তারিখঃ মঙ্গলবার ২৪ জুলাই, ২০১২
একজন স্ট্যান্ডআপ কমেডিয়ানও মানুষ। তার জীবনেও দুঃখ থাকে। বিগত ২ দিন আমার সাথে এমন সব ঘটনা ঘটছে যা আমি খুব আপন কেউ ছাড়া কাউকে বলতে পারি না। যদি আপনি আমাকে জিজ্ঞেস করেন এবং আমি কথাটা এড়িয়ে যাই তবে বুঝবেন আপনি আমার আপন নন। আমি শুধু তাদেরকেই নিজের আপন ভাবি যারা আমাকে টাকা ধার দিয়ে পরে ভুলে যায়। নিজের সেন্স অফ হিউমার এখন একদম ০। ২ বন্ধুর পিড়াপীড়িতে তাই রিতিমত বুকে পাথর চাপা দিয়ে লিখতে বসলাম আজকের ডাইরী।
অনেক রাতে ঘরে ফিরছি। দেশের ৩ জন বিক্ষ্যাত কমেডিয়ানের সাথে কমেডি নিয়ে গল্প করলাম। সোলাইমান ভাই, ইয়াফি ভাই এবং ইয়ামিন। ঘরে ফিরার পথে একটা মজার ঘটনা ঘটল। ৬ নাম্বার বাসে করে গুলশান ১ থেকে ফার্মগেট আসছি, এবং খেয়াল করলাম যে আমার পাশে একজন বিশাল মাপের বড়লোক বসে আছেন। তিনি দিব্যি ফোনে বলে যাচ্ছেন, “দেখেন ভাই, টাকা নিয়ে আপনি চিন্তা করবেন না, লাগলে ৪-৫ লাখ টাকা বাড়াইয়া দিমু, কিন্তু আমার গুড্ স যেন সলিড হয়।” তিনি ফোন রাখার পর আমি জিজ্ঞেস করলাম,
আমিঃ ভাই আপনার এত টাকা, আপনি কি করেন?
ভদ্রলোকঃ আমি সামাদ গ্রুপের একাউন্ট্যান্ট...... সিনিওর একাউন্ট্যান্ট। (নামটা কাল্পনিক)
ভাবখানা এমন যেন টাকাটা তার নিজের, এবং তিনি বিশাল কোন ব্যবসায়ী যিনি রাত ১০ টায় ৬ নাম্বার বাসে চড়ে ফার্মগেট যান। মজা পেয়ে পিছন থেকে এক ভদ্রলোক বললেন, “ভাই আমারে কিছু টাকা ধার দিয়েন, ৪-৫ লাখ দিয়া একটা গাড়ি কিনুম”। আরেকজন বললেন “ভাই আমার স্থাবর, অস্থাবর কোন সম্পত্তি নাই, কোন আত্মীয় স্বজনও নাই, আমারে কিছু টাকা ধার দিয়েন, বিদেশ যামু, বিদেশ যাইয়া আপনার টাকা ফেরত দিয়া দিমু......সত্যি দিমু, এইযে দেখেন নিজের মাথা ছুইয়া কসম খাইলাম”। দ্বিতীয় ব্যক্তির কথায় সবাই হো হো করে হেসে উঠলাম।
মহাখালীর কাছা কাছি আমাদের বাস সার্জেন্ট ধরল। জানতে পারলাম যে গাড়ির ইঞ্জিনে কিছু সমস্যা আছে যা ঠিক করা হয় নাই এখনো। প্রথম ব্যক্তি আবার বললেন “রাস্তায় গাড়ি নামাইছো ইঞ্জিন ঠিক করাও না কেন?”
ড্রাইভারঃ মালিকে টাকা দেয় না।
প্রথম ব্যক্তিঃ টাকার অভাব আছে ব্যাটা? এইযে আমাদের একাউন্ট্যান্ট সাহেব আছেন না এইখানে?
দ্বিতীয় ব্যক্তিঃ লাগলে ৪-৫ লাখ টাকা বাড়াইয়া দিব, কিন্তু ইঞ্জিন সলিড থাকা লাগব।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



