
মানুষ কেন অন্যের জীবন নিয়ন্ত্রণ করতে চায়? নিজের জীবন যখন নিজের হাতের মুঠোয় থাকে না, তখন কি অন্যের সুতো টেনে সুখ পাওয়া যায়?
আমাদের চারপাশের দিকে একটু তাকান। দেখবেন অনেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় দারুণ সুখী। হাসিমুখের অসংখ্য ছবি। অথচ ভেতরের খবর কেউ জানে না। নিজের চরম পরাধীনতা ঢাকতে এরা স্মার্টফোনের নীল আলোর মায়াজালে একটা মিথ্যে জগৎ বানায়। সেখানে তারা অন্যের আবেগ নিয়ে খেলে নিজেদের ইগো মেটায়। এটা আসলে একটা ভয়ংকর অসুখ।
একটি গল্প বলি। ধরে নিই মেয়েটির নাম রুপা। বাইরের পৃথিবীর মানুষের চোখে তার জীবনটা দারুণ গোছানো। নিটোল পারিবারিক ফ্রেম। কিন্তু এই নিখুঁত ফ্রেমের আড়ালে লুকিয়ে আছে এক চরম অবরুদ্ধ জীবন। তার চারপাশের অদৃশ্য দেয়ালগুলো এতই মজবুত যে, নিজের ইচ্ছেতে এক পা ফেলারও অধিকার তার নেই।
এই দমবন্ধ করা খাঁচা থেকে বাঁচতে রুপা বেছে নেয় এক অদ্ভুত খেলা। নিজের বন্দিদশায় বসে সে অন্যের জীবনকে সুতোর টানে ঘোরাতে চায়। গল্পের বাইরের এক স্বাধীন মানুষকে সে এই খেলার পুতুল বানাতে চেয়েছিল। মানুষটিও একসময় মোহে পড়েছিল। কৃত্রিম নির্ভরতায় আটকে গিয়েছিল।
কিন্তু মোহভঙ্গ হতে বেশি সময় লাগে না। খাঁচার বাইরের মানুষটি একদিন ঠিকই বুঝতে পারে, রুপার এই মনোযোগ আসলে কোনো নিখাদ আবেগ নয়। এটি তার চরম মানসিক শূন্যতা এবং পরাধীনতার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া।
মুক্তির শুরুটা হয় একটা চূড়ান্ত নীরব প্রত্যাখ্যানের মধ্য দিয়ে। মিথ্যে নির্ভরতার সুতো এক মুহূর্তের সিদ্ধান্তে চিরতরে কেটে দেওয়া হয়। "অন্যের অস্থিরতার দায় আমার নয়"—এই একটি মাত্র স্পষ্ট সীমারেখাই যেন হাজারো মিথ্যে শেকল ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়।
এখন রুপা পড়ে আছে তার সেই অদৃশ্য দেয়ালের পেছনে। নিজের অবসেশনে সে দূর থেকে লুকিয়ে দেখার চেষ্টা করে। কিন্তু বাইরের মানুষটি আজ সম্পূর্ণ স্বাধীন। অতীতের সব মোহ মুছে ফেলে সে এখন নিমগ্ন তার নিজস্ব সৃষ্টিতে। নিজের শর্তে বাঁচা জীবনের ক্যানভাসে অন্যের খেলার পুতুল হওয়ার আর কোনো সুযোগ নেই।
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৩:৩৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



