তারিখঃ রবিবার, ২৩ জুলাই, ২০১২
অফিস ছুটির পর রাস্তায় প্রচন্ড ট্রাফিক জ্যাম থাকে। আমার অফিস থেকে বাসায় বাসে করে আসতে ২ ঘন্টা লাগে। গত কাল ৩.৩০ এ অফিস থেকে রওনা দিয়ে বাসায় ৫.৩০ এ পৌছেছি। তাই আজ ১০ গুন টাকা খরচ করে রিক্সা চড়ে আসলাম সময় বাচাতে। বাসায় পৌছালাম ৫.২৮ মিনিটে। ২ মিনিট সময় বাচিয়ে বড়ই তৃপ্তি পেলাম এবং সিদ্ধান্ত নিলাম যে পরের বার থেকে বরং হেটেই বাসায় আসব।
রিক্সাতে আসার সময় এক কলিগের সাথে দেখা। তার নাম আতিক। তাকে রিক্সায় লিফট দিলাম। অদ্ভুত ছেলে। ছেলেটা আমার অনেক জুনিয়র কিন্তু সবাইকে দিলেও আমাকে কখনো সালাম দেয় না। কথায় কথায় বলে উঠে, ভাই আপনি পারবেন, আপনারে দিয়াই হবে। আর এই কথা বলার সময় আমার বাহু টিপতে থাকে। আমি বললাম,
আমিঃ “আপনার বাড়ি কি চিটাগাং?
আতিকঃ কেন ভাই?
আমিঃ এই যে আমাকে এভাবে আমাকে টিপা মজা নিতাসেন।
আতিকঃ ওহ হাহাহা, না ভাই কুমিল্লা।
আমিঃ হুম, এখন বুঝলাম, কুমিল্লাতেও এধরনের লোক আছে।
আতিকঃ হাহা, ভাই আপনি পারবেন, আপনারে দিয়াই হবে।
আবার আমার বাহু টিপতে টিপতে বলল, “ভাই কি জিম করেন?”
বাসায় এসে রুমমেটদের দেখলাম। তারা সবাই আমার উপর অনেক রাগ। কারন আমি কাল তাদের সাথে রাতে বাইরে ঘুরতে যাওয়ার প্রস্তাব নাকচ করে দিয়ে ঘুমাতে গিয়েছিলাম। আমাকে জোর করায় রিতিমত তাদের সাথে দুর্ব্যবহারও করলাম। কারন আমি প্রতিদিন সেহেরির ১০ মিনিট আগে ঘুম থেকে উঠে সেহেরি করতে চাই না আর। সেহেরির ১ ঘন্টা আগে সেহেরি করে ফেসবুকে বসে থাকার মজাই আলাদা। অতঃপর ঘুম ভাঙ্গল ফজরের আজানের শব্দে।
উঠে কিছুক্ষন অ্যালার্ম ঘড়িটার দিকে তাকিয়ে রইলাম। ব্যাটা Traitor. দুধ কলা দিয়ে বুঝি সাপ পুষলাম। লাইট জেলে দেখলাম একটা টিকটিকি লাইটের পাসে বসে আছে। শালার এই টিকটিকিও ফজরের আযানের আগে ঘুম থেকে উঠল!
রুমমেটদের আমার না খেয়ে রোযা রাখার গল্প বললে হয়ত তারা অনেক হাসবে, তাই চুপ মেরে রইলাম। যথা সমেয়ে ইফতার করতে বসলাম। ইফতারের সময় আমরা অনেক গল্প করি। আজকের গল্পের বিষয় বহুমুত্র রোগ। এবং আমরা এই উপসংহারে পৌছালাম যে, বহুমুত্র রোগ তখন বলা হয় যখন কারো মুত্র বহুদিক দিয়ে বের হয়।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



