শুরুতে নিজের পরিচয়টা দিয়ে নি। আমি একজন স্ট্যান্ড-আপ কমেডিয়ান। মঞ্চে দাঁড়িয়ে দর্শকদের মজার গল্প শুনাই। পাশাপাশি অফিসে সবাইকে হাসাই বলে আমার কলিগরা আমাকে অনেক পছন্দ করে। তবে কেন জানি আমার বস আমাকে একদম সহ্য করতে পারেন না। এই যেমন ধরেন কাল আমার সাথে তিনি অযথাই চেচামেচি করেছেন। ঘটনাটা বলার আগে আমার বসের একটু ইন্ট্রো দিয়ে নেই। তিনি লম্বা স্বাস্থ্যবান সুদর্শন একজন লোক। তবে তার নাকের পাসে বিশাল বড় একটা তিল আছে, গ্রামের ভাষায় যাকে বলে মাশ। সেই মাশের উপর আবার ৩-৪ তা লম্বা লম্বা চুলও আছে।
কাল সকালে তিনি আমাকে তার রুমে যেতে বললেন। আমি তার সামনে বসলাম। বস বললঃ “শোন, তুমি যে রিপোর্টটা লিখেছ সেটা নিয়ে আমি এখন মিটিং এ যাব। তোমার কাজ হল সবগুলো পয়েন্টের বিপরিতে যে যে সাপোর্টিংস গুলো আছে সেগুলো আমাকে আধা ঘন্টার মধ্যে গুছিয়ে দিবে। ক্লিয়ার?”
আমি বললামঃ “ভাইয়া আরেকবার বলবেন প্লিজ? আমি খেয়াল করি নাই আপনার কথা, আমি আপনার মাশের দিকে তাকিয়ে ছিলাম, ঐখানে মনযোগ চলে গেছিল।”
একটু অবাক হয়ে তিনি আমার দিয়ে চেয়েছিলেন। কিচ্ছুটি না বলে তিনি আবার বললেনঃ যে রিপোর্টটা লিখেছ সেটা নিয়ে আমি এখন মিটিং এ যাব। সবগুলো পয়েন্টের সাপোর্টিংস গুলো আধা ঘন্টার মধ্যে গুছিয়ে দাও। এবার বুচ্ছো?”
আমি বললামঃ “ভাইয়া আরেকবার বলেন প্লিজ, আবার ঐখানে মনোযোগ চলে গেছিল।”
স্যার বললেনঃ “আর বলতে পারব না। আমার কাজ না হলে তোমার খবর আছে। ”
আমি আধা ঘন্টার মধ্যে সব গুছিয়ে ফেললাম। বস যথারিতি মিটিং এ গেলেন। মিটিং শেষে আমার সাথে আবার বসলেন সন্ধ্যা ৬ টায়। এবার তিনি আমাকে বলবেন রিপোর্টে কি কি চেঞ্জ আনতে হবে। তিনি খুব মনযোগ দিয়ে রিপোর্টটার দিকে তাকিয়ে আছেন, আর মনে মনে পড়ছেন। পড়তে পড়তে এক পর্যায়ে গুন গুন করে গান গাওয়া শুরু করলেন। “...আকাশের হাতে আছে এক হ্রাষ নীল...”
আমিও তার সাথে গাওয়া শুরু করলাম, “...বাতাসেতে আছে ফুলের গন্ধ...”। বস গান বন্ধ করে ক্রুদ্ধ চোখে আমার দিকে তাকালেন। এমন বেয়াদবি মনে হয় তিনি তার জীবনে দেখেন নাই। লোল। তার দৃষ্টি দেখে আমি ভয় পেয়ে গেছি। এই রে, এমনিতেই লোকটার মাশ নিয়ে আমি তাকে পচাই, কিন্তু গান গাওয়াটা একটু বেশিই হয়ে গেছে। এমনিতে ভয় পেলে আমি আমতা আমতা করি কিন্তু সেদিন আমি ভয়ের চোটে হো হো করে হেসে দিয়েছিলাম। আমার হাসি দেখে বস আরো রেগে উঠলেন, তিনি বললেনঃ “হাসছো কেন? তোমাকে আমি হাসতে বলেছি?” লে বাবা! হাসার জন্যও পারমিশন লাগবে? আমি বললামঃ “ বুঝি নাই ভাইয়া, আরেকবার বলবেন প্লিজ? আমার মনযোগ আপনার মাশের দিকে চলে গেছিল।”

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



