somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কাঙাবনের রাজাবনে 2 (দর্শনীয় স্থান (!))

২৪ শে জুলাই, ২০০৬ রাত ১২:০২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আগের পর্ব coyb

বললাম তো, দর্শনীয় স্থানগুলো আমাকে তেমন টানতে পারে না। তবু যেহেতু ক্যানবেরা দেখানোর চেষ্টায় আছি, তাই এবারের আর গতবারের অভিজ্ঞতা কিছু এক করে বলি। তারপরে আমার বাকি ভ্রমন কাহিনী আগানো হবে।

যেমনটা বললাম, ক্যানবেরা গড়নের পিছনে মূল উদ্দেশ্য ছিল পার্লামেন্ট হাউজ গড়ার একটা শান্ত সুন্দর নিরপেক্ষ টাইপের জায়গা নির্ধারণ। পার্লামেন্ট হাউজ না দেখলে তাই নাকি ক্যানবেরা দেখা হয় না। অবশ্য পদে পদে পার্লামেন্ট হাউজ। একটা পুরানো, একটা নতুন। পুরানোটাতে যাই নি। নতুনটাতে আগে গিয়েছি, এবার যাই নি। কারণ পুরো পার্লামেন্ট হাউজের ঝগড়া ঘরগুলো ছাড়া দেখার মত আর দু'টো জিনিস আছে মোটে। তাও বার বার দেখার মত না:

এক, উইশিং পন্ড। পার্লামেন্ট হাউজের চত্ত্বরে ছোট্ট একটা কৃত্রিম পুকুর। ওখানে স্বচ্ছ পানির নিচে সোনালী মুদ্রার স্তুপ। একটু পর পর ঝন ঝন শব্দ হয়। চারপাশের বারান্দায় দাঁড়িয়ে সবাই পয়সা ছুঁড়ে পুকুরে, তাতে নাকি ইচ্ছা পূরন হয়! দেখতে সব চেয়ে মজা লাগে, পশ্চিমের তথাকথিত শিক্ষিত মানুষেরা কি কুসংস্কারে বিড়বিড় করে পয়সা ছুঁড়ে ফেলছে এক টুকরো পানিতে, ইচ্ছা পুরণের প্রবল আকাংখায়। মাঝে মাঝে ভাবি পীর ফকিররা আমাদের দেশে কি করছে, বিজনেছ এখানে কত্ত ভাল হত!এবার কাছ থেকে যাই নি, দুর থেকে জুম করে ছবিটা তুলেছি।

দুই, পার্লামেন্ট হাউজের পিছনে ঘাসের ঢালু চত্তর। দোতালা সমান উঁচু চত্তর দেখলে স্যান্ডেল ছুঁড়ে ফেলে নেমে পড়তে ইচছা করবেই। ভীষণ নরম আর সবুজ ঘাস।

মোটামোটি এক ঘন্টা খরচ করে ন্যাশনাল মিউজিয়াম দেখলাম। আমরা চার জনই ইতিহাস পছন্দ করি, তাই হয়তো এতটা সময় লাগল। অস্ট্রেলিয়ার কেইক নিয়ে খাবলা খাবলির ইতিহাস ছাড়াও মজা লাগল আগের দিনের সাথে এখনের পোশাকের তুলনা করে। আমার পায়ে যেই হীল সহ উঠানো বুট ছিল, ওটারই একটা ভাই দেখলাম কাঁচের ভিতরে। শত বছর আগে যেই ফ্যাশন ছিল তাই এখন আবার ফিরে আসছে! আর ওই টিনেজার ছেলেগুলো যেই পোশাক পড়ে, ইয়া ঢিলা ঢালা, প্যান্ট পড়ে কোমরের এক হাত নিচ থেকে, লজ্জা ঢাকার জন্য লম্বা শার্ট পড়ে, ঠিক ওই রকম একটা পোশাক দেখলাম শত বছর আগে 'লোয়ার ক্লাস' মানুষেরা পড়ত।

পুরো যাদুঘরের সবচেয়ে ফ্যাসিনেটিং লেগেছে অবশ্য বাথরুমের দু'টো জিনিস।

এক, অটো টাইমড এয়ার ফ্রেশনার।
দুই, বাথরুমের দরজা বন্ধ করলেই বন্ধ দরজার উপর সোনালী ফ্রেমে বাঁধানো সরকারী ক্যাম্পেইনের অংশ হিসেবে বিজ্ঞাপন: "ডোন্ট জাস্ট সিট দেয়ার, প্ল্যান য়ুর নেক্সট ট্রিপ টু দ্যা মিউজিয়াম"। সরকারী মানুষের বদনাম আছে, সেন্স অফ হিউমারের অভাব আছে বলে। আমরা এইটা পড়ে খুব হাসছিলাম, বদনাম একটু ঘুঁচলো!

ওহ, আর্কিটেকচারটাও খুব ইন্টারেস্টিং! 'এবস্ট্রাকট আর্ট', ইমুর মতে। এত এবস্ট্রাকট যে মর্তবা বের করা আমার পক্ষে সম্ভব হয় নি। দুই আর তিন নম্বর ছবি জাদুঘরের।

বোটানিক্যাল গার্ডেনে এবার যাই নি, গত বার থেকে মনে আছে ওখানে একটা গাছ আছে যেটার বাকলে পঁচা মোজার গন্ধ। গাছটার নাম ভুলে গেছি।

টেলস্ট্রা টাওয়ারেও আগে গিয়েছি। পুরো ক্যানবেরা দেখা যায় টাওয়ার থেকে।

শেষ ছবিটা কিসের, কোথায়, কেন কিচ্ছু জানি না। হাঁটার সময় পথে পড়ল। আর্কিটেকচারটা পছন্দ হয়েছে, মনে হল 'দর্শনীয়'। চেহারা দেখে আমরা নাম দিয়েছি কাছিম হাউজ।

[ইটালিক]বি:দ্র: এই সিরিজের নামে অরিজিনালিটি নেই, কৃতজ্ঞতা স্বীকার করছি মুখফোড়ের ছড়ার। পুরো সিরিজটাই উৎসর্গ করলাম ধূসর গোধুলিকে।[/ইটালিক]
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
৭টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মেটিকুলাস ডিজাইনের নিজেরা নিজেরা নির্বাচন

লিখেছেন হাসান কালবৈশাখী, ১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৩:৩৬

বাংলাদেশের জামাতের সমর্থন কতটুকু?
এযাবৎ পাকিস্তান আমল থেকে ৭৫ বছরের ইতিহাসেএ দেশে বর্তমানে যতগুলো নির্বাচন হয়েছে কোন নির্বাচনে জামাত ৪ - ৫% এর বেশি ভোট পায়নি।
২০০৮ এর ফটো আইডি ভিত্তিক ভোটে... ...বাকিটুকু পড়ুন

******মায়ের শ্রেষ্ঠ স্মৃতি******

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ভোর ৪:১৫


মায়ের স্মৃতি কোনো পুরোনো আলমারির তাকে
ভাঁজ করে রাখা শাড়ির গন্ধ নয়
কোনো বিবর্ণ ছবির ফ্রেমে আটকে থাকা
নিস্তব্ধ হাসিও নয়
সে থাকে নিঃশব্দ এক অনুভবে।

অসুস্থ রাতের জ্বরজ্বালা কপালে
যখন আগুনের ঢেউ খেলে
একটি শীতল... ...বাকিটুকু পড়ুন

নতুন ভোরের প্রত্যাশা; উৎসবমুখর পরিবেশে শুরু হয়েছে জাতীয় নির্বাচন

লিখেছেন নতুন নকিব, ১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৮:৩৩

নতুন ভোরের প্রত্যাশা; উৎসবমুখর পরিবেশে শুরু হয়েছে জাতীয় নির্বাচন

ছবি সংগৃহিত।

টানা ১৮ বছরের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও পাতানো নির্বাচনের পর আজ অনুষ্ঠিত হচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ফ্যাসিবাদের পতনের পরে এটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাতানো নির্বাচনে বিএনপিকে কিভাবে ক্ষমতায় বসানো হল-(৩) অথচ দীর্ঘ ফ্যাসিস্ট শাসনের পর চাওয়া ছিল একটি সুষ্ঠ নির্বাচন।

লিখেছেন তানভির জুমার, ১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:০৫




এনসিপির সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী (নোয়াখালী ৬ হাতিয়া) জনাব হান্নান মাসুদের স্ত্রী'র উপর বিএনপির সন্ত্রাসীদের হামলা। ভোট কেন্দ্রে ভোট দেওয়ার সময় তার উপর লোহার রড দিয়ে আক্রমণ করা হয়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

জনগণ এবার কোন দলকে ভোট দিতে পারে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১২:৩৬


আজ বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন। সকাল সাতটা থেকেই মানুষ ভোট দিতে লাইনে দাঁড়িয়ে আছে। এবারের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে বিএনপি জোট বনাম এগারো দলীয় জোট (এনসিপি ও জামায়াত)। নির্বাচনের পরপরই... ...বাকিটুকু পড়ুন

×