসলামের প্রতি সন্তুষ্ট হলাম।”
গণতন্ত্র হচ্ছে- মানব রচিত শাসন ব্যবস্থা, যার আইন-কানুন, নিয়ম-নীতি, তর্জ তরীক্বা মানুষের দ্বারা রচিত।
ইসলাম আল্লাহ পাক-এর তরফ থেকে আল্লাহ পাক-এর রসূল হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রতি ওহীর মাধ্যমে নাযিলকৃত দ্বীন। তার সাথে গণতন্ত্রের কোনই সম্পর্ক নেই। কারণ ইসলামের আইন-কানুন, নিয়ম-নীতি ও তর্জ-তরীক্বা, আল্লাহ পাক-এর তরফ থেকে নাযিল করা হয়েছে।
আর গণতন্ত্রের যে আইন-কানুন, নিয়ম-নীতি ও তর্জ-তরীক্বা, তা মানুষের দ্বারা তৈরি করা হয়েছে বা হয়। যার সাথে আল্লাহ পাক-এর কোন সম্পর্ক নেই, ওহীর কোন সম্পর্ক নেই; এক কথায় ইসলামের কোন সম্পর্ক নেই।
কাজেই এরকম একটা বিষয়কে ইসলাম হিসেবে প্রচার করা অথবা ইসলামের দোহাই দিয়ে বা ইসলামের নামে ভোট চাওয়া সম্পূর্ণ নাজায়িয। আর এরকম নাজায়িয বিষয়কে যেসব ইসলামী দল ‘ইসলামী কাজ’ বলে প্রচার করছে ‘হারামকে হালাল’ বলার কারণে তারা ইসলামের দৃষ্টিতে মুরতাদ বলে গণ্য হবে। হাদীছ শরীফ-এ এদের মিথ্যাবাদী দাজ্জাল বলা হয়েছে। আরো বলা হয়েছে, তোমরা তাদের কাছে যেয়ো না এবং তাদেরকেও তোমাদের কাছে আসতে দিয়ো না।
কাজেই কুরআন সুন্নাহর দৃষ্টিতে সব ধর্মব্যবসায়ী থেকে দুরে থাকতে হবে এবং তাদেরকে দূরে রাখতে হবে। মহান আল্লাহ পাক তৌফিক দানের মালিক।
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে ডিসেম্বর, ২০১২ রাত ১:১২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



