পৃথিবীতে ছবি তোলার যদি অসীম সংখ্যক বিষয় থাকে, তার ভিতরে মানুষ হচ্ছে সবচেয়ে ইন্টারেস্টিং বিষয়। কারন খুব সহজ। মানুষ মহাবিশ্বের (অন্তত আমাদের সৌরজগতের) সবচেয়ে আনপ্রেডিকটেবল, জটিলতম ভাবপ্রকাশে সক্ষম এবং অবশ্যই সবচেয়ে সুন্দর সৃষ্টি। মানুষের জীবনের অনেক অনেক ল্যান্ডমার্ক মুহুর্তের ভিতরে সন্তান জন্ম নেওয়ার পরের সময়টার তুলনা হয় না। তুলতুলে একটা নবজাতক শুয়ে আছে মায়ের বুকের কাছে, এখনও স্বর্গের পরশ মেখে শিশু ঘুমে ব্যস্ত। মা পরম বিস্ময় আর এক বুক আনন্দ নিয়ে তাকিয়ে আছে নিজের সন্তানের দিকে। অথবা ক্লান্ত মাও তৃপ্তি নিয়ে ঘুমিয়ে আছেন (যেমন এই ছবিটার বিষয় সেটাই)।
ছবির বিষয় হিসেবে মা এবং নবজাতক ব্যক্তিগতভাবে আমার খুব পছন্দের। ফ্লিকারের সৌজন্যে অসাধারন কিছু এই বিষয়ের ছবি দেখার সুযোগ হয়েছে। পিতাই এক্ষেত্রে ফটোগ্রাফার যেহেতু বাড়ির অন্দর মহলে মা ও নবজাতকের অন্তরঙ্গ মুহুর্তগুলো এত কাছ থেকে দেখার সুযোগ আর কারো নেই। স্বগর্ীয় এই দুই উপাদানকে ছবির বিষয় হিসেবে ব্যবহার করার ক্ষেত্রে কয়েকটা বিষয় পর্যবেক্ষন করার আছে যেটা অন্যান্য বিষয়ের ফটোগ্রাফিতে প্রয়োগ করা যায়।
1. ন্যাচারাল আলোতে ছবি তোলা উচিত। ফ্ল্যাশ ব্যবহার করা ঠিক না, নবজাতকের সংবেদনশীল চোখের জন্যও ফ্লাশ খুব খারাপ। ন্যাচারাল আলোর ছবির চেয়ে সুন্দর কিছু নাই। ডিজিটাল ক্যামেরা হলে ফ্ল্যাশ ডিজাবেল করে নিন।
2. অন্তরঙ্গ মুহুর্তগুলো স্বতস্ফুর্ত হয়। কৃত্রিমভাবে ছবির জন্য পোজ দিয়ে সব সময় ভালো ছবির জন্ম হয় না। মা ও নবজাতকের ভিতরের মুহুর্ত ধরতে হলে ধৈর্য্য নিয়ে অপেক্ষা করতে হতে পারে দীর্ঘ সময়।
3. খুব দুর থেকে ছবি না তুলে কাছাকাছি একটা দূরত্ব সিলেক্ট করা উচিত। শিশুর মুখ বা শরীরের কোন অংশ এবং মায়ের মুখই ছবির মূল ফোকাস হওয়া উচিত। নবজাতকের মুঠো বন্ধ ছোট্ট হাতটা দিয়ে মায়ের শরীর আকড়ে ধরার মতো জায়গাও হতে পারে ছবির অসাধারন ক্যাপচারের বিষয়।
4. যেহেতু এই ধরনের ছবির একটা ঐতিহাসিক গুরুত্ব থাকে তাই সময়ের ব্যাপারটা বুঝাতে অনেক সময়ে সাদা কালো হিসেবে ছবিগুলো অনেক বেশি সুন্দর লাগে। রঙ অনেক সময়ে ছবির বিষয়টাকে ডিসটার্ব করে বলে কিছু কিছু বিষয়ের ছবি সাদা কালোতেই রাখা রেকমেন্ডেড। রঙ্গিন ছবি তুলে পরে সেটাকে সাদাকালোতে ডেভলপ করা বা ডিজিটালের ক্ষেত্রে কনভার্ট করা যেতে পারে।
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই জুলাই, ২০০৬ রাত ১১:৩৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




